দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তির সব প্রমাণ আছে : রাষ্ট্রপক্ষ

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : অক্টোবর 31, 2021 10:17:52 পূর্বাহ্ন
0
16
views

সারাদেশ: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হ’’ত্যা মা’মলায় কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে তারই ২৫ সহপাঠীকে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নি’র্মম এ হ’’ত্যাকণ্ড ঘটে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

মা’মলার বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে। রায় হতে পারে আগামী মাসেই। এখন চলছে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়েছে। আ’সামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ যুক্তিতর্ক শুনানি গ্রহণ করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, মা’মলার ২৫ আ’সামিকে দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি মৃ’ত্যুদ’ণ্ড হওয়ার মতো সব ধরনের প্রমাণই ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে আ’সামি পক্ষ বলছে, একটি গোঁজামিল ত’দন্তের মাধ্যমে ২৫ মেধাবী ছাত্রকে কাঠগড়ার দাঁড় করিয়ে প্রকৃত অ’পরাধীদের আড়াল করা হয়েছে। এ সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার জন্য বুয়েট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী মো. আবদুস সোবহান তরফদার জানান, তিনি এবং এ মা’মলার রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল ও প্রসিকিউটর আবু আবদুল্লাহ ভূঁইঞা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন।

তারা ২৫ আ’সামির মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দাবি করেছেন। আ’সামিদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ প্রমাণ হওয়ার বি’ষয়ে এ আইনজীবী আমাদের সময়কে বলেন, ‘একটি মা’মলার তিন ধরনের সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যায়। এগুলো হলোÑ মৌখিক সাক্ষ্য, ডকুমেন্টারি বা দালিলিক সাক্ষ্য এবং সারকমান্সটানশিয়াল এভিডেন্স বা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য। আমরা মনে করি, এ তিন প্রকার সাক্ষ্য দিয়েই আ’সামিদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘মৌখিক সাক্ষ্যে নি’হতের বাবাসহ ৪৬ সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু পুলিশ সদস্য ফরমাল সাক্ষী। বাকি মৌখিক সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন নি’হতের বাবা, চাচা, মামা, বুয়েটের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারী, চিকিৎসক ও স্বী’কারোক্তি গ্রহণকারী ম্যা’জিস্ট্রেট। নি’হতের বাবা এহাজারে ভিডিও ফুটেজ দেখে ১৯ আ’সামির কথা উল্লেখ করেছেন। পরে ৩ ত’দন্তে আরও ৬ জনের নাম এসেছে মর্মে সাক্ষ্যে বলেছেন। দশজনের মতো ছাত্র সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তাদের সাক্ষ্যে কোনো না কোনোভাবে জ’ড়িত মর্মে ২৫ জন আ’সামির নাম বলেছেন। মা’মলায় ২৫ আ’সামির মধ্যে ৮ জন আ’দালতে স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দি দিয়েছেন। ছাত্ররা মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে তাদের স্বী’কারোক্তির বক্তব্য সমর্থন করে গেছেন। সাক্ষ্য দেওয়া ছাত্ররা বা’দী পক্ষের মিত্র না আর আ’সামিদের শ’ত্রু না, তাই এ সাক্ষীদের অবিশ্বাস করা সুযোগ নেই। আর আবরার যে হ’’ত্যা হয়নি এই মর্মে আ’সামি পক্ষ থেকে কোনো সাজেশনও জেরায় আসেনি। সে ক্ষেত্রে আবরারকে হ’’ত্যা করা হয়েছে, তা প্রমাণ হয়ে গেছে। স্বী’কারোক্তি গ্রহণকারী ম্যা’জিস্ট্রেটরা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সেখানে প্রমাণ হয়েছে আ’সামিরা স্বেচ্ছায় স্বী’কারোক্তি করেছেন। আ’সামি পক্ষের জেরা সে বি’ষয়েও কোনো স’ন্দেহ সৃষ্টি করতে পারেনি। ফলে ৮ আ’সামির স্বী’কারোক্তি তাদের ক্ষেত্রে এবং স্বী’কারোক্তিতে অন্য যাদের নাম এসেছে তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে কোনো বা’ধা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মা’মলায় ৬ জন সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। যার দ্বারা প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে যে দুই আ’সামি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। কিন্তু এ বি’ষয়টি আ’সামি কিংবা তাদের পরিবার দাবি করলে হবে না। তারা ওই ধরনের কোনো নথি বা সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারেননি, যা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে।’

