১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম ইয়াবা আনেন সাইফুল

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : মে ৩০, ২০১৯ ০৮:৫১:১৩ অপরাহ্ন
0

স্বাধীন নিউজ ডেস্কঃ ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ইয়াবার চালান ঢোকে। সেই চালানটি এনেছিলেন সাইফুল করিম। বিভিন্ন আসামির জবানবন্দি ও নানা তথ্য ঘেঁটে পুলিশ এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে।

PUB

সাইফুল করিম আত্মসমর্পণ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুব সমাজ ধ্বংসের মাদক ইয়াবা ব্যবসার অন্যতম কারিগর সে। ইয়াবার ছোবলে দেশের লাখো তরুণ-তরুণী আজ ধ্বংসের দিকে। আর এর পেছনে অন্যতম কারণ সাইফুল; তার ভূমিকা। গত ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজারে ১০২ মাদক ব্যবসায়ীকে আত্মসমর্পণ করার জন্য যে মাধ্যমটি ভূমিকা রেখেছিল, সে মাধ্যমেই আত্মসমর্পণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সাইফুল। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে পুলিশের একটি সূত্র।

২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ১৫১ মাদক জন ব্যবসায়ীর তালিকায় প্রথম নামটি ছিল এই সাইফুলের। আসন্ন ঈদের পর কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দ্বিতীয় দফায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, টেকনাফের বাসিন্দা সাইফুল করিম ইয়াবা ব্যবসার আড়ালে রাতারাতি ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি কক্সবাজার জেলায় সর্বোচ্চ কর দিয়ে লাভ করেন সিআইপি মর্যাদা।

গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তির সঙ্গেও তার সখ্যতা রয়েছে। গেল বছরের ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামে একসঙ্গে ১৩ লাখ ইয়াবা বড়ির একটি চালান জব্দ হওয়ার পর আলোচনায় আসেন সাইফুল। এরপর তিনি আড়ালে চলে যান।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, সাইফুল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। কক্সবাজারের ১০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আত্মসমর্পণ করাতে স্থানীয় যে মাধ্যমটি ভূমিকা রেখেছিল তারা সাইফুলকে আত্মসমর্পণ করানোর নেপথ্যে কাজ করছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, এমন খবর আমরাও পেয়েছি। ইয়াবা ব্যবসার একজন মূল হোতা আত্মসমর্পণ করতে চান, সঙ্গে আরও কয়েকজন। এটি (আত্মসমর্পণ) চলমান বিষয়। যে কেউ শর্ত সাপেক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারে। তবে আইনের নিজস্ব গতি রয়েছে, আইন সে অনুযায়ীই চলবে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কক্সবাজারের অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন। তবে ইয়াবার মূল হোতাদের কেউ কেউ ধরাছোঁয়ার বাইরে। দেশকে মাদকমুক্ত করতে হলে তাদের অবশ্যই গ্রেফতার করতে হবে। আমরা স্বাগত জানাব, যদি তারা আত্মসমর্পণ করতে চায়।

১৩ লাখ ইয়াবা বড়ি জব্দের পর কক্সবাজার ও মিয়ানমারের মূল চোরাকারবারিদের তালিকা পায় প্রশাসন। সাইফুল করিম তাদেরই একজন। ১৩ লাখ ইয়াবা পাচারে জড়িত মো. আশরাফ আলী ও রশিদ ওরফে মুন্না চট্টগ্রামের আদালতে মিয়ানমারের চোরাকারবারি আবদুর রহিম ও সাইফুল করিমকে দায়ী করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে ওঠে আসে ১৮ কোটি টাকার লেনদেন। চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে কাউন্টার টেররিজমে দায়িত্বরত।

এবিষয়ে শহীদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবার ইয়াবা বড়ির চালান আসে ১৯৯৭ সালে। সাইফুল করিম চালানটি এনেছিলেন। একসঙ্গে ১৩ লাখ ইয়াবা জব্দের পর সাইফুলের ব্যাপারে এসব তথ্য পাওয়া যায়। মিয়ানমারের রহিম ও সাইফুলকে ধরা গেলে দেশে ইয়াবা বড়ি পাচার প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। সাইফুল আমাদের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি।।এস/কে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here