পুলিশের ‘পা ধরে’ কান্না করা সেই প্রার্থীই হলেন চেয়ারম্যান

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : নভেম্বর 12, 2021 08:48:47 অপরাহ্ন
0
35
views

পু’লিশের পা ধরে কা’ন্নায় ভেঙে পড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজে’লার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান নৌকার প্রার্থী আবু সাইদ জোয়ারদার পেয়েছেন ৭ হাজার ৭২ ভোট। দ্বিতীয় ধাপে জে’লার ৭টি ইউপি নির্বাচনে তিনিই একমাত্র স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। অন্য ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার প্রার্থীরা।

জানা যায়, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুপুরে হঠাৎ করেই গোপীনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি কক্ষে প্রকাশ্যে নৌকার সিল মা’রাকে কেন্দ্র করে গন্ডগোল হয়। প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে লা’ঞ্ছিত হন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিুবর রহমান। তিনি ছিলেন বিএনপি’র সম’র্থক। তার মা’র্কা আনারস। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যা’­ব ও পু’লিশ ঘটনাস্থলে হাজির হলে পু’লিশের পা ধরে কা’ন্নায় ভেঙে পড়েন হাবিবুর রহমান।

তিনি অ’ভিযোগ করেন, নৌকার প্রার্থীর ছে’লে সজীব ও সাবেক ইউপি সদস্যের ছে’লে রয়েল গোপীনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে জো’র করে নৌকায় সিল মা’রতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে প্রতিবাদ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টসহ তার কর্মী-সম’র্থকরা। সেখানে হাজির হয়ে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে লা’ঞ্ছিত হন তিনি। এ অবস্থায় পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হলে সজীব ও রয়েল সট’কে পড়েন।

খবর পেয়ে র‌্যা’­ব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তৌকির র‌্যা’­ব সদস্যদের নিয়ে ছুটে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে হাজির হন জে’লার অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার তরিকুল ইস’লাম। এসময় তরিকুল ইস’লামের পায়ে হাত দেওয়ার ভঙ্গিমায় বসে ভোট কারচুপির অ’ভিযোগ করে কা’ন্নায় ভেঙে পড়েন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান। এএসপি তরিকুল ইস’লাম এসময় নিরপেক্ষ ভোটের নিশ্চয়তা দিয়ে তাকে শান্ত থাকার পরাম’র্শ দেন। এ ঘটনার পর থেকে ওই কেন্দ্রে অবস্থান নেয় র‌্যা’­ব ও পু’লিশ। পরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হলে বেসরকারি ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমানকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

হট্টগোলের ওই ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান জানান, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছিল। কিন্তু দুপুর ১টার দিকে বর্তমান চেয়ারম্যান নৌকার প্রার্থী আবু সাইদ জোয়ারদারের ছে’লে সজীব ও তার সহযোগী রয়েল নামের দুই যুবক কেন্দ্রের ৭ নম্বর কক্ষ দখল করে প্রকাশ্যে নৌকার সিল মা’রতে থাকলে তার লোকজন এতে বাধা দেয়। এতে চরম হট্টগোল শুরু হয়।

তারা আমাকেও গলা ধাক্কা দিয়ে লা’ঞ্ছিত করে। পরে পু’লিশ এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আমি পু’লিশের কাছে কা’ন্নাকাটি করেছি। প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকায় আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমি নির্বাচিত হয়েছি। অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার তরিকুল ইস’লাম জানান, হট্টগোলের পর থেকে ঘটনাস্থলে তিনি নিজেই অ’তিরিক্ত পু’লিশসহ অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।