শম্পাকে মেরে তারই বাবার ট্রাঙ্কে ঢাকা পাঠিয়েছিলেন প্রেমিক!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর 26, 2021 08:36:41 অপরাহ্ন
0
19
views

২০১৫ সালের ৩ মে। ওই দিন গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে ঈগল পরিবহনের একটি বাসের ট্রাঙ্কে মেলে এক ত’রুণীর দেহ। পরে অ’জ্ঞাতনামা এক নারীর লা’শ উ’দ্ধার করে দারুস সালাম থানা পুলিশ। ঈগল পরিবহনের বাসটি ছিল চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের। তখন নি’হত ত’রুণীর নাম-পরিচয় খুঁজে না পেয়ে অ’জ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়। এই ঘটনায় দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহানুর আলী বা’দী হয়ে অ’জ্ঞাত নাম উল্লেখ করে ওই দিনই একটি মা’মলা দা’য়ের করেন।

এই মা’মলাটি দারুস সালাম থানা পুলিশ তিন মাস ত’দন্ত করে। পরে ত’দন্তভার পুলিশের অ’পরাধ ত’দন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দেওয়া হয়। দীর্ঘ চার বছর ত’দন্ত করে সিআইডি। কিন্তু লা’শের পরিচয় শনাক্ত এবং হ’’ত্যা র’হস্য কোনোটাই উদঘাটন করতে পারেনি কেউ। মা’মলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট (ফাইনাল রিপোর্ট) আ’দালতে দাখিল করে ত’দন্ত সংস্থা সিআইডি।

দুই বছর ত’দন্তের পর অ’জ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্তসহ ঘটনার র’হস্য উন্মোচন ও হ’’ত্যাকাণ্ডে জ’ড়িত এক আ’সামিকেও গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে আজ শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান বনজ কুমার মজুম’দার। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ছয় বছর আগে গাবতলী বাস টার্মিনালে পাওয়া লা’শটি চট্টগ্রাম থেকে নি’খোঁজ হওয়া শম্পা বেগমের (২৮)। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনার দৌলতপুরে।

এ ঘটনায় জ’ড়িত থাকার অ’ভিযোগে গতকাল শুক্রবার কুমিল্লার ইপিজেড এলাকা থেকে রেজাউল করিমকে (৩৮) গ্রে’প্তার করে পিবিআই। রেজাউলের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ইপিজেড এলাকায়।

b
নি’হত এই নারীকে শ্বা’সরো’ধ করে হ’’ত্যার পর চট্টগ্রাম থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাসের ট্র্যাঙ্কে তুলে দেওয়া হয়েছিল। আ’সামি হ’’ত্যার দায় স্বীকার করে আ’দালতে ১৬৪ ধারার স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

ত’দন্তকালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানায় ২০১৫ সালের ৬ জুন দা’য়ের করা একটি নি’খোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জি’ডি)র সূত্র ধরে ভু’ক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত ও হ’’ত্যাকারীকে গ্রে’প্তার করে পিবিআই।

প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে রেজাউল পুলিশকে বলেন, তিনি ওই সময় নৌবাহিনীর করপোরাল (এখন অবসরে) পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১৩ সালে খুলনা তিতুমীর নৌঘাঁটিতে কর্মরত থাকাকালীন একটি হাসপাতালে শম্পার সঙ্গে পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরেই তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। রেজাউল চট্টগ্রামে বদলি হয়ে আসার পর শম্পাও সেখানে চলে আসেন। শম্পা কিছুদিন ফুফুর বাসা এবং একটি হোটেলে অবস্থান করেন। এরপর পাহাড়তলীতে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে রেজাউলের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

তাঁরা ২০১৫ সালের মে মাস পর্যন্ত ওই বাসাতে বসবাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বি’ষয় নিয়ে মনোমালিন্য দেখা দিলে ২০১৫ সালের ২ মে রাতে শম্পার গ’লায় ওড়না পেঁ’চিয়ে হ’’ত্যা করেন রেজাউল। ঘটনা ধা’মাচা’পা দিতে ট্রাংকে ভরে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাসে তুলে দেন শম্পার লা’শ। এরপর তিনি শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখকে জানান, শম্পাকে খুলনার বাসে তুলে দেওয়া হয়েছে। শম্পা বাবার বাড়িতে না পৌঁছলে তাঁরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান ও ডিআইজি বনজ কুমার মজুম’দার বলেন, ওই দিন সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামে কে খান মোড়ে ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে টিকেট কে’টে একজন ব্যক্তি একটি ট্রাঙ্কে তুলে দেন বাসের বক্সে। বাসের হেলপারকে বলেন, সামনের ভাটিয়ারী কাউন্টার থেকে ওই টিকে’টের যাত্রী উঠবে। কিন্তু পরের ওই কাউন্টার থেকে যাত্রী না ওঠায় বাসটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা করে এবং বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে বাসটি গাবতলী এসে পৌঁছায়। এরপর বাসের সব যাত্রী তাদের জিনিসপত্র নিয়ে নেমে যায়। ট্রাঙ্কটি দেখতে পান বাসের হেলপার।

তখন বাসের ড্রাইভার-হেলপার মিলে ট্রাঙ্কটি নামিয়ে দেখে এটি খুব ভারী। তাদের স’ন্দেহ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে দারুস সালাম থানায় খবর দিলে থানা পুলিশ এসে ট্রাঙ্কটি খুলে একজন অ’জ্ঞাতনামা নারীর লা’শ দেখতে পান। লা’শের সু’রতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ম’য়নাত’দন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

পিবিআই জানায়, মা’মলার ত’দন্তের শুরুতে চট্টগ্রাম মহানগর এবং জে’লা এলাকার সব থানায় ২০১৫ সালে নি’খোঁজ জি’ডিগুলোর অনুসন্ধান শুরু করে পিবিআই। ত’দন্তকারী কর্মকর্তা এক সপ্তাহ চেষ্টা করে ওই সময়ের কাছাকাছি প্রায় ১০–১২টি নি’খোঁজ জি’ডির তথ্য পান। পিবিআই পাহাড়তলী থানার একটি জি’ডির সূত্রে জানতে পারেন, শম্পা বেগম ৩ মে থেকে নি’খোঁজ। ত’দন্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত হন দারুস সালাম থেকে উ’দ্ধার হওয়া লা’শটি শম্পার। যে ট্রাংকে শম্পার লা’শ পাওয়া গেছে, সেটি তাঁর বাবা ইলিয়াস শেখের।

পিবিআই প্রধান বলেন, পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ইউনিটের ত’দন্তকারী কর্মকর্তারা অ’জ্ঞাত নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে সব ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। এরপর চট্টগ্রাম শহর ও জে’লা এলাকার সব থানায় ২০১৫ সালে নি’খোঁজ জি’ডির অনুসন্ধান শুরু হয়। সেখানে ১০-১২টি নি’খোঁজ জি’ডির তথ্য উদঘাটন করা হয়।

জি’ডিগুলোর মধ্যে ২০১৫ সালের ১০ জুন তারিখের একটি ৫৯৯ নম্বর জি’ডিতে দেখা যায় শম্পা বেগম চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে নি’খোঁজ হন। ওই ঘটনায় নি’হত শম্পা বেগমের ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান পাহাড়তলী থানায় জি’ডিটি করেন।