দালিলিক সাক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ম’য়নাত’দন্তের প্রতিবেদন। সেখানে আ’ঘাতের ফলে যে আবরারের মৃ’ত্যু হয়েছে, সেটা এসেছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এসে মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রতিবেদনের সত্যতা প্রমাণ করেছেন। আর ছাত্রদের মৌখিক সাক্ষ্যে এবং ৮ আ’সামির স্বী’কারোক্তি ম’য়নাত’দন্তের প্রতিবেদনকে সমর্থন করেছে। এ ছাড়া পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য হিসেবে রয়েছেÑ আবরার বুয়েটের ছাত্র ছিলেন; আ’সামিরা তাকে ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকে খোঁজ করে; ঘটনার সময় ও আগে-পরের ভিডিও ফুটেজে আ’সামিদের উপস্থিতি সবাই প্রমাণ হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের এ ফৌজদারি আইনজীবী বলেন, ‘আ’দালত বিশ্বাসযোগ্য একজন সাক্ষী বা সারকমান্সটানশিয়াল এভিডেন্সের ও’পর ভিত্তি করেই আ’সামিদের দ’ণ্ড দিতে পারেন। সেখানে এ মা’মলায় সব ধরনের বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা মনে করি, সব আ’সামিই সর্বোচ্চ দ’ণ্ডের আওতায় আশা উচিত।’

অন্যদিকে আ’সামি ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন ও মুনতাসির আল জেমির আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো জানান, মা’মলায় বলা হচ্ছে যে আবরারকে পি’টিয়ে স্টাম্প ভে’ঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু কোনো সাক্ষী বলেননি যে আবরার মা’রার সময় চি’ৎকার করেছিল বা কেউ তার চি’ৎকার শুনেছেন। এতে প্রমাণ হয় যে আ’সামিরা কেউ তাকে মা’রেনি। অন্য কোথাও থেকে কেউ তাকে মে’রে সিঁড়ির ওখানে রেখে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, তার মক্কেলদের মধ্যে সকাল ও রবিনের স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দি রয়েছে, যা রি’মান্ডে নিয়ে ভ’য় দেখিয়ে আদায় করা হয়েছে। আইনজীবী টিটো আরও দাবি করেন, তার মক্কেলরা জ’ড়িত থাকলে তারা হল ছেড়ে পা’লিয়ে যেতেন। চিকিৎসক আনতে বলতেন না, প্রাধ্যক্ষকে ফোন করে জানাতেন না। অ্যাম্বুলেন্স খবর দিতেন না। তিনি বলেন, ‘মা’মলায় প্রকৃত অ’পরাধীদের আড়াল করা হয়েছে।

মা’মলায় বুয়েট উপা’চার্যকে সাক্ষী করা হয়নি। প্রাধ্যক্ষ সাক্ষী থাকলেও তাকে সাক্ষ্য দিতে আ’দালতে আনা হয়নি। যে ১০-১২ জন ছাত্র মা’মলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের আবরার নি’হত হওয়ার পর ব’হিষ্কার করা হয়েছিল। পরে হাইকোর্টে রিট করে তারা ছাত্রত্ব ফিরে পেয়েছেন। তারা নিজেরাই তো কালপ্রিট। তাই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।’ উল্লেখ্য, ঘটনার পরদিন নি’হতের বাবা বরকত উল্লাহ ১৯ শিক্ষার্থীকে আ’সামি করে চকবাজার থানায় মা’মলা করেন। মা’মলাটি পরে ডি’বিতে হস্তান্তর হয়।