খোঁজ রাখে না সন্তানেরা, ঝুপড়ি ঘরে দিন কাটে বৃদ্ধ দম্পতির

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : আগস্ট 16, 2021 06:49:32 অপরাহ্ন
0
100
views

আব্দুল জব্বার (৭০)। সাত মেয়ে দুই ছেলে তার। মেয়েরা বিবাহিত ও ছেলেরা ঢাকায় রিকশা চালান। কিন্তু কেউই খবর রাখেন না বৃদ্ধ বাবা-মায়ের। শেষ বয়সে গ্রামে বুট, চানাচুর, কেক বিক্রি করেন তিনি। নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের দুগিয়া গ্রামে জঙ্গলের ভেতর চার শতাংশ জায়গায় একটি কুঁড়ে স্ত্রী রাজু আক্তারকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি। তিনি শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। জন্মগত পঙ্গুত্বের কারণে একা উঠে বসতে পারেন না।

সারাদিন পাড়া-মহল্লায় বুট, চানাচুর বিক্রি করে সন্ধ্যায় অসুস্থ স্ত্রীকে দেখাশোনা ও রান্নাবান্নার কাজ করেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্জন জঙ্গলে মধ্যে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন আব্দুল জব্বার দম্পতি। সামান্য বৃষ্টিতে পানি ঢুকে ঘরে। সেই পানি ঘরের চুলা পর্যন্ত ঢুকে যায়। তখন রান্নাবান্নাও বন্ধ থাকে। কখনো প্রতিবেশীদের বাড়িতে ছুটতে হয়ে তাকে। বয়সের ভারে বৃদ্ধ আব্দুল জব্বারের চোখ দুটোতেই ছানি পড়েছে। শারীরিকভাবে নিজেও অসুস্থ।

কয়দিন আগে স্ত্রী রাজু আক্তারের পা কেটে যাওয়ায় সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ‘চিকিৎসার অভাবে সেই ক্ষত পচে পোকা ধরেছে। মাসুদুল করিম মাসুদ নামের স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী তরুণ তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে মাসুদুল করিম মাসুদ বলেন, উনার নয়জন ছেলে মেয়ে রয়েছে। সবাই কর্মক্ষম। নিজেরা বেশ ভালই চলেন। কিন্তু একজনও ওই বয়স্ক মা-বাবার খোঁজ নেন না। বিষয়টি শুনে একদিন দেখতে যাই। গিয়ে দেখি খুব অসহায় জীবন যাপন করছেন তারা।

বসবাসের ঘরটি ভেঙে পড়ছে। কোনো মানুষ এই ঘরে বসবাস করছে দেখে খুব খারাপ লাগছে। কোনো বিত্তবান তাদের একটি থাকার ঘর করে দিলে জীবনের শেষ সময় এই কষ্ট থেকে বাঁচতো। জানতে চাইলে বৃদ্ধ আব্দুল জব্বার বলেন, ছেলে-মেয়েরা খেতে দেয় না। বৃদ্ধ বয়সে শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রীর দেখাশোনা করি। মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুট, চানাচুর, কেক বিক্রি করি। সন্তানরা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে থাকেন কিন্তু খোঁজখবর রাখে না।

নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা আক্তার বলেন, সরকার মা-বাবাকে ভরণপোষণের আইন করে দিয়েছে। যদি বৃদ্ধ মা-বাবাকে ভাত না দেয় সে ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা যদি বয়স্ক ভাতা না পান তার ব্যবস্থা করে দেব। যদি ঘর ভাঙা থাকে সে ক্ষেত্রে আমরা টিন দিয়ে ঘরটা সংস্কার করে দেব। সুত্রঃ জাগো নিউজ