১০০ বছর বয়সী মায়ের জায়গা পাবলিক টয়লেট

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুন ২১, ২০১৯ ০৫:০৬:৩৪ অপরাহ্ন
0
149
views

নারী ডেস্ক: নাম নছিমন বেওয়া। বয়স প্রায় একশ। রংপুরের সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা। শরীরটা বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে। লাঠিতে ভর দিয়ে কোনো রকমে হাঁটতে পারেন। ছেলে-মেয়ে থাকার পরও স্বামীহারা এই বৃদ্ধার মাথা গোঁজার জায়গা নেই যে কোথাও!

স্থানীয়দের সাহায্য সহযোগিতায় খাবার জোটে তার মুখে। তিনি কখনও রাস্তার ওপর; কখনও বা ড্রেনের স্লাবের ওপর বসে-শুয়ে থাকেন।

এই বৃদ্ধার নিদারুণ কষ্ট আর মানবেতর যন্ত্রণায় বছরের পর বছর টয়লেটেই দিন কাটছে। টয়লেটই এখন নছিমন বেওয়ার মাথা গোজার একমাত্র ঠিকানা। সেখানে আছে ভাঙা একটি চৌকি, চট আর কিছু পানির বোতল। টয়লেটের দুর্গন্ধের সঙ্গে রাতে অসহ্য গরম আর মশার কামড় এই বৃদ্ধার এখন নিত্যসঙ্গী।

এই বৃদ্ধা নছিমনের স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে সন্তানদের অনাদরে অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন। একসময় বড় ছেলে জয়নাল মিয়ার মায়ের প্রতি মায়া হয়। মার জন্য কলোনির ভেতরে সিটি কর্পোরেশন থেকে তৈরি করা পাবলিক টয়লেটের এক কোনায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এরপর থেকে ওই টয়লেটই বৃদ্ধা নছিমনের ঠিকানা।

সালমা বেগম নামে এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসী সাধ্যমতো বৃদ্ধাকে সাহায্য সহযোগিতা করি। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে এখনও জীবিত। তারা কেউই ঠিকমতো দেখাশুনা করেন না। এটা অমানবিক এবং গুরুতর অন্যায়। সন্তানরা যেহেতু মাকে ঠাঁই দিতে পারছেন না, তাই নছিমনকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখার ব্যবস্থা করতে সমাজের বিত্তবানসহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তা চান তিনি।’

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোছা. হাসনা বানু বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই বৃদ্ধাকে প্রায়ই টাকা ও খাবার দিয়ে সহযোগিতা করি। সন্তানরা থাকার পরও টয়লেটে বসবাস খুবই দুঃখজনক। সিটি কর্পোরেশন থেকে তার জন্য বয়স্কভাতাসহ অন্য সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করব বলে জানান।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here