রাতে ইউএনওর বাসভবনে হামলা : মেয়র সেরনিয়াবাতসহ আহত ৩০

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : আগস্ট 19, 2021 09:44:08 পূর্বাহ্ন
0
26
views

বরিশাল সদর উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের স’রকারি বাসভবনের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হা’মলায় অংশ নেয়া জ’ড়িতদের নাম ও পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এরপর মা’মলা করা হবে বলে উপজে’লা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে বুধবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে কয়েক দফায় এ হা’মলা চা’লানো হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ১৫-২০ জন পুলিশ সদস্য ও তিন আনসার সদস্য আ’হত হন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা আরেকটি মা’মলা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ইউএনও মুনিবুর রহমান বলেন, হা’মলার ঘটনায় উপজে’লা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা’মলা দা’য়েরের প্রস্তুতি চলছে। হা’মলার সঙ্গে জ’ড়িতদের শনাক্তে সদর উপজে’লা কমপ্লেক্সে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিটি করপোরেশনের লোকজন অনুমতি ছাড়া সদর উপজে’লা কমপ্লেক্সে ঢুকে ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করতে শুরু করেন। এ সময় ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাদের পরিচয় জানতে চান। এ নিয়ে উভ’য়পক্ষের মধ্যে কথা কা’টাকাটি হয়। খবর পেয়ে ইউএনও ঘটনাস্থলে আসেন। বি’ষয়টি তিনি জানার পর সিটি করপোরেশনের লোকজনকে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনিক এলাকায় রাতে ব্যানার উ’চ্ছেদ বা অপসারণ অ’ভিযান না চালাতে অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে অপসারণ অ’ভিযান চালাতে থাকেন।

এসময় আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সিটি করপোরেশনের লোকজনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা যোগ দেন। এরপর সং’ঘর্ষ বেধে যায়। এতে ক্ষি’প্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ইউএনওর স’রকারি বাসভবনে হা’মলা করেন। এসময় হা’মলা থেকে রক্ষা পেতে আনসার সদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাকা রাবার বু’লেট ছো’ড়েন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান আহেম’দ ওরফে বাবুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের জে’লা কমিটির সহসভাপতি আতিকুল্লাহ খান মুনিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব খান, সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতসহ শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে যান। এসময় নেতাকর্মীরা ইউএনওর বাসায় ইটপা’টকেল নি’ক্ষেপ করেন। বাসভবনের গেট ভে’ঙে নিচতলায় ঢোকার চেষ্টা করেন।

সং’ঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে হা’মলাকারীদের সঙ্গে ধা’ওয়া-পাল্টাধা’ওয়া হয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ও’পর চড়াও হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যা’ব মোতায়েন করা হয়। পুলিশ লা’ঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ অন্তত ৩০-৪০ জন আ’হত হন।

ইউএনওর বাসভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার বাহিনীর প্লাটুন কমান্ডার আব্দুর রহমান গাজী জানান, ব্যানার ও পোস্টার সকালে অপসারণ করতে বললে সিটি করপোরেশনের লোকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের খবর দিয়ে নিয়ে এসে ইউএনও স্যারের বাসভবনে ঢুকতে চেষ্টা করেন। এসময় বা’ধা দিলে তার মুখে একজন ঘু’ষি মা’রেন। তাদের হা’মলায় বাসভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত তিন আনসার সদস্য ও স্থানীয় একজন আ’হত হন।

হা’মলার বি’ষয়ে ইউএনও মুনিবুর রহমান বলেন, উপজে’লা পরিষদ প্রাঙ্গণের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে শো’ক দিবস উপলক্ষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুকের ব্যানার-পোস্টার লাগানো ছিল। রাতে সিটি করপোরেশনের লোকজনের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসব ছিঁড়তে আসেন। রাতে লোকজন ঘুমাচ্ছে জানিয়ে তাদের সকালে আসতে অনুরোধ করা হয়। এ কারণে তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। কয়েকশ নেতাকর্মী রাত সোয়া ১০টায় বাসভবন ঘেরাও করে আমাকে অ’বরুদ্ধ করে রাখেন। এরপর তারা আমার বাসায় ইটপা’টকেল নি’ক্ষেপ করে। বাসভবনের গেট ভে’ঙে নিচতলায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। বাসায় বৃ’দ্ধ বাবা-মা ক’রোনায় আ’ক্রান্ত। তারা বাবা-মাকেও গালাগাল করতে থাকেন।

তিনি আরও জানান, তাকে রক্ষা করতে আনসার সদস্য রাবার বু’লেট ও টিয়ারশেল নি’ক্ষেপ করেন। তাদের গু’লিতে ফারুক আহম্মেদ নামের একজন আনসার সদস্য আ’হত হন। এছাড়া তাদের হা’মলায় আনসার বাহিনীর জে’লা অ্যাডজুটেন্ট আম্মার হোসেন ও বাহিনীর প্লাটুন কমান্ডার আব্দুর রহমান গাজীসহ কয়েকজন আ’হত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।