রাত নামলেই কাশ্মীরের আ’র্মি ক্যা’ম্প থেকে ভেসে আসে করুন আ’র্তনাদ

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর 18, 2019 12:40:58 অপরাহ্ন
0

আন্তর্জাতিক: রাত নামলেই অবরুদ্ধ কাশ্মীরের সে’নাবা’হিনীর ক্যা’ম্প থেকে ভেসে আসে নি’র্যাতনের শি’কার মানুষের করুন আ’র্তনাদ। মুসলিম অধ্যুষিত এই অঞ্চলের মানুষের উপর ভ’য়াবহ নি’পীড়ন চালাচ্ছে ভা’রতীয় সে’না। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

দক্ষিণ কাশ্মীরের চার জেলার একটি শোপিয়ানের হিরপোরা গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতে প্রায়ই সময় তারা সেনা ক্যাম্প থেকে মানুষের কান্না শুনতে পান।

হিরপোরা গ্রামে অনেক মানুষই সে’নাবা’হিনীর হাতে নি’র্যাতনের শি’কার হয়েছেন। তাদের মধ্যে আবিদ খান নামে এক বাসিন্দা জানান, ১৪ আগস্ট মধ্যরাতে সেনা সদস্যরা বাড়িতে এসে তার ভাই সহ তাকে চোখ বেঁ’ধে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “আমাকে আর আমার ভাইকে তারা ইলেকট্রিক শ’ক দিয়েছিল। নি’র্যাতন সইতে না পেরে আমার ভাই চি’ৎকার করছিল।”

তিনি বলেন, বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার মধ্যেই আমার ভাইকে উ’লঙ্গ করে হাত পা বেঁ’ধে রড দিয়ে পে’টায় সে’না সদস্যরা।

হি’জবুল মু’জাহিদীনের এক সদস্যকে আবিদ খানের বিয়েতে দাওয়াত দেওয়ার অ’ভিযোগে চৌগাম আ’র্মি ক্যা’ম্পে তাদের ধ’রে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি জানান।

২৬ বছর বয়সী এই যুবক আরও বলেন, “বিয়েতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এরপরেও সে’না সদস্যরা তাদের ওপর নি’র্যাতন চালায়। তারা আমাকে ইলেকট্রিক শ’ক দেয়। যৌ’নাঙ্গে ইলেকট্রিক শ’ক দিতে দিতে তাদের একজন বলছিল, আমি তোকে যৌ’ন অ’ক্ষম করে দেব।”

ছাড়া পাওয়ার পর এই যুবক টানা ১০ দিন বমি করেছিলেন এবং ২০ দিন পর কোনোভাবে উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হন বলে জানান।

গ্রামবাসীদের মত, ওই জেলার সব গ্রাম থেকে কয়েকজনকে ধ’রে নিয়ে এ রকম অমানুষিক নি’র্যাতন চালায় সে’না সদস্যরা।

রাতে ঘরে এসে সে’নাসদস্যরা তাদের আইডি কার্ড এবং মোবাইল নিয়ে যায়, পরে ক্যা’ম্প থেকে সেসব নিয়ে আসতে বলে। ক্যা’ম্পে গেলেই তাদের আ’টকে রেখে নি’র্যাতন করা হয় ভু’ক্তভোগীদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নি’র্যাতিত যুবক জানান, ২৭ আগস্ট পর্যন্ত তিনবার তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, প্রতিবারই তার উপর নি’র্যাতন চালানো হয়।

বিচ্ছিন্নতাবা’দীদের খাবার সরবরাহ করার অভিযোগে তাকে ধরে নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, “অন্ধকার এক ঘরের মধ্যে ঢু’কিয়ে আমার ওপর দুই ঘণ্টা যাবৎ ইলেকট্রিকের শ’ক দেওয়া হয়।”

গুগলুড়া গ্রামের বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী ওবাইদ খান বলেন, “২৬ আগস্ট আইডি কার্ড এবং মোবাইল ফোন নিয়ে আসতে ক্যা’ম্পে যাই আমি। সেখানে আমাকে আটজন সৈ’ন্য র’ড দিয়ে পে’টায়।”

ওই গ্রামের স্থানীয় একজন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, দক্ষিণ কাশ্মীরের জেলাটিতেই এখন পর্যন্ত ১৮০০ জন মানুষকে আ’টক করার একটি তালিকা তিনি দেখেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here