পুরান ঢাকায় ফের আ’গুন ট্র্যাজেডি, পু’ড়ে অঙ্গার ৫ শ্র’মিক

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : নভেম্বর 6, 2021 10:13:57 পূর্বাহ্ন
0
8
views

সারাদেশ: পুরান ঢাকায় ফের আ’গুন ট্র্যাজেডি। এবার নি’হতের তালিকায় যুক্ত হলেন পাঁচজন। এর আগে ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলী অ’গ্নিকাণ্ডেে নি’হত হন ১২৪ জন, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টা অ’গ্নিকাণ্ডেে নি’হত হন ৭১ জন। সোয়ারীঘাটের কামালবাগে রোমানা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি জুতার কারখানায় বৃহস্পতিবার রাত ১টায় আ’গুন লাগে। ওই আ’গুনে পু’ড়ে অঙ্গার হয়েছেন পাঁচজন শ্র’মিক।

প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস জানতে পেরেছে, কারখানাটির ভেতরে রাখা রাসায়নিক (কেমিক্যাল) থেকে আ’গুনের সূত্রপাত। নি’হতরা হলেন বরিশালের আব্দুর রহমান রুবেল (৩৫), চাঁদপুরের মনির হোসেন (৩১), কি’শোরগঞ্জের বাজিতপুরের মো. শামিম মিয়া (৩৫), শেরপুরের কামরুল ইসলাম (২২) এবং মানিকগঞ্জের আমিনুল (৩০)। তাঁরা সবাই ওই কারখানার শ্র’মিক ছিলেন। এ দু’র্ঘটনায় আরো কয়েকজন আ’হত হয়েছেন। নি’হত ও আ’হতদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে রোমানা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ নামের জুতার কারখানার নিচতলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অন্য কোথাও থেকে আ’গুনের সূত্রপাত। সেখানে রাসায়নিক দ্রব্য থাকায় মুহূর্তে আ’গুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কারখানার দ্বিতীয় তলায় ঘুমিয়ে থাকা শ্র’মিকরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আ’গুনে পু’ড়ে অঙ্গার হয়ে যান। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট সেখানে পৌঁছে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আ’গুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ম’রদেহগুলো উ’দ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল ম’র্গে পাঠানো হয়েছে। আ’গুনে পু’ড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় নি’হতদের লা’শ শনাক্ত করা যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া ম’রদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সিআইডির ক্রা’ইম সিন ইউনিট।

সরেজমিন : গতকাল সকাল ৯টায় দু’র্ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় ওই কারখানার শ্র’মিক শান্তর সঙ্গে। কালের কণ্ঠকে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘অল্পের জন্য প্রা’ণে বাঁচছি। রাত তখন ১টার বেশি। কারখানার নিচে কাজ চলছিল। ও’পরে দোতলায় ঘুমিয়ে ছিল পাঁচজন। আমিও ঘুমানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তার আগে মোবাইলে কথা বলতে কারখানার সামনে যাই। এ সময় কারখানার মাল রাখার গুদামে আ’গুন লাগে। নিচতলায় তখন ৩০ জনের মতো শ্র’মিক কাজ করছিল। দ্রুত তারা কারখানা থেকে বের হয়ে আসে। ও’পরে যারা ঘুমিয়ে ছিল, তারা বের হতে পারেনি। আ’গুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরে তখন অনেক চি’ৎকার শোনা যাচ্ছিল।’

কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে রাখা আছে রাবারের প্রচুর কাঁচামাল, ড্রাম ভর্তি কেমিক্যাল, জুতা তৈরিতে ব্যবহার করা ডিওপি তেল। প্লাস্টিকের বেশ কিছু বড় ড্রামও চোখে পড়ে। ওই ড্রামে রাসায়নিক রাখা হতো জানিয়ে এক শ্র’মিক বলেন, ‘কারখানাটিতে মূলত জুতার সোল তৈরি করা হয়। কারখানায় ২৪ ঘণ্টা চলে কাজ।’ দোতলায় শ্র’মিকরা যেখানে ঘুমাতেন, সেখানে প্রবেশের দরজাটি সরু। একটি রুমে বিশেষ কায়দায় স্টিলের পাটাতনের ও’পর শ্র’মিকদের ঘুমানোর ব্যবস্থা ছিল। পু’ড়ে ছাই কাঁচাবাজার : জুতার কারখানার আ’গুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে পাশের ম’দিনা কাঁচাবাজারে। সেখানে নিত্যপণ্যের ১০টি দোকান পু’ড়ে গেছে।

