প্রেমের টানে স্বামীর ঘর ছেড়ে বিয়ের ৫ মাস না যেতেই লাশ হলেন লামিয়া

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর 26, 2021 02:33:31 অপরাহ্ন
0
41
views

প্রেমের টানে স্বামীর ঘর ছেড়েছিলেন ১৯ বছরের লামিয়া। বিয়ে করেছিলেন কাঙ্ক্ষিত প্রেমিককে। তারপর সাবলেট বাসায় শুরু হলো টোনাটুনির সংসার। স্বামী হৃদয় গ্যারেজে গাড়ির পেইন্টিংয়ের কাজ করেন। আর হাস্যোজ্জ্বল লামিয়ার সময় কাটে টিকটক ভিডিও বানিয়ে। সুখের সংসারই বলতে হবে। কিন্তু পাঁচ মাস যেতে না যেতেই হঠাৎ তাদের বাসা থেকে ভেসে এলো পচা দুর্গন্ধ।

সেদিন লামিয়ার বোন মাকসুদা আক্তার গ্রাম থেকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় এসেছিলেন। একের পর এক ফোন করে লামিয়া-হৃদয়ের কাউকেই না পেয়ে ঢুঁ মা’রেন বাসায়। দেখেন বাসা তালাবদ্ধ। এরপর পুলিশ এসে দরজা ভাঙতেই দেখা গেল, গ’লায় ওড়না পেঁ’চিয়ে ফাঁ’স লাগানো লামিয়ার অ’র্ধগলিত ম’রদেহ ঝুলছে ফ্যানের সঙ্গে।

যেদিন লামিয়ার ম’রদেহ উ’দ্ধার করে পুলিশ, সেদিন ছিল ২২ সেপ্টেম্বর। সু’রতহাল শেষে ময়নাত’দন্তের জন্য লামিয়ার অ’র্ধগলিত ম’রদেহ যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ম’র্গে পড়ে আছে, তখন তার প্রেমিক থেকে জীবনসঙ্গী হওয়া হৃদয় লা’পা’ত্তা। ফলে লামিয়ার বড় বোন মাকসুদা আক্তার বা’দী হয়ে আত্মহ’’ত্যার প্ররোচনার অ’ভিযোগে হৃদয় ফকিরের বি’রুদ্ধে মা’মলা করেন (মা’মলা নম্বর ২৪)। হৃদয়কে এখন খুঁজছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রামপুরা থানা পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

থানা পুলিশ সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রামপুরার একটি বাসায় সাবলেট ওঠে লামিয়া-হৃদয় ফকির। জামতলা পানির পাম্পের পাশের ওই বাড়ির নাম্বার ১৩৮/৪/৫/এ। এর চার তলায় ছিল লামিয়া-হৃদয়ের সংসার।

পুলিশ জানায়, ওই বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। ২২ সেপ্টেম্বর দরজা ভে’ঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ঝু’লন্ত অবস্থায় লামিয়ার অ’র্ধগলিত ম’রদেহ উ’দ্ধার করে পুলিশ। সু’রতহাল শেষে ময়নাত’দন্তের জন্য ম’রদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ম’র্গে পাঠানো হয়।

ভু’ক্তভোগী লামিয়ার পরিবার ও পুলিশের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, হৃদয় ফকিরের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনিতে। তিনি রামপুরার বাসার পাশেই একটি গ্যারেজে গাড়ির পেইন্টিংয়ের কাজ করতেন। আর লামিয়া ছিলেন গৃহিণী। বিশেষ পড়াশোনা জানা না থাকলেও হাস্যোজ্জ্বল লামিয়া মোবাইলে টিকটিকে ভিডিও তৈরি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জে’লার শ্রীনগরের খোরখোলা গ্রামে। বাবার নাম শেখ মোমেদ।

ম’রদেহ উ’দ্ধার ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক ইয়াকুব আলী জানান, ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ ছিল। দরজা ভে’ঙে ভেতর ঢুকে ওই ত’রুণীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝু’লন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দেহে পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, লা’শ উ’দ্ধারের তিন থেকে চার দিন আগে তার মৃ’ত্যু হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বাসাটিতে স্বামী-স্ত্রী থাকতেন। তারা দুজনে একটি মোবাইল ব্যবহার করতেন। ম’রদেহের পাশেই সেটি পড়ে ছিল। খবর পেয়ে স্বজনরা বাসায় এসেছিলেন।

লামিয়ার বড় বোন মাকসুদা আক্তার বলেন, লামিয়ার প্রথম বিয়ে হয়েছিল পরিবারের ইচ্ছায়। নিজের ইচ্ছায় কয়েক মাস আগে হৃদয়কে বিয়ে করেছিল লামিয়া। তারপর রামপুরায় সংসার শুরু করে। ২১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য গ্রাম থেকে আমি ঢাকায় আসি। হৃদয় ও লামিয়ার মোবাইলে বারবার ফোন দেই। কিন্তু কেউ ধরে না। তাদের বাসায় গিয়ে দেখি সেটি তালাবদ্ধ। পরে অন্য এক স্বজনের বাসায় উঠি। পরে খবর পাই, বাসার ভেতরে আমার বোনের ম’রদেহ ঝুলছে। পুলিশ এসে উ’দ্ধার করেছে।

মাকসুদার অ’ভিযোগ, হৃদয় তার বোনকে হ’’ত্যা করে ঘটনা ভিন্ন দিকে নিতে ফ্যানের সঙ্গে ঝু’লিয়ে পা’লিয়েছে। তাকে গ্রে’ফতার করলেই সব র’হস্য বের হবে।

রামপুরা থানার অফিসার ই’নচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, লামিয়া আত্মহ’’ত্যা করেছে। ঘটনার পর ওই ফ্ল্যাট পরিদর্শন করে যেসব আলামত উ’দ্ধার করা হয়েছে তাতে আত্মহ’’ত্যার বি’ষয়টি স্পষ্ট। তাছাড়া ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।

ওসি বলেন, পরিবারের দাবি লামিয়াকে হ’’ত্যার পর ফ্যানের সঙ্গে ঝু’লিয়ে পা’লিয়েছে হৃদয়। আপাতত আমরা ত’দন্তে তিনটি কারণ অনুসন্ধান করে জেনেছি। এর প্রথম কারণটি হলো- লামিয়া ও হৃদয়ের বিয়ে পারিবারিকভাবে মেনে নেওয়া হয়নি। দ্বিতীয়ত : যে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে লামিয়া হৃদয়কে বিয়ে করেছিলেন বাস্তবে তা হয়ত মেলেনি। হৃদয় একটি গ্যারেজে গাড়ির রং মিস্ত্রির কাজ করতেন। সাংসারিক জীবনে তাদের অর্থনৈতিক টানাপড়েন ছিল। তৃতীয়ত : লামিয়ার সঙ্গে হৃদয়ের সম্প্রতি মনোমালিন্য চলছিল।

ওসি আরো জানান, যার বাসায় হৃদয়-লামিয়া সাবলেট উঠেছিলেন সেই শহিদুল ইসলামকেও এ ব্যাপারে জি’জ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ঘটনার কয়েকদিন আগে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে তাদের ন’বজাতকের জন্ম হয়।

তিনি বলেন, লামিয়ার মৃ’ত্যুর ঘটনায় শহিদুল ইসলামের কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ। হৃদয়কে গ্রে’ফতারের চেষ্টা চলছে। প’লাতক হৃদয় গ্রে’ফতার হলেই সব ধোঁয়াশা কাটবে।