গাছের সঙ্গে বেঁ’ধে নারীর চুল কে’টে মুখে চুনকালি

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : নভেম্বর 8, 2021 12:00:29 অপরাহ্ন
0
9
views

সারাদেশ: এক নারীর মাথার চুল কে’টে মুখে চুনকালি মেখে দিয়েছে গ্রামের লোকজন। এই ঘটনা গত শনিবার দুপুরে যশোর সদর উপজে’লার মালঞ্চি গ্রামের। ওই নারীকে শনিবার যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় গতকাল রবিবার মা’মলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জ’ড়িত থাকার অ’ভিযোগে চারজনকে আ’টক করেছে।

তাঁরা হলেন রিপন হোসেন, বিউটি খাতুন, বিলকিস বেগম ও জোসনা বেগম। ভু’ক্তভোগী নারী গত শনিবার রাতে জানান, তিন কন্যাস’ন্তান রেখে সাড়ে তিন বছর আগে তাঁর স্বামী মা’রা যান। শ্বশুর তাঁর নামে ভিটার একটি অংশ ও বাড়ি লাগোয়া মুদি দোকান লিখে দেন। তিনি সেই দোকান চালান। ছয় মাস আগে তিনি আরেকটি বিয়ে করেন। এই ব্যক্তি সম্পর্কে তাঁর চাচাশ্বশুর ছিলেন। এ নিয়ে প্রায় সময় বর্তমান স্বামীর বোন জাহেদার ছেলে আকতার, আজগর ও ভাই হায়দারের ছেলে রিপন এবং তাঁদের স্ত্রীরা গালমন্দ করেন।

ভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার হু’মকি দেন। এরই মধ্যে তাঁরা টিন দিয়ে দোকান আ’টকে দিয়েছেন। শনিবার তাঁরা গালাগাল করে লা’ঠিসোঁটা নিয়ে ওই নারীর ঘর ভাঙতে আসেন। বা’ধা দিতে গেলে এক পর্যায়ে তাঁরা দম্পতিকে মা’রধর করেন। এরপর স্বামীকে ঘরে আ’টকে রাখেন। এ সময় আকতারের স্ত্রী বিউটি, রিপনের স্ত্রী জোসনাসহ কয়েকজন ওই নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁ’ধে মুখে কালি মাখিয়ে চুল কে’টে দেয়।

অ’ভিযুক্ত আকতার জানান, শনিবার সকালে তাঁরা বাড়ি ছিলেন না। ওই নারী তাঁদের স্ত্রীদের গালাগাল করেন। দুপুরে তাঁর ভাই আজগর বাড়িতে ফিরে এর প্র’তিবাদ করতে গেলে ওই নারীর স্বামী হাঁসুয়া দিয়ে ভাইকে কু’পিয়ে আ’হত করেন। এরপর তাঁরা গেলে তাঁদেরও হাঁসুয়া দিয়ে কোপান। তাঁরা আ’হত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেখান থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। কো’পানোর সময় ধ’স্তাধ’স্তিতে ওই ব্যক্তির ছেলের মাথায় লাগে। আর চুল কে’টে মুখে চুনকালি দিয়েছে গ্রামের নারীরা। তিনি বলেন, ‘টিন দিয়ে তাঁর দোকান বন্ধ করা হয়েছে গ্রামের মাতবরদের কথামতো। চাচাশ্বশুরকে বিয়ে করা নারী দোকানদারি করলে তাঁর মুখ দেখতে হবে, এ জন্য মাতবররা এই নির্দেশ দিয়েছেন।’

এ ঘটনায় আ’হত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ওই নারীর বর্তমান স্বামীর ছেলে। এ ছাড়া আরো আ’হত হয়েছেন পাচু মোড়লের ছেলে আজগর হোসেন ও আতকার হোসেন এবং হায়দার আলীর ছেলে রিপন হোসেন। এই গ্রামে কোনো সালিস হয়েছে কি না বা কোন মাতবর দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দীন জানান, ওই নারীর শা’রীরিক আ’ঘাতের চেয়ে মা’নসিক আ’ঘাত গু’রুতর। তবে তিনি আ’শঙ্কামুক্ত।

এ বি’ষয়ে মা’নবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, ‘নি’র্যাতিতা নারী আইন মোতাবেক বিয়ে করে থাকলে তাঁকে এভাবে কেউ শা’স্তি দিতে পারে না। কাউকে শা’স্তি দিতে হলে আ’দালত দেবেন। এটা মা’নবাধিকার ল’ঙ্ঘন এবং শা’স্তিযোগ্য অ’পরাধ। ওই নারী চাইলে তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।’ যশোর জে’লা পুলিশের মুখপাত্র (গো’য়েন্দা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) রূপণ কুমার স’রকার বলেন, ঘটনা সত্য। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।