নুসরাতকে তলব করেছে পিবিআই

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : অক্টোবর 2, 2021 11:00:14 পূর্বাহ্ন
0
18
views

সারাদেশ: মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃ’ত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় মা’মলার ত’দন্তে নানা অসংগতি পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রথম ও দ্বিতীয় মা’মলার বা’দী একই হলেও দুটি মা’মলার এজাহারে রয়েছে ভিন্ন বক্তব্য। দুই এজাহারে বা’দীর বক্তব্যে ভিন্নতার কারণ জানতে এবার বা’দীকেই তলব করছেন ত’দন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একাধিক সূত্র মনে করছে, নুসরাতকে জি’জ্ঞাসাবাদ করলেই মা’মলার অনেক র’হস্য উন্মোচিত হবে।

আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো মা’মলা করতে গেলে প্রথম যে অ’ভিযোগটি করা হয় সেটি গৃহীত হয়। পরবর্তী সময়ে সেই অ’ভিযোগ থেকে সরে আসার কোনো পথ নেই। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে যে নুসরাত প্রথম দফায় যে অ’ভিযোগগুলো করেছিলেন দ্বিতীয় দফায় অন্য রকমভাবে মা’মলাটি সাজিয়েছেন। এটা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই মা’মলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পিবিআই সূত্র বলছে, ৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় মা’মলা দা’য়েরের পর আ’দালত ত’দন্তভার পিবিআইকে দেন। এর তিন দিনের মধ্যে মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তাসহ একটি দল কুমিল্লায় গিয়ে বা’দীর সঙ্গে কথা বলে। তবে পরবর্তী সময়ে ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হলে বা’দীকে পুনরায় তলবের সিদ্ধান্ত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ত’দন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গতকাল বলেন, ‘দেখু’ন আমরা সুষ্ঠু ত’দন্তের স্বার্থে সব কিছুই খতিয়ে দেখব।’ জানা গেছে, নুসরাত প্রথম অ’ভিযোগ করেছিলেন গুলশান থানায়। সেই অ’ভিযোগে তিনি মুনিয়ার মৃ’ত্যুকে আত্মহ’’ত্যা বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং আত্মহ’’ত্যা ও প্ররোচনা মা’মলা করেছিলেন। নুসরাত দ্বিতীয় অ’ভিযোগটি করেন ৮ নম্বর নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দ’মন ট্রাইব্যুনালে। এই মা’মলায় তিনি মুনিয়াকে হ’’ত্যা করা হয়েছে এবং তাঁকে ধ”ণ করা হয়েছে বলে অ’ভিযোগ করেন। দুটি মা’মলার যে অ’ভিযোগনামা, সেই অ’ভিযোগনামার মধ্যে অসংগতি রয়েছে এবং একটি মা’মলার সঙ্গে আরেকটির কোনো মিল নেই।

একাধিক সূত্র বলছে, শুধু প্রথম মা’মলাটি নয়, দুটি অ’ভিযোগের মধ্যে অসংগতি থেকে বোঝা যায়, এই মা’মলা করা হয়েছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং এক ধরনের ব্ল্যা’কমেইলিংয়ের জন্য। ত’দন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত ৮ নম্বর নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দ’মন ট্রাইব্যুনালে যে মা’মলায় অ’ভিযোগ করেছেন, সেখানে তিনটি অসংগতি রয়েছে।

১. এজাহারে বলা হয়েছে যে মুনিয়াকে হ’’ত্যা করা হয়েছে, কিন্তু মুনিয়াকে কখন, কিভাবে হ’’ত্যা করা হলো, সেটি নেই। যেকোনো হ’’ত্যাকাণ্ডের মা’মলায় সময় ও ঘটনাস্থল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আ’সামিদের কাউকে না কাউকে অবশ্যই সেই হ’’ত্যাকাণ্ডের স্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। এটি এই মা’মলার সবচেয়ে বড় ত্রুটি বলে মনে করছে একাধিক সূত্র।

২. মুনিয়া যখন নুসরাতকে টেলিফোন করেন এবং নুসরাত যখন কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন, তখন তাঁদের টেলি-আলাপে একবারও মুনিয়া মৃ’ত্যুর আ’শঙ্কা করেননি বা তাঁকে হ’’ত্যা করা হতে পারে—এ রকম আ’শঙ্কা করেননি। বরং মুনিয়া কিছুদিন নির্বিঘ্নে ঢাকার বাইরে ঘুরে আসতে চেয়েছিলেন।

৩. মৃ’ত্যুর আগে ব্যক্তির যেসব কথাবার্তা সেটিকে বলা হয় তার লাস্ট স্টেটমেন্ট বা শেষ বক্তব্যে। সেই শেষ বক্তব্যে মুনিয়া কোথাও নিজেকে ধ’র্ষিতা বলে দাবি করেননি। কাজেই এই তিনটি অসংগতির বি’ষয় নিয়ে ত’দন্তকারী কর্মকর্তারা ত’দন্ত করছেন।

সূত্র বলছে, মা’মলার ত’দন্তে এরই মধ্যে পিবিআই অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। গুলশানের যে ফ্ল্যাটে ২৮ এপ্রিল মুনিয়া মা’রা গিয়েছিলেন, সেই ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ নেওয়া হয়েছে। মুনিয়ার ডায়েরি এবং অন্য কাগজপত্র জ’ব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মুনিয়ার ফোনের কল রেকর্ড জ’ব্দ করা হয়েছে।