কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুলাই ১১, ২০১৯ ০৫:১৮:১৩ অপরাহ্ন
0
50
views

কুবি ক্যাম্পাসঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থার জন্য ছাত্রদের জন্য তিনটি এবং ছাত্রীদের জন্য একটি মাত্র হলের ব্যবস্থা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি এসব হলগুলোতে বহিরাগত মানুষদের বসবাসও রয়েছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না এসব। আবার মাঝেমধ্যে ঘটে ছোটখাট চুরির ঘটনা থেকে শুরু করে হলের শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রোশের প্রেক্ষিতে বহিরাগত বখাটেদের আনাগোনা।

এর মধ্যে শুধু ছাত্রীদের হলে যাতায়াত ব্যবস্থা সংরক্ষিত ছাড়া বাকি ছাত্রদের তিনটি হলে অবাধে যাতায়াত করতে পারে যে কেউ। ফলে এসব হলগুলোতে কখন কে আসছেন কিংবা কতজন আসা যাওয়া করছেন এবং আদৌও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাকি অন্য কেউ তার কোনো ইয়ত্তা নেই কতৃপক্ষের কাছে।

সম্প্রতি এমন একটি ঘটনাই যেন এমন সব অভিযোগের সত্যতা বহন করে। জানা যায়, গেল ১০ জুলাই ভোর পাঁচটার দিকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্তকে ঘুম থেকে তুলে বহিরাগত একটি লোক খারাপ আচরণ করেন এবং ওই লোকের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করলে দীপ্ত তাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেন, পরবর্তীতে আরেকটি লোককে দেখা যায় নিচে অপেক্ষারত, কিন্তু পরে দীপ্তর শোরগোল শুনে লোক দুটি দৌড়ে পালিয়ে যায়।

হামলার শিকার দীপ্ত জানান, ‘কিছুদিন আগে বহিরাগত ফারুক নামের একজন মাইক্রোবাস চালক হলে এসে নেশা করতে চাইলে আমরা তাকে বাধা দিয়ে চলে যেতে বাধ্য করি, যে ঘটনায় পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিল। কিন্ত সেই ফারুক আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, আর ১০ জুলাই আমার ওপর আক্রমণ করতে চেয়েছে, কিন্তু তারা সফল হয়নি।’

হলের নিরাপত্তার কতটুকু নিশ্চিত এমন বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা মো. সাদেক হোসেন মজুমদার বলেন, আমাদের হলের সিকিউরিটিদের বলা আছে তারা যেন রাত ১২টার মধ্যে হলের গেট লাগিয়ে দেয়, কিন্তু আমাদের আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীরা রাতে নিয়মিত বাহিরে আসা যাওয়া করে এবং তাদের সঙ্গে অন্যান্য বহিরাগত মানুষ নিয়ে আসে, তাই সকলের পরিচয় সম্পর্কে জানা যায় না, যার ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তবে আমরা হলের প্রভোস্টদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তার বিষয়টি আরও জোরদার করার চেষ্টা করব।

এছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলগুলোতে যখন তখন বহিরাগত লোকজন এসে ভিক্ষা করতে রুমে রুমে চলে যায়, কিন্তু অনেক সময়েই সুস্থ সবল ওইসব লোকদের দেখলে ফকির মনে করা দুষ্কর হয়। এমন অবাধ বিচরণ ছাত্রদের তিনটি হলেই নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে।।এস/কে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here