পড়ালেখা নিয়ে স্ত্রী-শ্যালিকা-শাশুড়িকে কোপালেন প্রবাসফেরত সাইফুল

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : নভেম্বর 12, 2021 04:44:58 অপরাহ্ন
0
11
views

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রবাসফেরত সাইফুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও শালিকাকে দা দিয়ে কু’পিয়ে গু’রুতর আ’হত করেছেন। আজ শুক্রবার (১২ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে উপজে’লার গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকার সোহাগপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর সহায়তায় অ’ভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে আ’টক করেছে পুলিশ। আ’হতরা হলেন সাইফুলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (১৮), শাশুড়ি নাছিমা বেগম (৩৮) ও শ্যালিকা খাদিজা আক্তার শিমু আক্তার (১৪)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় লোকজন আ’হতদের উ’দ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে সুমাইয়ার অবস্থা আ’শঙ্কাজনক। সুমাইয়ার নানী জয়নব বেগম বা’দী হয়ে সাইফুলকে আ’সামি করে মির্জাপুর থানায় মা’মলা করেছেন। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়া আক্তার গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আগামী ১৪ নভেম্বর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা। এছাড়া খাদিজা আক্তার শিমু একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। উপজে’লার বাঁশতৈল ইউনিয়নের আমড়াতৈল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম ১৪/১৫ বছর আফ্রিকার একটি দেশে চাকরি করতে যান।

গত এক বছর আগে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে আসার আগে সাইফুল তার উপার্জিত সমস্ত টাকা বাবার কাছে পাঠিয়ে দেন। পারিবারিক সিদ্ধান্তে সাইফুল গত ১৭ এপ্রিল একই উপজে’লার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া গ্রামের খাইরুল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়াকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সুমাইয়া স্বামীর বাড়িতেই থাকতেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে সাইফুলের বাবা তাকে খরচের টাকা দেয়া বন্ধ করে দেন। এসময় সাইফুল তার স্ত্রীর লেখাপড়ার খরচ মেটাতে পারছিলেন না। সুমাইয়া পরীক্ষার কথা চিন্তা করে তিন মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে যান এবং প্রাইভেটে লেখাপড়া শুরু করে।

সুমাইয়ার মা নাছিমা বেগম একজন স্বামী পরিত্যাক্তা। গার্মেন্টে চাকরি করে সংসার চা’লানোর পাশাপাশি দুই মেয়ের লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহ করতেন। গত রবিবার সাইফুল শ্বশুরবাড়িতে আসেন। প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার রাতে সাইফুল ও সুমাইয়া রাতের খাবার শেষে একঘরে এবং পাশের ঘরে সাইফুলের শাশুড়ি নাছিমা বেগম, শ্যালিকা শিমু ও নানি-শাশুড়ি জয়নব বেগম ঘুমাতে যান। আজ শুক্রবার ভোরে হঠাৎ পাশের ঘর থেকে সুমাইয়ার মামি তানিয়া বেগম ‘বাঁচাও বাঁচাও আমাকে মে’রে ফেললো’ চি’ৎকার শুনতে পেয়ে বাড়ির লোকজনের সহায়তায় দরজা ভে’ঙে র’ক্তাক্ত অবস্থায় সুমাইয়াকে দেখতে পান।

পরে উ’দ্ধার করতে গেলে সাইফুল শাশুড়ি ও শ্যালিকাকেও দা দিয়ে কু’পিয়ে আ’হত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে সাইফুলকে আ’টক করে পুলিশে দেন। আ’হতদের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সুমাইয়ার অবস্থা আ’শঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এদিকে আগামী রবিবার থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

দেওহাটা পুলিশ ফাঁ’ড়ির ই’নচার্জ মো. আইয়ুব খান অ’ভিযুক্ত সাইফুলকে গ্রে’প্তারের বি’ষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাইফুল ১৪-১৫ বছর আফ্রিকার একটি দেশে চাকরি করে উপার্জিত সমস্ত টাকা বাবার কাছে পাঠিয়েছেন। দেশে এসে বিয়েও করেছেন। বাবা তাকে কোনো হাতখরচ দেন না। তিনি স্ত্রীর খরচ মেটাতে পারছিলেন না। এ নিয়ে তার মন ভালো যাচ্ছিল না বলে পুলিশকে জানিয়েছে। তবে কী কারণে স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালিকাকে কু’পিয়েছেন তা এখনো জানা যায়নি। আ’হতদের চিকিৎসা চলছে। সুত্রঃ কালের কণ্ঠ