থিয়েটারে সাইকোড্রামার গুরুত্ব

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুন ৩, ২০১৯ ০৬:০৯:৫৬ অপরাহ্ন
0

বায়েজিদ হাসান, জাককানইবি প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করে রোমানা রুমা। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়েরর মেধাবী কিছু শিক্ষার্থী নিয়ে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান সেমি একাডেমির শিক্ষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

তিনি থিয়েটারে সাইকোড্রামার গুরুত্বকে অপরিসীম বলে মনে করেন। তার মতে, একটি মঞ্চ একজন অভিনেতার সবচেয়ে শক্তিশালী স্থান। যেখানে দাঁড়িয়ে একজন অভিনেতা নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে। তার সামাজিক, রাজনৈতিক দিক সহ মানসিক, আচরণ, কর্মপ্রক্রিয়ার দিক তুলে ধরতে পারে এবং তিনি নাটকের যে চরিত্রটিকে দর্শকের সম্মুখে তুলে ধরতে চাইবেন সেই চরিত্রের আচার-আচরণ, মানসিক, কর্মপ্রক্রিয়াকে প্রথমে তার বিশ্লেষণ করে নিয়ে থাকেন। বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে এ সকল দিক বিশ্লেষণ করার পদ্ধতি বিশ্লেষণাত্তক মনোবিজ্ঞান। মনোবিজ্ঞান যদিওবা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহার করা হয় তবুও থিয়েটার এর প্রয়োগ অনেক বেশি গুরুত্তবহ ভুমিকা পালন করে।

এখন আলোচনা করা যাক তবে সাইকোড্রামা সম্পর্কে:

সম্মিলিতভাবে আমাদের জীবন অঅন্বেষণের উপায় তথা সংকটের কার্যকারণ খুঁজতে স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্য দিয়ে চরিত্রাভিনয়ের প্রক্রিয়াই হচ্ছে সাইকোড্রামা।(থেরাপিউটিক থিয়েটার)।

বিস্তরভাবে বলা যায়, সাইকোড্রামা একটি প্রতিবিধানমূলক ব্যবস্থা যা আমাদের শরীর, মন ও অন্তরকে প্রসন্ন করে ও আত্তাকে প্রশান্ত করতে সহায়তা করে এবং পারষ্পরিক আন্তঃসম্পর্ক সুদৃর করে। এটি দৈনন্দিন জীবনের অপরাপর চরিত্র যা ব্যক্তির সাথে খোলা মেলা আচরনের সুযোগ ঘটায়।

তাহলে বলা বাহুল্য যে, সাইকোড্রামা হল একটি নাট্যক্রিয়া। এটি একটি সাইকো থেরাপির অংশ। যেখানে কোন ব্যক্তি নাটকীয় ভাবে চরিত্রায়ন এবং নাট্যিকভাবে তাদের অন্তঃস্থল অন্বেষণের মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে।

উদ্ভাবন ও উদ্ভাবক সম্পর্কে: সাইকোড্রামাকে বেশ ভাল ভাবেই উন্নয়ন করেছেন জেকব এল মরেনো। মরেনো মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষক ও সাইকোথেরাপিস্ট ফ্রয়েডের দ্বারা অনেক বেশি প্রভাবিত। তিনি মনে করেন,সাইকোড্রামা হক একটি সৃজনশীল কৌশল যেটির মাধ্যমে ব্যক্তি তার নিজস্ব অথবা দলীয় ভাবে তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা দূর করতে পারে। এটি মূলত সাইকো থেরাপির সাথে যুক্ত।থিয়েটারে এর ভুমিকা নেহায়েত কম নয়।

সাইকোড্রামার মূল উদ্দেশ্য ও কৌশল: সাইকোডামার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের মধ্যকার ব্যক্তিক ও সামষ্টিক স্বতঃস্ফূর্ততাকে জাগ্রত করা এবং সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে সৃজনশীলতা বিস্তৃত করা।

১/প্রতিবিম্বকরন।

২/ দ্বিত্বকরন

৩/ চরিত্রায়ন

৪/ স্বগতোক্তি ইত্যাদি।

থিয়েটারে সাইকোড্রামার প্রয়োজনীয়তা: Phycho Drama বা সাইকোড্রামা থিয়েটারেই অনেক বেশি সম্পর্ক যুক্ত। এটি একটি চরিত্রের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত সম্পর্কে অনেক বেশি গুরুত্ব রাখে। একজন অভিনেতা মঞ্চে অভিনয়ের পূর্বে তাকে সে চরিত্র সম্পর্কে চরিত্রে আবেগ, অনূভুতি, আচরণ সম্পর্কে ধারণা করতে হয় চিন্তা করতে হয়। এই সব কিছু করতে পারে সাইকোড্রামা ব্যবহারের মাধ্যমে। যিনি সাইকোড্রামা পদ্ধতি ব্যবহার করে নাট্য নির্দেশনা দিয়ে থাকেন তাকে সাইকো ডিরেক্টর বলা হয়।

রোমানা রুমা বিশ্বাস করেন যে, স্বতস্ফূর্ততার সৃজনশীলতায় সাইকোড্রামা গুরুত্তপূর্ণ অবদান রাখে। মানুষের অনেক সময় লোক লজ্জার ভয়ে তাদের মনের আবেগ, অনুভূতি ও চিন্তা অপ্রকাশিত থেকে যায়। একজন অভিনেতা শুধু নয় একজন সাধারণ ব্যক্তি এই সাইকোড্রামা প্রয়োগের ফলে তার আবেগ,অনুভূতি চিন্তাকে খুব সহজেই প্রকাশ করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here