গতকাল দুপুরে ক্ষ’তিগ্রস্ত বাজারটির মাংসের দোকানি রফিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার প্রস্তুতির সময় জুতার কারখানার ভেতরে বিকট শব্দে বি’স্ফোরণ থেকে দ্রুত আ’গুন ছড়িয়ে পড়ে। সেই আ’গুন কাঁচাবাজারে ছড়িয়ে পড়লে ফ্রিজে রাখা আমার ৭০ হাজার টাকার মাংসসহ ফ্রিজটি পু’ড়ে ছাই হয়ে গেছে।’

লা’পা’ত্তা মালিক : অ’গ্নিকাণ্ডেের পর কারখানার মালিক রফিক হাজিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় লোকজন জানায়, ১০-১২ বছর আগে রফিক হাজি এই জমি লিজ নিয়ে কারখানা গড়ে তোলেন। কারখানাটিতে বার্মিজ ও প্লাস্টিকের স্যান্ডেল ও সোল তৈরি করা হতো। কারখানাটিতে কাজ করতেন ৪৫ জন শ্র’মিক।

এদিকে গতকাল সকালে দু’র্ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন অ’পরাধ ত’দন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রা’ইম সিন ইউনিটের সদস্যরা। সিআইডির ক্রা’ইম সিন ইউনিটের প্রধান পরিদর্শক সাইফুর রহমান ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, দু’র্ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কেমিক্যালসদৃশ কিছু আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাবে পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, এগুলো দাহ্য কোনো কেমিক্যাল ছিল কি না। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী উপপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, দু’র্ঘটনাস্থলে প্রচুর পরিমাণে রাবারের কাঁচামাল পাওয়া গেছে। রাবার এক ধরনের পেট্রোলিয়ামজাতীয় পদার্থ। এ ছাড়া সেখানে ডিওপি তেল মজুদ ছিল। এটিও দাহ্য পদার্থ। ত’দন্তের পর অ’গ্নিকাণ্ডেের প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনা ত’দন্তে পাঁচ সদস্যের ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চকবাজার থানার ওসি আবদুল কাইউম বলেন, পাঁচ শ্র’মিকের ম’রদেহ ম’য়নাত’দন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ম’র্গে পাঠানো হয়েছে।

ম’র্গে লা’শের জন্য স্বজনদের অপেক্ষা : সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ম’র্গের সামনে বাবার লা’শের জন্য অপেক্ষা করছিল শি’শু নাহিদ হাসান। শি’শুটির দাবি, সোয়ারীঘাটের কামালবাগে জুতার কারখানায় আ’গুনে পু’ড়ে অঙ্গার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে তাঁর বাবা মনির হোসেনের লা’শটিও আছে।

নাহিদের সঙ্গে থাকা তার ফুফা আলী হোসেন বলেন, চাঁদপুরের মতলবের আবুল হোসেনের ছেলে মনিরের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে নাহিদ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। অন্য দুই স’ন্তান নিয়ে স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মনিরের টাকায় স’ন্তানদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সংসার চলত। এখন পরিবারটি কিভাবে চলবে, তা ভেবে পাচ্ছেন না তিনি।

এ সময় মিটফোর্ড হাসপাতালের ম’র্গের সামনে মনিরের স্বজনরা ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের আমিনুর, বরিশালের আবদুর রহমান, কি’শোরগঞ্জের শামীম মিয়া, শেরপুরের কামরুল ইসলামের স্বজনরা।

আশুলিয়ায় জুতার কারখানায় আ’গুন

সাভার প্রতিনিধি জানান, আশুলিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে একটি জুতা তৈরির কারখানায় অ’গ্নিকাণ্ডেের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সাভার ও আশুলিয়া ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আড়াই ঘণ্টা চেষ্টায় আ’গুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে নরসিংহপুরের স’রকার মার্কেট এলাকার পেস ইন্টারন্যাশনাল বিডি লিমিটেড নামের জুতা তৈরির কারখানায় এই অ’গ্নিকাণ্ডেের ঘটনা ঘটে।

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গির আলম বলেন, কারখানার ভেতরে কেমিক্যাল থাকার কারণে আ’গুন নেভাতে বেগ পেতে হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার পাশে কেমিক্যালের ময়লার স্তূপ থেকে এই অ’গ্নিকাণ্ডেের সূত্রপাত।

রূপগঞ্জে টেক্সটাইল কারখানায় আ’গুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রূপগঞ্জে একটি টেক্সটাইল কারখানায় ভ’য়াবহ অ’গ্নিকাণ্ডেের ঘটনা ঘটেছে। আ’গুনে ওই কারখানায় থাকা কাপড়, সুতাসহ মেশিন পু’ড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজে’লার কাঞ্চনবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

কাঞ্চন ও পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আ’গুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের ই’নচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, দ্রুত আ’গুন নেভাতে না পারলে আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে আরো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষ’তি হতো।

সুত্র: কালের কন্ঠ