কাপাসিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের কৃষ্ণচূড়া গাছের ডালে আর ফুটবেনা থোকা থোকা লাল ফুল

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : আগস্ট 17, 2021 11:06:03 অপরাহ্ন
0
2
views

অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটনঃ কাপাসিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের পুকুর পাড়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছের ডালে ডালে আর কখনো থোকায় থোকায় লাল রঙের ফুল আর ফুটেবেনা। কৃষ্ণচূড়া ফুলে লালে লাল হয়ে উঠবেনা প্রকৃতি, মানুষের হৃদয়। সবুজ গাছের ডালে বসে কিচিরমিচির করবেনা কোন পাখি।

কৃষ্ণচূড়ার নীচে বসে বিমোহিত হবেননা কোন প্রকৃতি প্রেমিক। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে লিখছি যে, আমাদের সকলের প্রিয় কাপাসিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা ছড়ানো এই কৃষ্ণচূড়া গাছটি আর নেই। ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎই মাটিতে উপড়ে পড়েছে কৃষ্ণচূড়া সেই গাছটি। বহুবছর মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে থেকে ফুলেল শুভেচছা জানানো কৃষ্ণচূড়া গাছটির আকস্মিক মাটিতে পড়ে যাওয়ায় মানুষের হৃদয়ে যেন গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ব্যথিত হয়েছেন প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, ভালোলাগা মানুষ গুলো।

গাছের প্রতি মানুষের এত ভালোবাসা!গাছ ও মানুষ কাঁদায়! গাছ অকালে ঝড়ে পড়ায় মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় কাপাসিয়ার কৃষ্ণচূড়া গাছ যেন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে কৃষ্ণচূড়া গাছটি উপড়ে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে অনেকেই ছুটে এসেছেন। উপড়ে পড়া কৃষ্ণচূড়া গাছের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে মনের দুঃখের কথা, নানা স্মৃতির কথা জানিয়েছেন। অনেকেই কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য নিয়ে মনের মাধুরি মিশিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন।

অনেক বছর যাবত পাতা-ভর্তি এই গাছটির লাল কৃষ্ণচূড়ায় ফুলে ফুলে ছিল সর্গীয় এক সৌন্দর্য। কৃষ্ণচুড়া ফুল কার না প্রিয়! কত গান, কবিতা এই কৃষ্ণচুড়াকে ঘিরে! সবুজ পাতায় ঘেরা এই ফুলের লাল রং সবাইকে মাত করে রাখতো। বৈশাখে কৃষ্ণচুড়া প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে আপন মহিমায়। গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে একটু স্বস্তি দিতেই যেন প্রকৃতির ছিল এই আয়োজন। নানান ব্যস্ততায় ছুটে চলা মানুষগুলোর জন্য এ যেন প্রকৃতির কাছ থেকে অপার প্রাপ্তি, যা অল্প সময়ের জন্য হলেও প্রশান্তির দোলা দিয়ে যায় সবার মনে। কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের আঙিনায় কৃষ্ণচূড়া গাছটি দাঁড়িয়ে কমপ্লেক্সের সৌন্দর্যকে দৃষ্টিনন্দন ও প্রাণবন্ত করে তুলেছিলো পুরো পরিবেশকে।

বৈশাখের শুরুতে ফুল ফুটতে শুরু করতো গাছটিতে। পুরো গাছটিজুড়ে লাল ফুলের সমারোহ, লাল রঙের ফুল ঢেকে দিতো গাছের সবুজ পাতাগুলোকে। কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্য কাপাসিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সকে অন্য রকম শোভাবর্ধন করে তুলতো। ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ পথিক কিংবা অফিস পাড়ায় আসা লোকগুলো ভুলে যেতো তার ক্লান্তি।

এত দিন গ্রীষ্মের ঘামঝরা দুপুরে কৃষ্ণচূড়ার ছায়া যেন প্রশান্তি এনে দিত অবসন্ন মানুষের মনে। তাপদাহে ওষ্ঠাগত আগন্তুক পুলকিত নয়নে, অবাক বিস্ময়ে উপভোগ করতেন এই সৌন্দর্য্য। এ সৌন্দর্য প্রতিদিন অগনিত মানুষের মনে নতুন করে দোলা দিতো । কমপ্লেক্সে কৃষ্ণচূড়ার ফুলের সমারোহ সকলকে বিমোহিত করেছিলো।

পরিষদের সম্মুখে, পুকুর পাড়ে কৃষ্ণচূড়া গাছটি দাড়িয়ে থেকে এখানকার পরিবেশের সৌন্দর্যকে আরো দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে তুলেছিলো। পুকুরের পশ্চিম পাড় দিয়ে, কিংবা ইউএনও অফিসে যাওয়ার পথে যে কোনো বয়সী মানুষের নজর কেড়ে ছিলো এ কৃষ্ণচূড়া গাছটি। কৃষ্ণচূড়ার লাল রাঙের ফুল প্রকৃতির সব রঙকে ম্লান করে দিয়েছিলো। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের সামনের গাছটি যেন সবুজ পাতায় লাল ফুল দেখে মনে হয়ে ছিলো লাল সবুজের পতাকা দাঁড়িয়ে আছে।

এতদিন গ্রীষ্মের রোদের খরতাপে মন মাতানো রঙিন এ সৌন্দর্যে মনের মানুষটিকে কৃষ্ণচূড়ায় সাজাতে ভুল করেনি কোন রসিক প্রেমিক প্রেমিকারা। কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বসে অনেক বন্ধুরা জমপেশ আড্ডায় মেতে উঠতেন। হয়তোবা কেউ কেউ এ ফুল ছিঁড়ে প্রিয় মানুষটির খোপায় গুঁজে দিতে ভুল করেনি। কেউ আবার ফুল ছিঁড়ে প্রিয় বন্ধুকে দিয়েছিলো প্রশান্তির উপহার। থেমে ছিলনা হয়তো সেলফিবাজ ও ফটোপ্রেমিকরাও। বসন্ত শেষে ও গ্রীষ্মে রোদের দাহের মধ্যেও আনন্দ বিলিয়ে দেয় কৃষ্ণচূড়া। চোখ ধাঁধানো টুকটুকে লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলে ফুলে সেজে উঠতো কাপাসিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের গ্রীষ্মের প্রকৃতি।কৃষ্ণচূড়ার রঙিন সাজে নিজেদেরকে সাজাতে সদা ব্যস্ত ছিলো প্রেমিক মানুষ গুলো।

কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে কৃষ্ণচূড়ার এই অপরূপ দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যটি আজীবন অমর হয়ে বেঁচে থাকুক এটা ছিলো সব মানুষের প্রত্যাশা। কিন্তু সব মানুষের গভীর মনে কান্নার নীরব শব্দের ঢেউ তুলে কাপাসিয়া কমপ্লেক্সের বহুল পরিচিত কৃষ্ণচূড়া গাছটি আজ আর নেই। আর কোন দিন গাছের ডালে ডালে ডালে লাল ফুল ফুটবেনা। সে আজ বিলীন। অতীত স্মৃতি। হয়তো লোকমুখে কিংবদন্তি হয়ে আগামী প্রজন্মের কাছে বেঁচে থাকবে কৃষ্ণচূড়ার দীর্ঘ স্মৃতিময় ইতিহাস।

লেখক –
শামসুল হুদা লিটন
অধ্যাপক, সাংবাদিক, কবি ও কলামিস্ট।