প্রশ্নপত্র ফাঁ’সের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : নভেম্বর 12, 2021 11:26:10 পূর্বাহ্ন
0
32
views

সারাদেশ: বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁ’সচ’ক্রের প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক আবু জাফর মজুম’দার। কার্জন নামের অন্য এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও পুলকেশ দাস বাচ্চু নামে একজন উপজে’লা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ আরও কয়েকজন সহযোগী নিয়ে প্রশ্নফাঁ’স করে আসছিলেন তিনি। কয়েক বছর ধরে প্রশ্নফাঁ’স করে এই চ’ক্রটি কয়েক কোটি টাকা আয় করেছে।

গতকাল শুক্রবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রশ্ন ফাঁ’সকারীচ’ক্রের ১০ জনকে আ’টক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গো’য়েন্দা ও অ’পরাধ তথ্য বিভাগ (উত্তর)। এর মধ্যে তিন ব্যাংক কর্মকর্তাও রয়েছেন। আ’টক হওয়া ১০ জনকে জি’জ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য জানা গেছে বলে দাবি করেছেন ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

ডিএমপির গো’য়েন্দা ও অ’পরাধ তথ্য বিভাগের যুগ্ম-কমিশনার আব্দুল বাতেনের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক আবু জাফর মজুম’দার ওরফে রুবেল এই প্রশ্নপত্র ফাঁ’সকারীচ’ক্রের ‘মাস্টার-মাইন্ড’। স’রকারি চাকরির আড়ালেই প্রশ্নপত্র ফাঁ’সের চ’ক্রটিকে বড় করে তুলেছিলেন তিনি। তবে স’রকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে, অর্থাৎ ছাত্রজীবন থেকেই তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁ’স করে আসছেন। তার নেতৃত্বে যে চ’ক্রটি গড়ে উঠেছে, তাতে অন্তত ২০ জন সদস্য রয়েছে। বিগত ৭-৮ বছর ধরে এ চ’ক্র প্রশ্নপত্র ফাঁ’স করে আসছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে ব্যাংকসহ বিভিন্ন স’রকারি অফিসে শতাধিক ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছে এ চ’ক্রের সদস্যরা।

সংশ্লিষ্ট গো’য়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, এ চ’ক্রের সদস্যরা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কয়েকটি ধাপে ফাঁ’স করতো। আবু জাফর মজুম’দারের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় প্রশ্নপত্র ফাঁ’সের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করতেন উপজে’লা নির্বাচন অফিসার পুলকেশ দাস ওরফে বাচ্চু ও ব্যাংক কর্মকর্তা কার্জন।

প্রশ্নপত্র ফাঁ’স ও এর উত্তরপত্র তৈরি করে পরীক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীদের হাতে যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এ চ’ক্রের ‘ওয়ান স্টপ সেন্টার’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গো’য়েন্দা ও অ’পরাধ তথ্য বিভাগের (উত্তর) এডিসি গোলাম সাকলাইন। তিনি বলেন, ‘পান্থপথে এই চ’ক্রের একটি ওয়ান স্টপ সেন্টার রয়েছে, যেখানে বসে ফাঁ’স করা প্রশ্নপত্রের উত্তরপত্র তৈরি করা হতো। এখান থেকে আবার এসব উত্তরপত্র শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হতো।’

এডিসি গোলাম সাকলাইন আরও বলেন, ‘এই চ’ক্রের মূল হোতাদের অচিরেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। চ’ক্রের বাকি মাস্টারমাইন্ডদেরও গ্রে’ফতার করা হবে।’ ডিএমপির গো’য়েন্দা ও অ’পরাধ তথ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেন আবু জাফর মজুম’দার ওরফে রুবেল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন পুলকেশ দাস। আবু জাফর মজুম’দার, পুলকেশ দাস ও কার্জন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁ’সের সঙ্গে জ’ড়িত। প্রশ্নপত্র ফাঁ’সে তারা এটিএম কার্ড আকৃতির একটি ছোট ‘স্মার্ট ডিভাইস’ ব্যবহার করতো, যা সংগ্রহ করেছিলেন কার্জন।

ডিএমপির গো’য়েন্দা ও অ’পরাধ তথ্য বিভাগের (উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান জানান, ‘আবু জাফর মজুম’দার, পুলকেশ দাস ও কার্জন জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের চাকরিটাও ভাগিয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ চ’ক্রের বাকি সদস্যদের গ্রে’ফতার করা হলে জালিয়াতির মাধ্যমে কে কোন স’রকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেয়েছে, জানা যাবে। এসব তথ্য উ’দ্ধারের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন