সিনেমাকেও হার মানায় তামিম-আয়েশার লাভ স্টোরি!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুন ৬, ২০১৯ ১২:১৩:৩১ পূর্বাহ্ন
0

খেলাঃ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অত্যন্ত জনপ্রিয় তারকা ক্রিকেটার ওপেনার তামিম ইববাল খান মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রেমে পড়েছিলেন আয়েশা সিদ্দিকির। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়শা বাংলাদেশের অন্যতম ডাকসাইটে সুন্দরী। তিনি বাংলাদেশের এক জনপ্রিয় তারকা ক্রিকেটারের স্ত্রী।

এক বন্ধুর মাধ্যমেই প্রেমের প্রস্তাব দেন তামিম। আয়েশা যদিও তামিম ইকবাল নামে ওই ক্রিকেটারকে প্রথমে পাত্তা দেননি। বয়সে ছোট ছিলেন, পরিবারের কেউ যদি কিছু বলে, তাই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তামিমকে।

PUB

পরবর্তীতে যদিও আয়েশা তামিমের প্রস্তাবে সম্মতি দেন। চুটিয়ে প্রেম করার সময় খুব কম ছিল না তাদের। কিন্তু বেশিটাই ছিল লং ডিস্ট্যান্স! এদিকে আয়েশা ক্রিকেটের তেমন ভক্ত নন, তিনি পছন্দ করেন ফুটবল। কিন্তু প্রায় আট বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের।

মালয়েশিয়া থেকে পড়াশোনা করেছেন আয়েশা, ১৮ বছর বয়সে বোনের সঙ্গে দেশের বাইরে যান পড়তে। আয়েশা বাইরে যাওয়ার সময় তামিম বাংলাদেশের জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন। তবে তামিম কিন্তু মালয়েশিয়া যেতেন আয়েশার সঙ্গে দেখা করতে।

মালয়েশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করেন আয়েশা। ২০১৩ সালের জুন মাসে চট্টগ্রামে বিশাল অনুষ্ঠান করে বিয়ে করেন তামিম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের নামী তারকারা। আয়েশার সঙ্গে তামিমের বিয়ের পর তো তামিমের প্রচুর ভক্ত অনুরাগী তার বাড়ির সামনেও এসে কান্নাকাটি করেছিল।

তামিম বলেন, আয়েশার মতো স্ত্রী পেয়ে তিনি সত্যিই ভাগ্যবান। কারণ আয়েশা কিন্তু তামিমকে ভালোবেসেই ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেটকে বেশি ভালোবেসে ফেলেছেন। তামিম ও আয়েশার একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। আয়েশা বেশ কিছু সামাজিক কাজকর্মে যুক্ত। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ সক্রিয় আয়েশা। তার প্রায় এক লাখের কাছাকাছি ফলোয়ার রয়েছে। সন্তান ও মায়ের সম্পর্ক, সন্তানের প্রতি মায়ের দায়িত্ব, মাতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও বিজ্ঞাপনেও অংশ নেন আয়েশা।

একটু প্রেমের গল্প

আয়েশা সিদ্দিকা তখন চট্টগ্রাম সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী, এক অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখেছিলেন একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র তামিম ইকবাল। দেখেই কুপোকাত, যাকে বলে ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’।

এক বান্ধবীকে দিয়ে আয়েশার কাছে মনের কথা, ভালোবাসার কথা বলে পাঠালেন তামিম। শুনেই যাকে বলে পত্রপাঠ বিদায়।

আয়েশা বলেছিলেন, ‘লাভ? আই হেইট দ্য ওয়ার্ড—লাভ!’ এ রকম প্রত্যাখ্যানের পর ভালোবাসা যে আরও বাড়ে, এটা গুণীজনেরা বলেন। তামিমেরও তা-ই হলো, লেগে রইলেন। ফোন করে, স্কুলের আঙিনায় নানাভাবে বুঝিয়ে তুলে ধরতে চেষ্টা করলেন হূদয়ের আকুতি। ফলাফল শূন্য।

সব চেষ্টা বিফলে যাওয়ার পর একদিন বললাম, আমরা অন্তত বন্ধু তো হতে পারি? এই প্রস্তাবে কাজ হলো। এ রকম নির্দোষ একটি প্রস্তাবে রাজি হয়েই বেচারি ফেঁসে গেল।

বন্ধুত্বের পর্বে আমাকে জানার সুযোগ হলো তার, দেখল যত খারাপ ভেবেছিল তত খারাপ মানুষ নই আমি…এবার টোপটা গিলে ফেলল…হা হা হা।

তামিমের বিয়ে

বাংলাদেশ ক্রিকেটের জনপ্রিয় তারকা আর মারকুটে ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ২০১৩ সালের ২১ জুন শনিবার তার নিজের শহর চট্টগ্রামে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কনে তামিমের দীর্ঘ দিনের প্রেমিকা আয়েশা সিদ্দিকী।

আয়েশা আগ্রাবাদের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইয়াসিন ও মমতাজ বেগমের কনিষ্ঠ কন্যা।

চট্টগ্রাম ক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ড কমপ্লেক্স। শনিবার। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ৮টার ঘরে। একে একে আসতে থাকলেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। অতিথিদের আগমনে মুখর পুরো টেনিস কমপ্লেক্স। চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা আর বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হল বহুল প্রতীক্ষিত তামিম-আয়েশার বিয়ে। রাত সাড়ে ১০টায় অভিজাত বিএমডব্লিও গাড়িচড়ে বিয়ে মজলিসে আসেন তামিম। সঙ্গে ছিল ব্যান্ড পার্টিও। ঢোলের বাদ্যের তালে তালে চট্টগ্রাম ক্লাব প্রাঙ্গণে বিয়ের উৎসবের পূর্ণতায় পায় ষোলআনায়।

হাজারো তরুণীর স্বপ্নপুরুষ তামিমকে আয়েশা নিজের ভালবাসার জালে জড়িয়েছিলেন সে আট বছর আগেই। সুন্দর আগামীর জন্য মঞ্চে শুভেচ্ছা জানাতে আসা অতিথিদের সময় দিতে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছিল তাকে। এরই এক ফাঁকে সাংবাদিকদের সামনে এসে হাজির হলেন আয়েশার শ্বাশুড়ি ও তামিমের মা নুসরাত ইকবাল।

পুরো চেহারায় উপচে পড়ছে সুখের ঢেউ। তার আঁচ পাওয়া গেল কণ্ঠেও। ছোটপুত্রের শুভ মুহূর্তে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানালেন অনুভূতির কথা।

ফুটবলার ইকবালের স্ত্রী নুসরাত ইকবাল বলেন, মা হিসেবে আমি খুবই খুশি। আমি এ নবদম্পতির জন্য সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী। তারা সুখী হলে আমি সুখী।

বিয়ের পর কাজীর দেউরির বিখ্যাত খান পরিবারের বসতি গড়তে গড়েন এ নবদম্পতি। দু’পরিবারের পক্ষ থেকে তাই চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনদের জানানো হয়েছিল আমন্ত্রণ। অতিথির সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার।

বিয়ের পোশাকের ডিজাইন করিয়ে আনা হয় ভারতের মুম্বাই ও মালয়েশিয়া থেকে। খাবারের মেন্যুতে চিরাচরিত খাবারের পাশে থাকছে কাচ্চি বিরিয়ানি ও চিকেন রোস্টসহ দুই একটি ব্যতিক্রম আইটেম। নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম, চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ ঘোষ, সাবেক ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটির সদস্য মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং তামিমের চট্টগ্রাম সতীর্থ ক্রিকেটাররা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here