গণধ*র্ষ ণের পর হ*ত্যা, ৫ জনের ফাঁ*সি

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুলাই ১৬, ২০১৯ ০৯:০২:৪৫ অপরাহ্ন
0

আইন ও বিচারঃ খুলনায় চাঞ্চল্যকর ও রোমহ*র্ষক এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধ*র্ষ ণের পর এবং তার বৃদ্ধ বাবা ইলিয়াস চৌধুরীসহ জোড়া হ*ত্যাকা ণ্ডের ঘটনায় পাঁচ আ*সামিকে ফাঁ*সিতে ঝুঁ*লিয়ে মৃ*ত্যুদ-ণ্ডাদেশ দিয়েছেন আ*দালত। লা*শ গু*মের চেষ্টার অভিযোগে আরও ৭ বছর করে কা*রাদ-ণ্ড দেওয়া হয়েছে।

খুলনার নারী ও শিশু নি*র্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৩ এর বিচারক মোহা. মহিদুজ্জামান মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ধ*র্ষ ণের মামলায়ও পাঁচজনের মৃ*ত্যুদ-ণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃ*ত্যুদ-ণ্ডপ্রাপ্ত আ*সামিরা হলেন খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভীর দরগাহ রোডের বাসিন্দা শেখ আব্দুল জলিলের সন্তান সাইফুল ইসলাম পিটিল (৩০) ও তার ভাই মো. শরিফুল ইসলাম (২৭), মো. আবুল কালামের সন্তান মো. লিটন (২৮), অহিদুল ইসলামের সন্তান আবু সাঈদ (২৫) এবং মৃত সেকেন্দারের সন্তান মো. আজিজুর রহমান পলাশ (২৬)।

এদের মধ্যে হ*ত্যাকা-ণ্ডের পর থেকেই আ*সামি শরিফুল ইসলাম প*লাতক রয়েছেন। অন্য চার আ*সামি আ*দালতের কা*ঠগড়ায় উপস্থিত ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ জানান, হ*ত্যাকা-ণ্ডের মামলায় ২২ জন ও গণধ*র্ষ ণের মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আ*দালত। আ*সামিদের মধ্যে ফৌ*জদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিটন ও সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রোমহ*র্ষক এ হ*ত্যাকা-ণ্ডের বর্ণনা রয়েছে।

মামলার তদন্ত চলাকালে হ*ত্যাকা-ণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৫ জনের মধ্যে ৪ জন গ্রে*প্তার হয়। তাদের মধ্যে লিটন ও সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে উঠে আসে রোমহ*র্ষক হ*ত্যাকা-ণ্ডের নি*র্মম ঘটনা। লিটন ও সাঈদ আ*দালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন অফিসে আসা-যাওয়ার পথে আ*সামিরা কু*প্রস্তাব দেওয়াসহ নানাভাবে যৌ*ন হ*য়রানি করতেন। এর প্রতিবাদ করায় ঘটনার দিন রাতে দেওয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ৫ আ*সামি। এরপর অ*স্ত্রের মুখে জি*ম্মি করে প্রথমে পারভীনের বাবাকে শ্বা*সরোধে করে হ*ত্যা করা হয়। পাশের রুমে থাকা পারভীনকে ৫জন মিলে গণধ*র্ষ ণের পর হ*ত্যা করে সেপটিক ট্যাংকির মধ্যে বাবা ও মেয়ের দেহ ফেলে দেয়। পরে ঘরে লু*টতরাজ চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

আইনজীবী ফরিদ আহমদে মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে উত্ত্য*ক্ত করতো এলাকার কয়েকজন ব*খাটে স*ন্ত্রাসী। তাদের উত্ত্য*ক্তের প্রতিবাদের কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধ*র্ষ ণ ও তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে হ*ত্যা করা হয়। নগরীর লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভীর দরগা এলাকার ৩ নম্বর গলির ঢাকাইয়া হাউজ এ.পি ভিলা নামের বাড়িতে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে নৃশংস এ জোড়া হ*ত্যার ঘটনা ঘটে। বাবা ও মেয়েকে হ*ত্যার পর বাড়ির ভেতরে সেফটি ট্যাংকের মধ্যে লা*শ ফেলে দেয় খু*নিরা। পরে তারা ওই ঘরের টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লু*ট করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় লবণচরা থানায় পারভীন সুলতানার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব বাদী হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর হ*ত্যা মামলা দায়ের করেন। পারভীন সুলতানাকে দলবদ্ধভাবে ধ*র্ষ ণের অভিযোগে ২২ সেপ্টেম্বর আরও একটি মামলা দায়ের হয়।

২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৯মে হ*ত্যাকা-ণ্ডের ও একই বছরের ২৪ মার্চ গণ*ধ র্ষণের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মো. কাজী বাবুল ৫ জনকে অভিযুক্ত করে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আ*দালতে চা*র্জশিট দাখিল করেন। রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী নি*হত ইলিয়াস চৌধুরীর ছেলে ও পারভীন সুলতানার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান। একই সঙ্গে পলাতক আ*সামি শরিফুলকে গ্রে*প্তারেরও দাবি জানান তিনি।

মামলায় সহায়তায় করেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পক্ষে অ্যাডভোকেট কাজী সাব্বির আহমেদ, অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট তসলিমা খাতুন, অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here