‘অ’বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক’ প্রমাণে যে শা’স্তি হতে পারে নাসির-তামিমার

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর 30, 2021 12:33:50 অপরাহ্ন
0
38
views

আইন ও বিচার: ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানা তাম্মীর বিয়ে অ’বৈধ বলে আ’দালতে ত’দন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পিবিআই। সেই প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মী এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে দোষি উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নাসির তামিমার সঙ্গে ‘অ’বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক’ স্থাপন করেছেন।

যে কারণে এই ৩ জনের শা’স্তির সুপারিশ করেছেন মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা। তাদের বি’রুদ্ধে দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী কি শা’স্তি হতে পারে তা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মা’মলার ত’দন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার বি’ষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই’র প্রধান (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুম’দার। এ সংক্রান্তে পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট আরটিভি নিউজের হাতে এসেছে। যে ত’দন্ত প্রতিবেদন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আ’দালতে (সিএমএম) জমা হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার সকালেই।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে স্বল্প পরিসরে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছিলেন নাসির-তামিমা। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উভ’য়ের পরিবারের লোকজন এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এরমধ্যে ওই অনুষ্ঠানে তামিমার মা সুমি আক্তারকে ড্যান্স দিতেও দেখা গিয়েছিলো, যা ইউটিউবে দৃশ্যমান।

অ’বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক, আইনে যে শা’স্তি

মু’সলিম আইন অনুযায়ী, ‘এ রকম বিয়ে বৈধ বলে গণ্য হবে না। এই বিয়ে বাতিল বা অ’বৈধ বিবাহ বলে গণ্য হবে।’

এ বি’ষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান আরটিভি নিউজকে বলেন, ‘অন্য কারো সঙ্গে বিয়ে করতে চাইলে প্রথমে তাকে ডি’ভোর্স নিতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় অতিক্রমের পর সেই নারী বিয়ে করতে পারবে। চাইলেই ডি’ভোর্সের পরদিনই বিয়ে করতে পারবে না। এটা শা’স্তিযোগ্য অ’পরাধ।’

১৮৬০-এর ৪৯৩ থেকে ৪৯৮ ধারা পর্যন্ত এ বি’ষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ আইনের ৪৯৪ ধারা অনুসারে, স্বামী বা স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় পুনরায় বিয়ে করা শা’স্তিযোগ্য অ’পরাধ। উক্ত ধারা মোতাবেক, স্বামী বা স্ত্রী বর্তমান থাকাবস্থায় পুনরায় বিয়ে করলে, তা সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য হবে। এবং এই অ’পরাধ প্রমাণিত হলে, প্র’তারণাকারী স্বামী বা স্ত্রী ৭ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং অর্থদন্ডেও দন্ডিত হবে।

তবে, এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। যদি স্বামী বা স্ত্রী ৭ বছর পর্যন্ত নিরুদ্দেশ থাকেন এবং জীবিত আছে মর্মে কোন তথ্য না-পাওয়া যায়। এমন পরিস্থিতিতে পুনরায় বিয়ে করলে তা অ’পরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। এছাড়া কোন স্বামী বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীগণের অনুমতি নিয়ে বিশেষ কোন কারণ দেখিয়ে বিশেষ কোন পরিস্থিতিতে সালিসি পরিষদের কাছে আবেদন করলে সালিসি পরিষদ তা যাচাই সাপেক্ষে, পরবর্তী বিয়ের অনুমতি দিতে পারে। সেক্ষেত্রে পুনরায় বিয়ে অ’পরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

আগের বিয়ের কথা গো’পন রেখে, প্র’তারণার মাধ্যমে যদি পুনরায় বিয়ে করে তবে যাকে প্র’তারণা করে বিয়ে করা হল- তিনি অ’ভিযোগ করলে তা ৪৯৫ ধারা মোতাবেক শা’স্তিযোগ্য অ’পরাধ। এই ধারায় অ’পরাধ প্রমাণিত হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে। আবার কেউ জেনে শুনে, অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করলে উক্ত বিয়ে দ’ণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা মোতাবেক সম্পূর্ণ বাতিল বিয়ে। এক্ষেত্রে, তা দন্ডবিধির ৪৯৭ ধারা মোতাবেক ব্যভিচার হিসেবে শা’স্তিযোগ্য অ’পরাধ। অ’পরাধ প্রমাণ হলে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড হতে পারে।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সাধারণতঃ ডি’ভোর্স কার্যকর হতে ৩ মাস সময় লাগে। তাই শুধু ডি’ভোর্স দিলেই হবে না। ডি’ভোর্স কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় বিয়ে করার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট মা’মলার বা’দী ব্যবসায়ী রাকিব হাসান ও তামিমা তাম্মীর সংসারে ৮ বছরের একটি কন্যাস’ন্তান রয়েছে। আর সেই স্বামী-স’ন্তানকে ফে’লে এসে নাসিরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন তামিমা। রাবিক বলছেন, তামিমার সঙ্গে ১১ বছরের দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তামিমা তাকে তা’লা’ক না দিয়েই ক্রিকেটার নাসিরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

রাকিব হাসান আরও বলেন, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে তামিমার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর অনেক বছর তামিমার পক্ষের কোনো আত্মীয়স্বজনের দেখা পাইনি। বছরচারেক আগে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋ’ণ নিয়ে তামিমাকে সৌদি এয়ারলাইন্সে চাকরি পাইয়ে দিই। এই চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সে (তামিমা) বদলে যেতে থাকে।