প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে তোলপাড়, যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের ৭ জনকে শোকজ

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : অক্টোবর 1, 2021 09:56:04 অপরাহ্ন
0
42
views

সারাদেশ: সম্প্রতি স্থানীয় স’রকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের এক বক্তব্যের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে যশোর জে’লা রেজিস্ট্রি অফিসে। ‘রেট অনুযায়ী ঘুষ না দেওয়ায় ছেলের নামে একটি জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি’, প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর জে’লা রেজিস্ট্রার ও মণিরামপুর উপজে’লা সাব-রেজিস্ট্রারসহ সাতজনকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শো’কজ) দিয়েছে নিবন্ধন মহাপরিচালকের দপ্তর।

গতকাল বৃহস্পতিবার এ নোটিশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সং’সদ বি’ষয়ক ম’ন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন মহাপরিচালক (আইজিআর) শহিদুল ইসলাম ঝিনুক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন- যশোরের জে’লা রেজিস্ট্রার মো. শাহজাহান সর্দার, মণিরামপুর উপজে’লা সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজান আলী, মোহরার শামসুজ্জামান মিলন ও তরুণ কুমার, অফিস সহকারী শেখর চন্দ্র দে, পিওন সুশান্ত দাস এবং দলিল লেখক কামরুজ্জামান।

এর আগে গত বুধবার মোহরার শামসুজ্জামান মিলনকে মণিরামপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রত্যাহার করে বাঘারপাড়ায় বদলি আদেশ দেওয়া হয়। তবে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ভিন্ন কথা বলেছেন মনিরামপুর উপজে’লা সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজান আলী। তার দাবি, প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে যে অ’ভিযোগ করেছেন, বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি।

আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে বুধবার মনিরামপুরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, ‘সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। স’রকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার ফ্যাক্টরি করার জন্য আমি গত সপ্তাহে আমার ছেলের নামে একটি জমি রেজিস্ট্রি করতে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু দু’র্নীতির রেট অনুযায়ী টাকা দিতে না পারায় সেই জমি রেজিস্ট্রি হয়নি।’ প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার হলে শুরু হয় তোলপাড়। সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে এই ঘটনা।

মণিরামপুর উপজে’লা সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজান আলীর দাবি করেন, ‘প্রতিমন্ত্রীকে কেউ ভু’ল তথ্য সরবরাহ করায় তিনি হয়তো এমন বক্তব্য দিয়েছেন। প্রকৃত ঘটনা হলো, ইউনিয়ন পর্যায়ের জমি বেচাকেনার ক্ষেত্রে মোটমূল্যের সাড়ে ৬ শতাংশ টাকার পে-র্অডার রেজিস্ট্রির সময় জমা দিতে হয়। কিন্তু গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে পে-অর্ডার ছাড়াই মন্ত্রীপুত্র সুপ্রিয় ভট্টাচার্যের অনুকুলে দুইশ শতক (৬ বিঘা) জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য দলিল জমা দেওয়া হয়। ফলে পে-অর্ডারসহ দলিল জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। বিকেল ৫টায় পে-অর্ডার কপি জমা দিলে সিরিয়াল ভে’ঙে তৎক্ষণাৎ দলিলটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। এমনকি রেজিস্ট্রির দুই ঘণ্টার মধ্যে দলিলের নকলও (সার্টিফাইট কপি) সরবরাহ করা হয়।’

মোহরার শামসুজ্জামান মিলন বলেন, ‘সাধারণত দলিল রেজিস্ট্রির ১৫ দিনের আগে দলিলের নকল (সার্টিফাইট কপি) সরবরাহ করা হয় না। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর লোকজনের চা’পে নিয়মিত অন্যান্য কাজ বাদ রেখে দুই ঘণ্টার মধ্যে তাদেরকে নকল কপি সরবরাহ করতে বা’ধ্য হয়। এমনকি উপজে’লা ভূমি অফিসে নামপত্তনের জন্য ৩০ থেকে ৪৫ কার্যদিবস লেগে গেলেও মন্ত্রীপুত্রের দলিল রেজিস্ট্রির মাত্র তিনদিনের মধ্যে নামপত্তন করে দেওয়া লেগেছে। তাহলে এখানে দলিল রেজিস্ট্রি না করে দেওয়ার ঘটনা কীভাবে হলো? ’

এদিকে মণিরামপুর ভূমি ও রেজিস্ট্রি অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় রোহিতা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের ৮৪৫ নম্বর খতিয়ানের ৭৬, ৭৭, ৭৯ ও ৮৯ দাগের দুইশ শতক জমি প্রতিমন্ত্রী পুত্রের নামে গত ১৪ সেপ্টম্বর রেজিস্ট্রি করা হয়। যার রেজিস্ট্রি দলিল নম্বর ৭৬৭১। আর এ জমির নামপত্তনের জন্য উপজে’লা ভূমি অফিসে দাখিল করা কেস নম্বর ১২০১ (২০২১-২২)।

ওই জমির বিক্রেতা রোহিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, মন্ত্রীপর ছেলে শুভর (সুপ্রিয় ভট্টাচার্য) কাছে তিনি ৮০ লাখ টাকায় জমিটি বিক্রি করেছেন। তবে রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে দলিলমূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১৯ লাখ টাকা। এদিকে রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রীপুত্রের জমি রেজিস্ট্রির জন্য দলিল লেখক কামরুজ্জামানের সহকারী গৌতম ঘোষ বাপী দলিল জমা দিলে মোহরার মিলন সেটা সঠিক কিনা সেটা যাচাই করতে চাওয়ায় দুপক্ষের মধ্যে বি’রোধ বাধে। এরপর পে অর্ডার ছাড়া রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং তৎক্ষণাৎ নকল কপি সরবরাহ করা নিয়ে আরও ক্ষু’ব্ধ হন দলিল লেখকরা।