তিন মাসে ২১৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রিং আইডি

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : অক্টোবর 3, 2021 09:23:31 পূর্বাহ্ন
0
19
views

সারাদেশ: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে পরে ই-কমার্স ব্যবসায় নামা আলোচিত রিং আইডি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। গত মে মাসে ২৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, জুন মাসে ১০৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং জুলাই মাসে ৭৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা অ’বৈধভাবে সংগ্রহ করেছে রিং আইডি।

তিন মাসে তারা হাতিয়ে নিয়েছে মোট ২১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। রাজধানীর ভাটারা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মা’মলায় গত শুক্রবার গুলশান থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাইফুল ইসলামকে গ্রে’প্তারের পর এসব তথ্য জানায় অ’পরাধ ত’দন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আঁখি বেগম নামের এক ভু’ক্তভোগী ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অ’জ্ঞাতপরিচয় ১৫ জনের বি’রুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কন্ট্রোল অ্যাক্টের আওতায় মা’মলা করেন।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, গতকাল শনিবার আ’দালতের নির্দেশে সাইফুলকে দুই দিনের রি’মান্ডে নেওয়া হয়েছে। অন্য আ’সামিদের বি’ষয়েও ত’দন্ত চলছে। রিং আইডি যেন অ’বৈধভাবে দেশের বাইরে টাকা পা’চার করতে না পারে সে জন্য এরই মধ্যে তাদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে ত’দন্তকারীরা।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আজাদ রহমান বলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার রিং আইডির অ’বৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করে তিন মাসে ২১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পেয়েছে। তাদের এসব স’ন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে বেশ কিছুদিন আগে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার থেকে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অনুসন্ধানের জন্য একটি চিঠি দেওয়া হয়। বিএফআইইউ এরই মধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে। এ ছাড়াও রিং আইডি ইস্যুতে সাইবার পুলিশ সেন্টারে মানি লন্ডারিং বি’ষয়ে একটি অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকার করেছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের আমানত গ্রহণের অনুমোদন নেই। রিং আইডির সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ, কমিউনিটি জবসসহ বিভিন্ন সার্ভিস, যার আড়ালে এই আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ খাতে বিনিয়োগ করে। বর্তমানে স’ন্দেহের তালিকায় থাকা বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের মতো তারাও অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে বিভিন্ন প্র’ডাক্ট বিক্রি ও ক্রেতাদের কাছ থেকে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করছিল।

এদিকে গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরীর আ’দালত শুনানি শেষে রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলামের দুই দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মা’মলার সুষ্ঠু ত’দন্তের জন্য তাঁকে পাঁচ দিনের রি’মান্ডে নিতে আবেদন করেন মা’মলার ত’দন্তকারী সিআইডির উপপরিদর্শক সোহেল রানা। রিং আইডিতে বিনিয়োগ করে প্র’তারিত হয়েছেন এমন অ’ভিযোগে আঁখি বেগমের করা মা’মলার অন্য আ’সামিরা হলেন—শরিফুল ইসলাম, ইরিন ইসলাম, সালাহউদ্দিন, আহসান হাবিব, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, আব্দুস সামাদ, রেদোয়ান রহমান ও রাহুল।

মা’মলার অ’ভিযোগে বলা হয়, একটি সংঘবদ্ধ ডিজিটাল প্র’তারকচ’ক্র রিং আইডির আড়ালে কয়েন বিক্রি করে ইলেকট্রনিক লেনদেনের সাহায্যে অর্থ সংগ্রহ করত। অ’ভিযুক্তরা সহজে আয়ের পথ হিসেবে মানুষকে রিং আইডিতে বিনিয়োগে প্ররোচিত করেছে। ২০১৯ সালে বা’দী আঁখি বেগম, তাঁর দুই ভাই ও এক ভাগ্নে মোট ৮৬ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে আঁখির এক ভাই একবার শুধু সামান্য অঙ্কের কিছু টাকা উত্তোলন করতে পেরেছিলেন। এরপর আর কোনো লাভ পাননি, বিনিয়োগের মূল টাকাও ফেরত পাননি।