বিবাহিত স্ত্রী হলেও যৌ’ন মিলনে সম্মতি লাগবেই, রায় ভারতের হাইকোর্টে

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : আগস্ট 12, 2021 12:53:06 অপরাহ্ন
0
26
views

আন্তর্জাতিক: কোনও নারী এবং পুরুষের মধ্যে যৌ’ন মিলন ঘটার ক্ষেত্রে সম্মতি থাকতেই হবে, তারা বিবাহিত হোক বা না হোক – এক যুগান্তকারী রায়ে গত সপ্তাহে এ কথা বলেছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরালা রাজ্যের হাইকোর্ট। যে মা’মলায় এই রায় দেওয়া হয়েছে – তার আবেদনকারী মহিলা বলেছিলেন, তিনি অ’সুস্থ থাকলেও তার স্বামী তাকে নিয়মিত যৌ’ন মিলনে বা’ধ্য করতেন।

কেরালা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি কওসার এডাপ্পাগাথ এবং বিচারপতি এ মুহাম্ম’দ মুস্তাক তাদের রায়ে বলেন, স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া স্বামীর এই কর্মকান্ড বৈবাহিক ধ”ণের পর্যায়ে পড়ে। তারা রায়ে আরও বলেন, এই বৈবাহিক ধ”ণ বিবাহ বিচ্ছেদেরও ন্যায়সঙ্গত কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভারতে বৈবাহিক ধ”ণ, অর্থাৎ যেখানে ধ’র্ষিতা ও ধ’র্ষকের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকে, সেটাকে কোনও অ’পরাধ বলে গণ্য করা হয় না।

কিন্তু কেরালা হাইকোর্ট তাদের রায়ে বলছে, এটাকে চ’রম নৃ’শংসতা বলে গণ্য করাই যায় – যার ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনও মঞ্জুর করা সম্ভব। কলকাতায় নারী অধিকার কর্মী ও অধ্যাপক শ্বাশ্বতী ঘোষ মনে করছেন, ভারতীয় উপমহাদেশের পটভূমিতে এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ – কারণ এখানে যৌ’ন মিলনের ক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্মতিও যে জরুরি, সেই স্বীকৃতিটারই অভাব আছে।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “এই বিশেষ মা’মলাটিতে স্ত্রী অ’ভিযোগ করেছেন ১২ বছর ধরে তিনি স্বামীর অন্যায় যৌ’ন আকাঙ্ক্ষা মেটাতে গিয়ে ক্লান্ত – কিন্তু এর বি’রুদ্ধে দু’দুবার পারিবারিক আ’দালতে গিয়েও তিনি কোনও প্রতিকার পাননি।” মা’মলার বিবরণী উল্লেখ করে শ্বাশ্বতী ঘোষ আরও বলেন, যৌ’ন মিলনে বা’ধ্য করার সময় তার স্বামী খেয়ালই করতেন না যে স্ত্রী অ’সুস্থ কি-না।

“এমন কী তার স্ত্রীর মা যেদিন মা’রা যান, সে দিনও তিনি তাকে যৌ’ন মিলনে বা’ধ্য করেছেন – নিজেদের মেয়ের সামনেও মিলিত হয়েছেন। এমন চ’রম নৃ’শংসতাও আইনের চোখে এতদিন অ’পরাধ ছিল না – এটাই আক্ষেপের।” ভারতের নারী অধিকার কর্মীরা প্রায় এক সুরেই বলছেন, ভারত-সহ এ অঞ্চলের পাকিস্তান, বাংলাদেশ সব দেশেই সামাজিকভাবে একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে বিবাহিত স্ত্রী-রা বৈবাহিক ধ”ণের বি’রুদ্ধে মুখ খুললে ‘পরিবার’-এর ধারণাটাই ভে’ঙে পড়বে।

কেরালা হাইকোর্টের রায় সেই ধারণাকে কিছুটা হলেও পাল্টাতে সাহায্য করবে বলে তাদের অনেকেই আশা করছেন। শাশ্বতী ঘোষের কথায়, “ভারতের জাতীয় পরিবার স্বা’স্থ্য জরিপেও (ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে) এই স’মস্যার ব্যাপকতা বারেবারে ধরা পড়েছে।” “ভারতের অসংখ্য নারী পারিবারিক সংস্কারের চা’পে মেনে নিতে বা’ধ্য হয়েছেন বৈবাহিক ধ”ণের শি’কার হওয়াটাই তাদের ভবিতব্য – কারণ যে কোনও সময়, যখন খুশি যৌ’ন মিলন স্বামীর অধিকার।

“তাদেরও যে কখনো কখনো অসম্মতি জানানোর অধিকার আছে, সেটাই আসলে স্ত্রীদের ভু’লিয়ে দেওয়া হয়েছে।” কেরালা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায় ভারতীয় সমাজ ও পরিবার ব্যবস্থার সেই ‘ট্যাবু’ বা নি’ষিদ্ধ বি’ষয়কে অন্তত আলোচনা ও চর্চার কেন্দ্রে আনবে বলেই অ্যাক্টিভিস্টরা আশা করছেন।