আমি ভাইরাল হয়েছি, আমার অনুভূতি নাই: শ্যামল

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : আগস্ট 17, 2021 12:45:37 অপরাহ্ন
0
19
views

সারাদেশ: শ্যামল চন্দ্র বর্মণ (৩০) । বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজে’লার নিভৃত মনমথ গ্রামে। কথায় কথায় তিনি ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেন। গত বছর তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যেখানে প্রশ্নকর্তার জবাবে নিজের সম্পর্কে বলেন শ্যামল। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘সি ইউ নট ফর মাইন্ড হ্যাভ অ্যা রিল্যাক্স’। এই বাক্য দুইটি এখন ফেসবুক দুনিয়ার বাসিন্দাদের চেনা শব্দ, যেমন চেনা শ্যামল চন্দ্র নিজেও।

শ্যামল মানুষের সঙ্গে কথা বলেন হেসে হেসে। উচ্চারণভঙ্গি স্পষ্ট। কথায়ই তার স্বভাবজাত সরলতা মিশে থাকে। এক কথায় সহজ সরল প্রকৃতির শ্যামল চন্দ্র। তিনি আরটিভি নিউজকে বলেন, আমি ছোট-বড় ‘এ্যাভরিথিং’ যারা আছে, আমি সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলি। আমি আগে থেকেই এমন। ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে না।

শ্যামল চন্দ্রের বাবার নাম নেপাল চন্দ্র। তিনি মাছ ব্যবসায়ী। মা শেফালি রানি গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে শ্যামল সবার বড়। ছোট ভাই কমল চন্দ্র ও রাজা চন্দ্র বাবার সঙ্গে মাছের ব্যবসা করেন। শ্যামল চন্দ্র ২০০৫ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজে’লার কাঠগড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি অকৃতকার্য হন। এরপর অর্থাভাবে আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।

মাধ্যমিকে অকৃতকার্য হওয়ার পর গ্যাস লাইটারের ব্যবসা শুরু করেন শ্যামল। পাইকারিভাবে গ্যাস লাইটার কিনে দোকানে দোকানে বিক্রি করতেন। আয়ের টাকায় সংসার চলত না বলে ব্যবসা ছেড়ে একটি বেস’রকারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে কাজ নেন তিনি। চার বছর ধরে সেই কাজই করছেন। মেসার্স এমএম ট্রেডার্সের অধীনে বামনডাঙা রেলস্টেশনে ২০১৮ সাল থেকে তিন হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন।

সম্প্রতি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজে’লার পুটিমারী গ্রামে বিয়ে করেন শ্যামল। আলোচনায় আসার পর তার বিয়ের খবরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ হয়েছে। সরেজমিনে সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা রেলস্টেশনে দেখা হয় শ্যামল চন্দ্রের সঙ্গে। স্টেশন চত্বরে বসে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করছেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন জে’লা থেকে আসা তার ভক্তরা তার সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একটু পর মুক্তি মিললে কথা হয় শ্যামল চন্দ্রের সঙ্গে।

তিনি বলেন, আমি কীভাবে ভাইরাল হলাম, তা নিজেও জানি না। সব আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা। এত দূর আসা ও ভাইরাল হওয়ার পেছনে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ নামের স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর অবদানের কথা বলেন। ইংরেজি ছাড়া এবং ভু’ল বাক্যে কথা বলেন কেন, এমন প্রশ্নে বলেন, আমি আসলে ‘ইন আ হাউস টাইম’ ইংলিশ বলি এআরকি। বাংলাদেশ রেলওয়ের বেস’রকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে টুরিস্টরা স্টেশনে আসে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে ‘সামথিং টু সামথিং টকিং’ করি।

ক’রোনাভা’ইরাস বি’ষয়েও সতর্কতার ক্যাম্পেইন করেন শ্যামল। তিনি আরটিভি নিউজকে বলেন, ক’রোনায় এই সময়ে আমরা অনেক গুণী ব্যক্তিকে হা’রিয়েছি। সবাই মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি বাসায় যাওয়ার পর ভালোভাবে হাত-মুখ ধুয়ে খাবার টেবিলে বসার কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমি যে ভাইরাল হয়েছি, এতে আমার কোনও অনুভূতি নাই। আগের যে শ্যামল দা আপনাদের মাঝে বেঁচে আছে, এখনো সেই শ্যামল দা আছে। যত দিন বাঁচব, শ্যামল হয়ে থাকব। আমার কোনও অহংকার বা ‘মুভমেন্ট বা কারও সাথে কোনও খা’রাপ সম্পর্ক নেই।

শ্যামল চন্দ্র আরটিভি নিউজকে বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি ২০২০ সালের ঈদুল ফিতরের আগের। স্বাভাবিকভাবেই নিজের কথা বলেছিলাম। কিন্তু এভাবে ভাইরাল হবে বুঝতে পারিনি। শ্যামল চন্দ্র বর্মণ ভাইরাল হওয়ার পেছনে অবদান রাখা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও জয়ন্ত সাহা জতন বলেন, আমার একটা ইউটিউব চ্যানেল আছে শখের বশে শ্যামল দার সহজ-সরল বক্তব্য ইউটিউবে আপ করি।

আপ করার আট মাস পর আমার এক সহকর্মী জয়ন্ত সাহা জতন এক চায়ের আড্ডায় ভিডিওটি দেখে ডাউনলোড করে ফেসবুকে পোস্ট করে। মুহূর্তেই শেয়ার ও লাইক বাড়তে বাড়তে একসময় ভাইরাল হয়ে যায়। শ্যামল ভাইরাল হওয়ায় খুশি এলাকাবাসীও। শ্যামল যেহেতু রেলওয়ের বেস’রকারি খাতে সামান্য একজন কর্মচারী, তার একটা নির্দিষ্ট চাকরির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা। তার মেধার সঠিক ব্যবহারের কথাও বলেন তারা।