রো’হিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হ’’ত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর 30, 2021 11:36:32 পূর্বাহ্ন
0
45
views

সারাদেশ: কক্সবাজারের উখিয়া রো’হিঙ্গা ক্যাম্পে শীর্ষ নেতা মোহাম্ম’দ মুহিবুল্লাহ নি’হত হওয়ার পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে হ’’ত্যার লোমহর্ষক ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স’ন্ত্রাসীরা কোনো সুযোগই দেয়নি মুহিবুল্লাহকে। পাঁচ রাউন্ড গু’লি করলে তিন রাউন্ড গু’লি সরাসরি তার বুকে লাগে। এতে তার মৃ’ত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নি’হতের স্বজনরা জানান, এশার নামাজের পর ক্যাম্পে নিজ অফিসে বসা ছিলেন মুহিবুল্লাহ। এ সময় অ’জ্ঞাতনামা’রা তাকে লক্ষ্য করে গু’লি ছো’ড়ে। পরে তাকে এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃ’ত ঘোষণা করেন। মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, উখিয়া কুতুপালংয়ের লম্বাশিয়া ক্যাম্পে এশার নামাজ শেষ করে আরাকান রো’হিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর অফিসে অবস্থানকালে একটি ব’ন্দুকধারী দল আমার ভাইয়ের ও’পর ঝাপিয়ে পড়ে।

ওই অফিসে কর্মরত অন্যান্যদের মা’রধর করে ছেড়ে দিলেও ভাইয়ের বুকে গু’লি চা’লায় মাস্টার আবদুর রহিম নামে এক স’ন্ত্রাসী। ব’ন্দুকধারীদের এ দলে মাস্টার আব্দুর রহিম, মুর্শিদ, লালুসহ ২০ থেকে ২৫ জন ছিল। তিনি আরও বলেন, রো’হিঙ্গাদের যেকোনো স’মস্যা সমাধানের জন্য আমার ভাই এগিয়ে আসতেন। তাদের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছিলেন। শুধু এখানে নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও আমার ভাইয়ের পরিচিতি ছিলও। হয়তো সেই যাত্রা বা’ধাগ্রস্ত করতে এ হা’মলা এবং তাকে হ’’ত্যা করেছে স’ন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু ত’দন্ত করে ঘা’তকদের শা’স্তির দাবি জানান তিনি।

এর আগে, বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পে গু’লি করে হ’’ত্যা করা হয় এই আলোচিত রো’হিঙ্গা নেতাকে। আর্মড পুলিশ ব্যা’টালিয়নের (৮ এপিবিএন) পুলিশ সুপার (এসপি) শিহাব কায়সার খান প্রাথমিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুহিবুল্লাহর লা’শ কক্সবাজার জে’লা সদর হাসপাতালের ম’র্গে আনার পর ময়না ত’দন্ত সম্পন্ন করা হয়। লা’শের সাথে ছিলেন নি’হতের ভাই হাবিবুল্লাহ, চাচাত ভাই নুরুল আমিনসহ স্বজনরা।

মুহিবুল্লাহ আরাকান রো’হিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট রো’হিঙ্গা শিবিরে মহাসমাবেশ করে আলোচনায় আসেন মুহিবুল্লাহ। একই বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রে’সিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা’ম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১৭ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদা’য়ের যে ২৭ জন প্রতিনিধি অ’ভিযোগ দেন মুহিবুল্লাহ ছিলেন তাদের একজন। এদিকে এই হ’’ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রো’হিঙ্গা জ’ঙ্গি সংগঠন আরসাকে দায়ী করেছে স্বজনরা।

রো’হিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বি’ষয়ে ইতোপূর্বে মুহিবুল্লাহ নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তাছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে বাংলাদেশ স’রকারসহ এনজিও, আইএনজিও এবং বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে আসছিলেন এই নেতা। তার এই ভূমিকার বি’রুদ্ধে অবস্থান নেয় রো’হিঙ্গা ভিত্তিক জ’ঙ্গি সংগঠন আরসাসহ অন্যান্য গ্রুপগুলো। এর ধারাবাহিকতায় তাকে খু’ন করা হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রো’হিঙ্গা ক্যাম্পগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জো’রদার করা হয়েছে। এপিবিএন পুলিশ কুতুপালংসহ অন্যান্য ক্যাম্পগুলোতে টহল দিচ্ছে।