যাদের কারণে রাজ্য ছাড়া তাদের কারণেই ঘুম হারাম রোহিঙ্গাদের

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : অক্টোবর 2, 2021 10:44:59 পূর্বাহ্ন
0
27
views

অনলাইন ডেস্ক: আলোচিত রো’হিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হ’’ত্যাকাণ্ডে জ’ড়িত স’ন্দেহে পুলিশ একজন রো’হিঙ্গা স’ন্ত্রাসীকে আ’টক করেছে। শুক্রবার (১ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার কুতুপালং ৬ নম্বর শিবির থেকে তাকে আ’টক করা হয়। আ’টক স’ন্ত্রাসীর নাম মোহাম্ম’দ সেলিম প্রকাশ লম্বা সেলিম (২৭)। তিনি ‘আরসা’ নামের উ’গ্র স’ন্ত্রাসী দলের পক্ষে ৬ নম্বর শিবিরের একজন জিন্মাদার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

রো’হিঙ্গা শিবিরে কর্মরত ১৪-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক মো. নাইমুল হক জানিয়েছেন, বিশ্বস্ত সূত্রের সংবাদের ভিত্তিতে লম্বা সেলিমকে আ’টক করে উখিয়া থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুহিব উল্লাহ হ’’ত্যাকাণ্ডে জ’ড়িতদের গ্রে’প্তারের জন্য যেকোনো সময় রো’হিঙ্গা শিবিরে সাঁড়াশি অ’ভিযান শুরু করা হবে।

গত বুধবার রাতে কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকায় নিজ অফিসে স’ন্ত্রাসীদের গু’লিতে নি’হত রো’হিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হ’’ত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়া থানায় একটি হ’’ত্যা মা’মলা দা’য়ের করা হয়। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ সঞ্জুর মোরশেদ জানিয়েছেন, নি’হত মুহিব উল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহর দা’য়ের করা মা’মলাটিতে কোনো আ’সামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। ওসি জানান, শুক্রবার আ’টক হওয়া রো’হিঙ্গা আরসা স’ন্ত্রাসী লম্বা সেলিমকে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ওপার ছেড়ে এপারে​ও…
লাখ লাখ রো’হিঙ্গাকে এক কাপড়ে মিয়ানমারের সে’না ও মগ বাহিনীর নি’র্মমতার মুখে রাখাইন রাজ্যের সুখের নীড় ছাড়া করেছে ‘আরসা’ (আরাকান রো’হিঙ্গা স্যালভেশন আ’র্মি) নামের স’ন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি। আবার সেই একই গোষ্ঠীই এখন কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরে বাস্তুচ্যুত নিরীহ রো’হিঙ্গাদের ঘুম হারামের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজ দেশে করা অ’পরাধের শা’স্তি থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রো’হিঙ্গাদের দেশে ফেরা বন্ধ করাই হচ্ছে আরসার একমাত্র লক্ষ্য।

এমনসব কথা বলছেন, উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয় শিবিরের নিরীহ রো’হিঙ্গারা। রো’হিঙ্গারা বলছেন, কোনো জাতির দাবি-দাওয়া আদা’য়ের জন্য নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি বা সংগঠনের সর্বাগ্রে প্রয়োজন দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, রাজনৈতিক আদর্শ ও মানবতা। কিন্তু আরসা নামের সংগঠনটির কথিত কোনো সদস্যের কাছেই এসব উপাদানের কিছুই নেই। উল্টো কথিত সংগঠনটির পরিচয়ধারী সদস্যরা স’শস্ত্র অবস্থায় নিরীহ রো’হিঙ্গাদের ও’পর নি’র্যাতন, হ’’ত্যা, অ’পহরণ, ধ”ণ থেকে শুরু করে অ’পরাধ কর্মকাণ্ডের সব উপাদান নিয়েই রয়েছে।

সাধারণ রো’হিঙ্গারা বলছেন, আরাকান রো’হিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর সভাপতি নি’হত মুহিব উল্লাহ রো’হিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার আশাবাদের কথাবার্তা শুনাতেন। মুহিব উল্লাহ সব সময় দেখাতেন রো’হিঙ্গাদের আদি জন্মভূমি রাখাইন রাজ্যের হা’রানো ঘরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন। তিনি রো’হিঙ্গা জাতির অধিকার নিয়ে কথা বলতেন। রো’হিঙ্গাদের প্রতি মুহিব উল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। কিন্তু আল-ইয়াকিন বা আরসার কাছে রো’হিঙ্গারা কেবল অ’স্ত্র আর পেশিশক্তি ছাড়া আর কিছুই দেখেননি। রো’হিঙ্গাদের মতে স্বদেশে ফেরার জন্য নেতৃত্বদানকারি রো’হিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহকে চিরতরে খতম করে দিতে পারলেই দেশে ফেরার কথা আর কারো মুখ থেকে বের হবে না-এটাই মুহিব উল্লাহকে হ’’ত্যার অন্যতম কারণ।

