নিজের সাবেক স্ত্রী ভেবে অন্যের স্ত্রীকে হ’’ত্যা, অতঃপর

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : অক্টোবর 30, 2021 12:07:35 অপরাহ্ন
0
9
views

সারাদেশ: নিজের সাবেক স্ত্রীকে হ’’ত্যা করতে গিয়ে ভু’লে অন্যের স্ত্রীকে হ’’ত্যা করে ফে’লেন সেকুল মিয়া। তিনি পেশায় ট্রাক ড্রাইভার। হ’’ত্যার শি’কার নারীর নাম আশা আরা আয়েশা (২৩), তিনি একজন গার্মেন্টসকর্মী। রাজধানীর মোহাম্ম’দপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় ঘটনাটি ঘটে গতকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর)।

ঘটনাস্থলেই সেকুলকে হাতেনাতে আ’টক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয় জনতা। সেই ঘটনায় গতকাল রাতেই হ’’ত্যা মা’মলা দা’য়ের করেন হ’’ত্যার শি’কার নারীর স্বামী রুবেল হোসেন। শনিবার (৩০ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মোহাম্ম’দপুর থানার পরিদর্শক (ত’দন্ত) দুলাল হোসেন। তিনি জানান, গ্রে’প্তারকৃত সেকুল মিয়াকে আজই আ’দালতে পাঠানো হচ্ছে। নিজের সাবেক স্ত্রী ভেবে অন্যের স্ত্রীকে হ’’ত্যার কথা তিনি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।

সেকুলের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, চার বছর আগে স্ত্রী শেফালি আক্তারের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। সম্প্রতি পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সেকুলকে আবারও বিয়ে করতে রাজি হন শেফালি। কিন্তু এক মাস আগে শেফালি অন্য একজনকে বিয়ে করে ফে’লেন। গতকাল শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) সকালে প্র’তিশোধ নেওয়ার জন্য এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে মোহম্ম’দপুরের নবোদয় হাউজিংয়ে যান সেকুল। সেখানে সাবেক স্ত্রী শেফালিকে বোরকা পরা অবস্থায় একটি রিকশার মধ্যে দেখতে পেয়ে তারা ওই রিকশার পিছু নেন।

একপর্যায়ে রিকশাটির গতিরোধ করে এর আরোহীকে ধা’রালো অ’স্ত্র দিয়ে একের পর এক আ’ঘাত করেন সেকুল। পরে আ’ঘাত পাওয়া নারী রিকশা থেকে নিচে পড়ে গেলে সেকুল বোরকার মুখ খুলেই বুঝতে পারেন ওই নারী তার স্ত্রী নন। শেফালি তখন পাশেই অন্য একটি রিকশায় ছিলেন। সেকুল যাকে আ’ঘাত করেন তার নাম আয়েশা। নিজের ভু’ল বোঝার পর সেকুল নিজেই আয়েশাকে হাসপাতালে নিতে চেষ্টা করেন। তখন স্থানীয়রা তাকে ধরে পি’টুনির পর পুলিশে দেন।

আয়েশার স্বামী রুবেল হোসেন জানান, রিকশায় করে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আদাবর নর্দা হাউজিং বাজার চৌরাস্তা এলাকায় তার স্ত্রীর গতিরোধ করেন দুইজন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পিঠে এবং হাতে এলোপাতাড়ি ছু’রিকাঘাত করে। ঘটনার পর কাজল নামে এক পথচারী অন্যদের সহায়তায় আয়েশাকে উ’দ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। খবর পেয়ে রুবেলও যান হাসপাতালে। অতিরিক্ত র’ক্তক্ষরণ হলে হাসপাতালে আয়শাকে দুই ব্যাগ র’ক্ত দেওয়া হয়। পাশাপাশি অপারেশন করে র’ক্তক্ষরণ বন্ধেরও চেষ্টা করা হয়। পরে অপারেশন থিয়েটার থেকে তাকে নেওয়া হয় নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মা’রা যান আয়েশা।

পরিদর্শক (ত’দন্ত) দুলাল হোসেন জানান, সেকুল মিয়া পাঁচ বছর আগে শেফালিকে বিয়ে করেন। চার বছর আগে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। তিনি গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় থাকেন। শেফালিকে তিনি আবার বিয়ে করতে চাইলে সেকুলের কাছ থেকে শেফালি টাকাও নেন। দুলাল হোসেন বলেন, ‘নি’হতের পরিবার এখনও হাসপাতালে আছে। ম’রদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ম’র্গে আছে। এ ঘটনায় মা’মলা প্রক্রিয়াধীন।’