এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স আতংকে নাকাল দেশবাসী, চলুন গড়ে তুলি প্রতিরোধ

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : মে ১০, ২০১৯ ০৯:০২:৫৭ অপরাহ্ন
0

রতন বল, ঢাকা

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কি?

এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে বলা হয় এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স যা আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই ক্ষেত্রে ঔষধ খেয়েও ভালো ফল পাওয়া যায় না, কারন জীবাণুর বিপক্ষে এন্টিবায়োটিক আর কাজ করতে পারেনা।

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কিভাবে হয়?

প্রয়োজনের অতিরিক্ত, অপ্রয়োজনে অথবা অতিরিক্ত এ্যান্টিবায়োটিক সেবনে শরীরের ক্ষতিকর জীবাণু তার নিজের জিনেটিক কোডে এমন পরিবর্তন আনে যে সেই এন্টিবায়োটিক তার তেমন কোন ক্ষতি করতে পারেনা।

এন্টিবায়োটিকের কতিপয় ক্ষতিকর দিক:

১। স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়: এন্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শারীরিক স্থূলতার ঝুঁকি থাকে।

২। পেটের প্রদাহঃ দীর্ঘস্থায়ী এন্টিবায়োটিকের ব্যবহারে অন্ত্রের প্রাচীরে ঘা সৃষ্টি করতে পারে।

৩। লিভারের ক্ষতিসাধনঃ লিভারের ক্ষতিসাধনের জন্য অন্যান্য ঔষধের মধ্যে এন্টিবায়োটিক সবচেয়ে দায়ী।

৪। টাইপ ২ ডায়াবেটিস জন্য দায়ী: এন্টিবায়োটিক অন্ত্রের অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলে যাতে অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়।

৫। এজমার জন্য দায়ী: এন্টিবায়োটিক এজমা থেকে রক্ষাকারী ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করে ফেলায় এজমা হওয়ার সমাভবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিক রোধে আমাদের করনীয়ঃ

১) ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাধারন রোগে ভুগলেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা।

২) ডাক্তারের পরামর্শ মত ডোজ ও সময় অনুসারে এন্টিবায়োটিক সেবন করা।

৩) ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রে দেয়া ঔষধের ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা, কোন ঔষধ কেন দেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে ধারনা নেয়া।

৪) মেয়াদ উত্তীর্ণ এন্টিবায়োটিক সেবন না করা।

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধে করণীয়:

১। এন্টিবায়োটিক সেবনের আগে অবশ্যই ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ফার্মেসির দোকানদার বললেও ওষুধ খাবেন না।
চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে উল্লিখিত ডোজ ও সময় অনুসারে এন্টিবায়োটিক সেবন করুন। সংক্রমণের উন্নতি হলেও এন্টিবায়োটিক সেবন বন্ধ না করে কোর্স সম্পূর্ণ করুন। ডোক মিস যেন না হয় সেদিকে সতর্ক থাকুন।

২। অন্যের ব্যবস্থাপত্র দেখে এন্টিবায়োটিক সেবন কখনই করবেন না । অতীতে অসুস্থতার জন্য দেয়া এন্টিবায়োটিক চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া আবার ব্যবহার করা যাবে না। সাধারণত সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বরে (ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা) এসব রোগে এন্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না।

৩। সব রোগে একই ধরনের এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয় না। রোগভেদে বিভিন্ন রকম এন্টিবায়োটিক রয়েছে। তাই রোগী যদি না বুঝে নিজে নিজে ওষুধ কিনে খায়, তখন রোগ তো সারবেই না, উল্টো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে এবং রোগ দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

৪। রোগীকে এন্টিবায়োটিক দেওয়ার আগে চিকিৎসককে বুঝতে হবে, আসলেই রোগীর শরীরে এর প্রয়োজন আছে কি না। সেখানেও পূর্ণ মাত্রা এবং কত দিন খাবে উল্লেখ করে দিতে হবে। চিকিৎসককে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে রোগীর বয়স, ওজন ইত্যাদির দিকে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও সন্তানসম্ভবা মায়ের ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক দেওয়ার আগে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

৫। চিকিৎসক জেনে নিতে হবে রোগীর অন্য কোনো রোগ আছে কি না। যদি রোগীর এমন কোনো রোগ থাকে যেখানে এন্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না এবং চিকিৎসক যদি বিষয়টি না জানেন, তাহলে ওষুধ সেবনের ফলে রোগীর ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

৬। যেকোনো ওষুধের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। অনেক সময় যদি কোনো ওষুধের ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় তখন রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৭। এন্টিবায়োটিকের জেনারেশন ও শ্রেণী অনুসারে রেজিস্টার্ড চিকিত্‍সকদের বিভিন্ন স্তরকে তা প্রয়োগের একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ।

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি।আসুন আমরা মডেল ফার্মেসি তে গিয়ে ফার্মাসিস্ট এর কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নেই এন্টিবায়োটিক সম্পর্কে।

জন সচেতনতায়:
ফার্মাসিস্ট সারোয়ার হোসেন
আহবায়ক,বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট কমিউনিটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here