রো’হিঙ্গাদের ক্ষো’ভ
সাধারণ রো’হিঙ্গাদের কাছে কথিত ‘আরসা’ নামটি ‘আল-ইয়াকিন’ হিসাবেই বেশি পরিচিত। রাখাইন রাজ্যে রো’হিঙ্গাদের ছিল এমন একটি সংগঠনের নাম আল-ইয়াকিন। ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট রাখাইনে আল-ইয়াকিন থেকে কিছু উ’গ্রপন্থী রো’হিঙ্গা সদস্য বেরিয়ে পড়ে এক যোগে ৩০টি সে’না ও পুলিশ ক্যাম্পে বো’মা হা’মলার ঘটনা ঘটিয়েছিল। মিয়ানমার সে’নাদের পক্ষে এই হা’মলার জন্য দায়ি করা হয়েছিল ‘আরসা’ নামের একটি উ’গ্র রো’হিঙ্গা সংগঠনের সদস্যদের। সেই থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘আরসা’ ব্যাপক প্রচারণা পেয়ে আসছে।

সাধারণ রো’হিঙ্গাদের অ’ভিযোগ, ২০১৭ সালের আগস্টের সে’না ও পুলিশ ক্যাম্পে হা’মলার ঘটনায় কোনো নীরিহ রো’হিঙ্গা জ’ড়িত নয়। তদুপরি এমন হা’মলার ঘটনা সাধারণ রো’হিঙ্গাদের যেমনি অজানা ছিল তেমনি তাদের ন্যূনতম সায়ও ছিল না। রো’হিঙ্গাদের বিশ্বাস, সেই ঘটনাটি মিয়ানমারের সে’নাদের রো’হিঙ্গা নি’র্যাতনের জন্য উস্কিয়ে দিতেই পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল। যাতে করে সে’না নি’র্যাতনের মুখে লাখ লাখ রো’হিঙ্গা এপাড়ে চলে আসে। আর মিয়ানমার-বাংলাদেশ দুই দেশের সীমান্তজুড়ে তৈরি করা যায় দীর্ঘমেয়াদী একটি স’মস্যা।
বাংলাদেশের কুতুপালং শিবিরে ২০১৭ সালের রো’হিঙ্গা ঢলে আশ্রয় নেওয়া ৫০০ পরিবারের হিন্দু রো’হিঙ্গাও রয়েছে। এসব হিন্দু রো’হিঙ্গারা সেই থেকেই অ’ভিযোগ করে আসছিল, তারা মিয়ানমার সে’নাদের নি’র্যাতনের যতটুকু শি’কার হয়নি তার চেয়ে অনেক বেশি নি’র্যাতনের মুখে পড়েছিল কালো কাপড়ে আচ্ছাদিত কিছু রো’হিঙ্গা স’ন্ত্রাসীদের হাতে। এসব হিন্দু রো’হিঙ্গাদেরও অ’ভিযোগ আরসা সংগঠনের সদস্যরাই সেই সময় হামলে পড়ে বা’ধ্য করেছিল বাংলাদেশে পা’লিয়ে আসতে।

রো’হিঙ্গারা বলছেন, রাখাইনে থাকতে ২০১৭ সালে আন্দোলন সংগ্রামের কোনো কর্মসূচি ছাড়াই সে’না ও পুলিশ ক্যাম্পে আকস্মিক হা’মলার ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। যার পরিণতিতে মিয়ানমার সে’নাবা’হিনী পুরো রো’হিঙ্গা সংখ্যালঘুর ও’পর ব’র্বরতা চা’লায়। হ’’ত্যা, নি’র্যাতন, আ’গুনে ঘরবাড়ি পুড়ানোর মুখে লাখ লাখ অ’সহায় রো’হিঙ্গা বাস্তুভিটা হা’রিয়ে পা’লিয়ে আসে বাংলাদেশে। যে স’ন্ত্রাসীগোষ্ঠী হা’মলা চা’লিয়েছিল তাদের বি’রুদ্ধে হুলিয়া রয়েছে মিয়ানমারে। তারা দেশে ফিরলেই আইনের আওতায় আসতে হবে। তাই এসব স’ন্ত্রাসীরা শা’স্তি এড়াতে দেশে ফিরতে রাজি নয়। আবার তাদেরও ফিরে যাওয়ার ভ’য়ে অন্য কাউকেও রাখাইনে ফিরতে বাঁ’ধা দিচ্ছে।

আরসার নি’র্যাতনের একটি কাহিনী
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এক সময় যে রো’হিঙ্গা নেতার সামনে বসা তো দূরের কথা দাঁড়ানোর সুযোগও হয়নি। এমন দাপুটে নেতার একজন সুন্দরী কন্যার ও’পর দৃষ্টি পড়ে এক আরসা সদস্যের। কালবিলম্ব না করেই বাস্তুচ্যুত ওই রো’হিঙ্গার সুন্দরী কন্যাকে এক রাতে অ’পহরণ করে নিয়ে যায় ইসলাম নামের এক আরসা সদস্য। আরসা সদস্য ইসলামের দলের কমান্ডার হচ্ছেন খালেদ ও সেকেন্ড কমান্ডার হাকিম। দীর্ঘ দেড় বছর পর তাকে উ’দ্ধার করা হয়। এমন একটি ভ’য়াল ঘটনার ব্যাপারে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি।

এমন ঘটনাটি ঘটে উখিয়ার বালুখালী শিবিরে। ওই রো’হিঙ্গা (অ’পহৃত মেয়ের বাবা) রাখাইন রাজ্যে ছিলেন একজন বড় মাপের নেতা। তিনিও বাস্তুচ্যুত হয়ে ২০১৭ সালে আশ্রয় নেন উখিয়ার শিবিরে। তিনি একটি এনজিওতে চাকরি নেন। তার বিবাহযোগ্য সুন্দরী কন্যার জন্য কানাডা প্রবাসী এক রো’হিঙ্গা যুবকের সঙ্গে কথাবার্তাও পাকা হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে ইসলাম নামের এক দুর্ধর্ষ আরসা সদস্যের নজরে পড়ে যায় সুন্দরী কন্যা। ২০১৯ সালের মার্চের এক রাতে সেই আরসা সদস্য অ’স্ত্রের মুখে বাবা-মার বুক থেকে ছি’নিয়ে নিয়ে যায় তাদের কন্যাকে।

অ’পহরণের পর হু’মকি আসে, একথা প্রকাশ করা হলে হ’’ত্যা করা হবে। কিন্তু ভাগ্যের নি’র্মম পরিহাস আরসার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে অ’পহরণকারী ইসলাম নি’হত হন। তাও অ’পহরণ ঘটনার দীর্ঘ দেড় বছর পর। অ’পহরণকারী নি’হত হওয়ার পর ২০২০ সালের জুলাই মাসে রাখাইনের সেই হতভাগ্য জনপ্রতিনিধি সেই রো’হিঙ্গা শিবির থেকেই উ’দ্ধার করতে সক্ষম হন তার হা’রানো কন্যাকে। রো’হিঙ্গা শিবিরে কর্মরত এক এনজিও স্বেচ্ছাসেবক শুক্রবার এমন ঘটনাটি জানিয়েছেন।

আরসার বিবৃতি
‘আরসা’ (আরাকান রো’হিঙ্গা স্যালভেশন আ’র্মি) নামের কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব নেই বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বার বার দাবি করে আসলেও সেই আরসাই এবার বিবৃতি নিয়ে প্রকাশ্যে আসা শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত দুই দিন ধরে সংগঠনটি বিবৃতি দিয়ে রো’হিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহর ব্যাপারে মুখ খুলেছে। এর আগে আর কোনোদিন আরসা নামের কোনো সংগঠনের প্যাডে এরকম বিবৃতি দেখা যায়নি।

শুক্রবার আরসা এক বিবৃতিতে রো’হিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হ’’ত্যাকাণ্ডের জন্য গভীর দুঃখ ও নি’ন্দা প্রকাশ করেছে। তারা এ ঘটনায় বিচারও দাবি করেছে। সেই সঙ্গে নি’হত মুহিব উল্লাহর পরিবারের প্রতি সমবে’দনা জানিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবারও অপর এক বিবৃতিতে হ’’ত্যাকাণ্ডে সংগঠনটি জ’ড়িত নেই বলে জানিয়েছিল। বিবৃতিতে কোনো নাম ধাম নেই তবে কমান্ডার ইন চীফ পরিচয়ে স্বাক্ষর, সীল ও প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে। সংগঠনের ঠিকানাও দেওয়া হয়নি।