‘নিজ দেশে ফিরতে চাওয়ায়’ প্রা’ণ গেল মুহিবুল্লাহর

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর 30, 2021 12:10:24 অপরাহ্ন
0
30
views

সারাদেশ: রো’হিঙ্গা ক্যাম্পে ‘মাস্টার মুহিবুল্লাহ’ নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। মিয়ানমার ছেড়ে আসার আগে সেখানকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন বলেই এমন নাম তার। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ববাসীর নজরে এসেছিলেন তিনি। সে সময় গণহ’’ত্যা বি’রোধী একটি সমাবেশে নাগরিত্ব প্রদান, নিরাপত্তা, রাখাইনে ফে’লে আসা জন্মভিটা ফেরতসহ কয়েকটি দাবি পূরণ না হওয়ায় রো’হিঙ্গারা মি’য়ানমারে ফিরে যাবে না বলে হুঁ’শিয়ারি দিয়েছিলেন মুহিবুল্লাহ।

মুহিবুল্লাহ ‘আরাকান রো’হিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)’ নামের একটি সংগঠন তৈরি করেছিলেন। যেটির চেয়ারম্যানও করা হয় তাকে। মি’য়ানমারে রো’হিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন তিনি। আর এই কারণেই খু’ন করা হয়েছে তাকে, এমনটাই দাবি স্বজনদের।

এ ব্যাপারে মুহিবুল্লাহর মেঝভাই হাবিবুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মি’য়ানমার সে’না বাহিনীর নি’র্যাতনের কারণে প্রা’ণ বাঁচাতে মুহিবুল্লাহসহ তারা ৩ ভাই পরিবার নিয়ে পালিয়ে উখিয়ায় চলে আসেন। তাদের পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও ৯ স’ন্তান। যার মধ্যে মেয়ে রয়েছে ৫ জন ও ছেলে রয়েছে ৪ জন।

বাংলাদেশে আসার পর বিশ্বের নানাপ্রান্ত থেকে আসা জাতিসংঘ, বিভিন্ন রাষ্ট্রের নেতা ও বাংলাদেশে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রো’হিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতো মুহিবুল্লাহ। সবার পক্ষে হয়ে কথা বলার কারণে সবাই মুহিবুল্লাহকে নেতা বলে মেনে নিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রো’হিঙ্গাদের নেতা হওয়া ও মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্য কথা বলার জন্যই তার ভাইকে হ’’ত্যা করা হয়েছে বলে দাবি মুহিবুল্লাহর মেঝভাই হাবিবুল্লাহর।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার নিজ অফিসেই হা’মলার স্বীকার হন এই রো’হিঙ্গা নেতা। গায়ে গু’লি লেগেছে ৪টি। বুকে ৩টি ও হাতের বাহুতে একটি। প্রথমে ব্লকের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃ’ত ঘোষণা করেন। গতকাল দিবাগত রাত ২টার দিকে মুহিবুল্লাহ মৃ’তদেহ ময়নাত’দন্তের জন্য কক্সবাজার জে’লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন তার মেঝ ভাই হাবিবুল্লাহ, ছোট ভাই আহম্ম’দ উল্লাহ ও মুহিবুল্লাহর প্রতিবেশী নুরুল আমিন।

এর আগে, ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই রো’হিঙ্গাদের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে তৎকালীন মা’র্কিন প্রে’সিডেন্ট ডোনান্ড ট্রা’ম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় এসেছিলেন মুহিবুল্লাহ। সে সময় তিনি মা’র্কিন প্রে’সিডেন্টকে বলেছিলেন, ‘আমরা (রো’হিঙ্গারা) দ্রুত মি’য়ানমারে ফিরে যেতে চাই। এ বি’ষয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাই।’

এছাড়া, তিনি জেনেভায় জাতিসংঘের মা’নবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মি’য়ানমারে রো’হিঙ্গা গণহ’’ত্যার বি’ষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট উখিয়ার কুতুপালং শিবিরের ফুটবল মাঠে কয়েক লাখ রো’হিঙ্গার গণহ’’ত্যাবি’রোধী যে মহাসমাবেশ হয়েছিল, তা সংগঠিত করেছিলেন মুহিবুল্লাহ। গণহ’’ত্যাবি’রোধী ওই সমাবেশ বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল।