চ্যালেঞ্জ নিয়ে চমকে দিলেন কৃষকের মেয়ে

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুলাই ১২, ২০১৯ ১২:৩০:০১ পূর্বাহ্ন
0
205
views

সারাদেশঃ বন্যা আক্তার ও রিনি আক্তারের স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরি করার। ছোটবেলা থেকে সেই স্বপ্ন লালন করে আসছেন তারা। গত বছর চেষ্টা করেও পুলিশে চাকরি হয়নি তাদের। এবার সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে তাদের। পুলিশের চাকরি পেয়েছেন তারা। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দক্ষিণ নাগরপুর এলাকার কৃষক পরিবারের সন্তান বন্যা আক্তারের স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরি করার। চাকরি করে অভাবের সংসারের হাল ধরবেন তিনি।

কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছিল বন্যার। গত বছর পুলিশে চাকরির ভাইভা পরীক্ষা দিয়েও চাকরি না পেয়ে ভেঙে পড়েননি বন্যা, বরং চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন পুলিশে চাকরি করবেন বলে।

দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে বন্যা সবার ছোট। বন্যা পড়াশোনা করছেন নাগরপুর মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে। বাবা সোরহাব মিয়া একজন কৃষক। তার একার পক্ষে বড় এ সংসার চালানো দায়। কিন্তু অভাবের সংসারে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়ার তার সামর্থ্য নেই।

এবার তিনি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জেনেছেন চাকরিতে কোনো ঘুষ লাগবে না। ১০৩ টাকায় পুলিশের চাকরি পাওয়া যাবে। পুলিশের আইজিপির পক্ষ থেকে এমন প্রচারণা দেখে আবেদন করেছিলেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। শরীরিক ফিটনেস এবং মেধা দুটিই ছিল তার। তাই আত্মবিশ্বাসও ছিল তার। মাত্র ১০৩ টাকায় চাকরি হয়ে গেল তার।

বন্যা আক্তার বলেন, আমি কখনো কল্পনা করতে পারিনি ১০৩ টাকায় চাকরি পাব। কখনো এমন হয়নি। কিন্তু ঘুষ ছাড়াই চাকরি দিয়ে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। ঘুষ ছাড়া চাকরি পেয়ে খুবই আনন্দিত আমি। আমার বাবা একজন কৃষক। আমার এ চাকরিটি খুব দরকার ছিল। আশা করছি এখন আমি পরিবারের হাল ধরে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারব। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমাদের স্থানীয় এমপি আহসানুল ইসলাম টিটুকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। তারা যদি ঘুষ ছাড়া চাকরির ব্যাপারে আন্তরিক না হতেন তাহলে আমার মতো দরিদ্র মেয়ের পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতো না।

এদিকে, নাগরপুর উপজেলার ভাড়রা গ্রামের রিনি আক্তার নামের এক কলেজছাত্রীর চাকরি হয়েছে। তার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পুলিশ হওয়ার। পুলিশ হয়ে মানুষের সেবা করবে। আর তার এই স্বপ্ন পূরণ হলো। তাকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে পরিবার। তিনি চলতি পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ঘুষ ছাড়াই ১০৩ টাকা খরচ করে চাকরি পান তিনি। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে রিনি মেজো।

রিনি আক্তার বলেন, যখন থেকে আমার বুদ্ধি হয় তখন থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল পুলিশের চাকরি করে জনগণের সেবা করব। প্রথম দিকে আমার আবু-আম্মু আমাকে সায় না দিলেও পরবর্তীতে আমাকে উৎসাহ দেয়। চলতি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ঘুষ ছাড়াই আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়।

রিনি আক্তারের মা বিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ে ঘুষ ছাড়াই চাকরি পেয়েছে এতে আমি খুবই খুশি। আমি দোয়া করি সে যেন মানুষের সেবা করতে পারে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, আমি আশাবাদী ছিলাম স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শতভাগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মাত্র ১০৩ টাকায় ১৩৬ জনকে চাকরি দেয়া হয়েছে। যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। প্রকৃত মেধাবীরাই চাকরিতে সুযোগ পেয়েছে।

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here