এখনো আ’তঙ্ক কাটেনি স্কুলছাত্রী নিছার!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর 28, 2021 10:41:56 পূর্বাহ্ন
0
30
views

সারাদেশ: প্রথমে একজন পেছন থেকে মুখ চে’পে ধরেন। এরপর পাঁচজন মিলে হাত পা বাঁধেন। তারপর ধা’রালো অ’স্ত্র দিয়ে কা’টা হয় দুই হাতের তালু। একটি বস্তা ভরে চা’লানো হয় শারিরীক নি’র্যাতন। পরিকল্পনা করা হয় রাত দুইটায় হ’’ত্যা করে গু’ম করা হবে লা’শ। তবে ভাগ্যগুণে বেঁচে গেলেও এখনো আ’তঙ্ক কাটেনি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজে’লার নুরনগর গ্রামের বাসিন্দা স্কুলছাত্রী নিছা আক্তারের। মৃ’ত্যুকে এত কাছ থেকে দেখায় মা’নসিকভাবেও ভে’ঙে পড়েছে নিছা। আ’তঙ্কে রয়েছে পরিবারটিও।

এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর নানা আব্দুল মালেক বেপারী প্রতিবেশি সামসুন্নাহার গংদের বি’রুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় মা’মলা করেছে। তবে এখনো কোন আসামী গ্রে’প্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারটি। ঘটনার পর থেকেই অ’ভিযুক্তরা প’লাতক রয়েছে। কি ঘটেছিল সেদিন? এমন প্রশ্ন অনেকের। নিছা কিছুটা সুস্থ হয়ে এখন বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিডি২৪লাইভকে নিছা খুলে বলেছেন সেদিনের ঘটনা। তার ভাষ্য হুবাহু তুলে ধরা হলো:

১৬ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। সন্ধ্যা তখন সারে ৬টা বা পৌনে ৭টা। আমি পড়তে বসেছিলাম। তখন আমার কলমের খালি শেষ হয়ে যায়। আমি আমার মেঝ মামির ঘর থেকে কলম আনার জন্য আমাদের ঘর থেকে বের হই। তখন ঘরের বাহিরে অন্ধকার ছিল। বের হয়ে আমি জুতা খুঁজতেছিলাম। হঠাৎ একজন পুরুষ পেছন দিক থেকে আমার মুখ চে’পে ধরছে। তাকে আমি অন্ধকারে দেখি নাই। এসময় সালমা আক্তার আমার পা ধরছে, তাকে আমি চিনতে পেরেছি। তারা ধরে যখন আমাকে নিয়ে যাচ্ছিল তখন আমি মামী বলে চি’ৎকার দেই। সঙ্গে সঙ্গে তারা ওড়না দিয়ে আমার মুখ বেঁ’ধে ফে’লে। আামাকে জো’র করে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। এসময় সালমার মা সামসুন্নাহারও আমাকে জাপটে ধরে। ভিতরে নেওয়ার পর সেখানে আরো দুইজন ছিল। রশি দিয়ে চায়না ও আরো একজন আমার পা বেঁ’ধে ফে’লে। তখন সামসুন্নাহার আমার হাত কাটে আর বলে ওকে (নিছার ছোট মামীকে) তো পাইলাম না, এখন ওকেই শেষ করবো। মা’রতে চাইছিল আমার ছোট মামীকে। হাত কা’টার পর আমাকে শক্ত করে বেঁ’ধে বস্তায় ভরে অনেক মা’রধর করেছে করেছে। যতক্ষণ জ্ঞান ছিল ওরা আমাকে মে’রেছে’ কথাগুলো বলতে বলতে কা’ন্নার ভে’ঙে পড়েন নিছা।

এরপরের ঘটনা আরো ভ’য়ংকর। কিছুটা থেমে নিছা বলতে থাকেন তার পরের ঘটনা। ‘বস্তায় ভিতরেই বারবার মা’রধর করতে থাকে আমাকে। এরপর ওরা আমাকে জ’বাই করতে চাইছিল। তখন একটা ফোন আসে ওদের মোবাইলে। এপাশ থেকে বলে ‘হ্যা, ভাই বলেন? তখন ফোনে লাউড স্পিকার দেওয়া ছিল। মোবাইলের ঐ পাশ থেকে লোকটা বলে, এখন না রাত দুইটার সময় আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিব। ওর কাজ শেষ করে ফেলো, ওকে জ’বাই করে,,,” এরপর আর আমি জানি না। জ’বাই করার কথা শুনেই আমি জ্ঞান হা’রিয়ে ফেলি।

এসময় নিছা আরো বলেন, যখন আমাকে বস্তায় ভরা হয় তখন আমার আর বেঁচে থাকার আশা ছিল না। আর যখন শুনলাম জ’বাই করা হবে, তখন আমি আর জানি না আমি কোন দুনিয়ায় ছিলাম। আমি এখন ঘুমাতে পারি না, ঘুমালেই মনে হয় ওরা আমাকে জ’বাই করে ফেলবে। আমি ওদের বিচার চাই।

নিছার মেজো মামী জানান, আগেরদিন ওরা নিছাকে মা’রধর করেছিল। যখন নিছাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তখন স্থানীয়দের সহযোগিতায় সামসুন্নাহারদের রান্নাঘর থেকে হাত-পা বাঁ’ধা বস্তাব’ন্দি অবস্থায় তাকে উ’দ্ধার করা হয়। চিকিৎসা নিয়ে বাসায় এলেও আ’তঙ্কে এখনো নির্ঘুম রাত কাটে নিছার। তাদের সাথে সামসুন্নাহারদের কিছু বি’রোধ রয়েছে বলে জানান তিনি। নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মৃ’ত্যুঞ্জয় কির্তুনীয়া জানান, আসামীদের গ্রে’প্তারে পুলিশের অ’ভিযান অব্যাহত রয়েছে।