লুঙ্গি পরে পরীক্ষা দেয়ায় হাবিপ্রবির ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর 30, 2021 04:04:33 অপরাহ্ন
0
18
views

অনলাইন পরীক্ষায় লুঙ্গি পরে অংশগ্রহণের দায়ে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) তিন শিক্ষার্থীকে ওই পরীক্ষা থেকে বহিষ্কারের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ফুড প্রসেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০তম ব্যাচের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। এছাড়াও একই পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে আরও ২ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং আরেক শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট সময়ের আগে খাতা জমা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

লুঙ্গি পরার দায়ে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অসদুপায় অবলম্বন না করলেও তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, অনুষদের ডিন বলছেন, লুঙ্গি পড়ার অভিযোগে বহিষ্কার করার যে বিষয়টা সেটা মোটেও সত্য নয়, বরং পরীক্ষার হলে অসদুপায় এবং পরীক্ষার নিয়ম অনুসরণ না করার কারণে বহিষ্কার হয়েছে শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফুড অ্যান্ড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জেনারেল কেমিস্ট্রি কোর্সের (কোর্স কোড CHE-111) পরীক্ষা ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হওয়া ওই অনলাইন পরীক্ষার কয়েক মিনিটের মধ্যে ইম্প্রুভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা এক শিক্ষার্থীকে প্রথম বহিষ্কার করা হয়।

ওই পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে আমাকে ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ঠিক করতে বলা হয়। তখন ক্যামেরা ওপর-নিচ করার সময় আমার লুঙ্গি স্যারের দৃষ্টিগোচর হয়। তখন স্যার লুঙ্গি নিয়ে কথা তোলেন। এছাড়াও আমাকে স্যার কয়েকবার ডাকলে আমি না শোনায় স্যার আমাকে জুম মিটিং থেকে বের করে দেন এবং বহিষ্কার করেন। তার মিনিট দশেক পর বহিষ্কার করা হয় ২০তম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থীকে। তিনি জানান, আমি যেখানে বসে পরীক্ষা দিচ্ছিলাম তার পেছনে জানালা থাকায় আলো আসছিল।

আমার ফেস ক্যামেরায় সুন্দরভাবে দেখা যাচ্ছিল না। তখন স্যার আমাকে জানালায় পর্দা দিতে বললে আমি উঠে যাই। জানালা বন্ধ করার সময় স্যার আমার লুঙ্গি দেখতে পান। তারপর ড্রেসকোডের কথা তুলে স্যার আমাকে জুম থেকে বের করে দেন। আমি পরে স্যারকে কল দিলে স্যার বলেন যে আমি বহিষ্কার হয়েছি। এছাড়া আরেক শিক্ষার্থী আরো জানান, আমার আগে একজনকে (ফাহাদ) বহিষ্কার করা হয়েছিল, সেও লুঙ্গি পরা ছিল। আমিও যেহেতু লুঙ্গি পরা ছিলাম তখন আগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর সাথে যেন বেইনসাফি না হয় বলে আমাকেও বহিষ্কার করা হয়।

লুঙ্গি পরার দায়ে বহিষ্কৃত আরেক শিক্ষার্থী ২০ ব্যাচের। তিনি জানান, তিনি পরীক্ষা চলাকালীন ক্যামেরার বাইরে তাকাচ্ছিলেন। যার ফলে তাকে রুমের চারপাশ দেখাতে বলা হয়। যখন তিনি চারপাশ দেখান তখন তার পরনের লুঙ্গিও দৃষ্টিগোচর হয় এবং তাকেও জুম মিটিং থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন সরকারকে কল করলে তিনি এর দেখভালের দায়িত্ব পরীক্ষা সুপারভাইজারের বলে জানিয়ে দেন। পরে সুপারভাইজারকে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন।

কিন্তু তাকে কনভিন্স করা সম্ভব হয়নি। এরপর তাকে আরো ১০ বার কল দিলেও তিনি ধরেননি এবং নম্বরটি ব্লক করে দেন। পরে তিনি তার মায়ের নম্বর থেকে কল করলে সুপারভাইজার কল ধরেন এবং পরিচয় জানতে পারার পর তাকে শাসিয়ে বলেন, আর একবার কল দিলে এক সাবজেক্টে বহিষ্কার না করে পুরো সেমিস্টারের জন্যে বহিষ্কার করায় দেওয়া হবে। এদিকে ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আরও তিনজন শিক্ষার্থী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রথমে একজনকে বহিষ্কার করা হয়। তখন আমি ভালো করে খেয়াল করিনি, তখন লিখছিলাম। তার একটু পরেই আরেকজনকে বহিষ্কার করা হয়। ওই সময় চেয়ারম্যান স্যার জুমের ব্রেকআউট রুমে প্রবেশ করলে ইনভিজিলেটর চেয়ারম্যান স্যারকে জিজ্ঞাসা করেন, স্যার, এই ছেলে তো লুঙ্গি পড়ে পরীক্ষা দিচ্ছে, তো একে কী করবো? তখন চেয়ারম্যান স্যার বলেন, একে জুম থেকে রিমুভ করে দাও, রিমুভ না করলে এদের শিক্ষা হবে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরীক্ষার একজন সুপারভাইজার ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শিহাবুল আউয়াল বলেন, তারা আমাদের সহযোগিতা করছিল না এবং আমরা যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছিলাম তারা সেটা সেভাবে অনুসরণ করেনি। বরং আমাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়েছিল। এরপরও আমরা তাদের সতর্ক করে দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের নির্দেশনা অনুসরণ না করায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছি।

তবে লুঙ্গি পরার দায়ে তিনজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, লুঙ্গি পরার দায়ে বহিষ্কার করা হলে আমরা আরও অনেককেই বহিষ্কার করতে পারতাম। লুঙ্গি পরার জন্য তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট কথা। তবে আমরা পরীক্ষা শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের শালীন এবং মার্জিত পোশাক পড়তে বলি। লুঙ্গির পরিবর্তে আমরা প্যান্ট অথবা ট্রাউজার পড়তে অনুরোধ জানাই শিক্ষার্থীদের। তবে লুঙ্গি পড়ার জন্য ওই তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এটা সঠিক নয়।

তবে যেসকল শিক্ষার্থীকে এক বিষয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে তারা পরীক্ষা দিতে চাইলে ডিন বা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করতে পারে বলে জানান অধ্যাপক মো. শিহাবুল আউয়াল। এ ব্যাপারে জানতে ফুড সাইন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ওই পরীক্ষার প্রধান সুপারভাইজার সহযোগী অধ্যাপক ড. এন.এইচ.এম রুবেল মজুমদারের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি অনুষদীয় ডিন এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

অনলাইন পরীক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী এসব শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা সঠিক হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. সাইফুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উল্লেখ্য, করোনা মহামারির ফলে সৃষ্ট সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে চলতি বছরের ৪ আগস্ট থেকে অনলাইন পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করে হাবিপ্রবি। সুত্রঃ কালের কণ্ঠ