অফিস করেন লুঙ্গি পরে, ঘুষ নেন, সাংবাদিকও পেটান এই ভূমি কর্মকর্তা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুলাই ১৬, ২০১৯ ০৭:৫০:৩১ অপরাহ্ন
0

সারাদেশঃ অফিসকে তিনি রীতিমত ঘরবাড়ি বানিয়ে নিয়েছেন। শার্ট খুলে উদোম হয়ে, লুঙ্গি পরে অফিস করেন, ঘুষ নেয়াতেও তার অগাধ খ্যাতি। গত মঙ্গলবার আরেকটি যোগ্যতা যুক্ত করেছেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মনিরুজ্জামান নিজের নামের পাশে। তার অ-নিয়ম আর দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের পেটালেন তিনি।

উপজেলা ভূমি অফিসের অ-নিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পি*টুনি খেলেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ২ সাংবাদিক।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মনিরুজ্জামান ও সার্ভেয়ার সজল মাহমুদের নেতৃত্বে এ হাম-লা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ভাঙ-চুর করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকরা হলেন- রাঙ্গাবালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার প্রতিনিধি কামরুল হাসান রুবেল এবং প্রেসক্লাবের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ইংরেজী দৈনিক এশিয়ান এজ পত্রিকার রাঙ্গাবালী উপজলা প্রতিনিধি মু. জাবির হাসান।

খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয় অবরু-দ্ধ ২ সাংবাদিককে উদ্ধার করেন।

আহত সাংবাদিক কামরুল হাসান রুবেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অ-নিয়ম ও দুর্নীতির মহা-যজ্ঞ চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে সেখান যাই। গিয়ে দেখি তহসিলদার মনিরুজ্জামান শার্ট খুলে, গলায় গামছা জড়িয়ে, লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় কাজ করছেন। তার সামনে কয়েকজন দালা-ল বিভিন্ন কাগজপত্রের কাজ করছেন ও টাকা তুলছেন।

এ অবস্থায় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে মনিরুজ্জামান আমাদের হাত থেকে প্রথমে ক্যমেরা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। বিষয়টি যেন তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে অবহিত করতে না পারি, সেজন্য মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় সার্ভেয়ার সজল মাহমুদ। অবরু-দ্ধ করে বিভিন্নভাবে হুম-কি প্রদর্শন করে তারা।

সাংবাদিক জাবির হোসেন জানান, ভূমি অফিসের অ-নিয়মের ছবি তুলতে গেলে তহসিলদার মনিরুজ্জামান ও সার্ভেয়ার সজল মাহমুদ দালা-লদের নিয়ে হাম-লা করে। খবর পেয়ে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে।

এ সময় রাঙ্গাবালী উপযেলায় কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চান তহসিলদার ও সার্ভেয়ার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার সজল মাহমুদ বলেন, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি। খালি গায়ের ছবি তোলায় ক্যামেরা নিয়ে নেয়া হয়েছিল। আবার দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যামেরা ভাঙার অভিযোগ সঠিক নয়, ভিত্তি হীন।

রাঙ্গাবালী থানা অফিসার ইনচার্জ আলী আহম্মদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পটুয়াখালী প্রেসক্লাব ও রাঙ্গাবালী প্রেসক্লাব, কলাপাড়া রিপোর্টস ইউনিটি। সাংবাদিক নেতারা বলেন, অবিলম্বে সাংবাদিকদর ওপর হাম-লাকারী, দুর্নীতি-বাজ তহসিলদার ও সার্ভেয়ারকে প্রত্যা-হার করে তাদের বিরু-দ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

দেশরূপান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here