সাড়ে ৩ কোটি টাকার গাড়ির উপহার, বিনিময়ে তার সঙ্গে দুবাই ভ্রমণে যান পরীমনি

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : আগস্ট 7, 2021 07:27:40 অপরাহ্ন
0
73
views

গ্রে’ফতার হওয়ার পর চিত্রনায়িকা পরীমণির বি’ষয়ে একে একে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বের হয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জি’জ্ঞাসাবাদে। সিনেমায় অভিনয়ের আড়ালে অ’নৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া, মা’দক গ্রহণসহ বিভিন্ন বি’ষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব তথ্যের মধ্যে পরীমণির ব্যবহৃত ফিয়াট অটোমোবাইলসের ‘মাসেরাতি’ ব্র্যান্ডের গাড়িটি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সাড়ে তিন কোটি টাকার গাড়িটি পরীমণিকে কে উপহার দিয়েছেন, সে বি’ষয়েও জি’জ্ঞাসাবাদে তথ্য পেয়েছেন গো’য়েন্দারা।

যদিও পরীমণির ওই গাড়ি কেনার বি’ষয়ে বরাবর আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। বলেছেন, তিনি গাড়িটি ব্যাংক লোন নিয়ে কিনেছেন। গত ৪ আগস্ট নিজ বাসা থেকে মা’দকসহ গ্রে’ফতার করা হয় পরীমণিকে। পরে তাকে রি’মান্ডে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, পরীমণি গাড়িটি ব্যাংক লোন অথবা ক্যাশ টাকা দিয়ে কেনননি। দেশের একটি বেস’রকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ওই সম্পর্কের ভিত্তিতে পরীমণি তার কাছ থেকে গাড়িটি উপহার হিসেবে পেয়েছেন।
জি’জ্ঞাসাবাদে পরীমণি জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তার সঙ্গে তার বিশেষ সখ্য রয়েছে। ক’রোনার মধ্যেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে দুবাই ভ্রমণে যান তিনি।

সূত্র আরও জানায়, পরীমণির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ওই ব্যাংক চেয়ারম্যানের বি’ষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তিনিও নজরদারিতে রয়েছেন। এছাড়া ওই ব্যাংকে পরীমণির বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেগুলো ইতোমধ্যে ফ্রিজ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

র‌্যা’বের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গ্রে’ফতারের পর পরীমণির মোবাইল ফোনটি তারা পরীক্ষা করে দেখেছেন। সেখানে অনেক ভিআইপি ব্যক্তি ও শিল্পপতিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও বিশেষ সম্পর্ক থাকার অনেক তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। অনেকের সঙ্গে তার নিয়মিত কথোপকথনের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এসব ব্যক্তিরা সমাজের উঁচু স্তরের। তাদের বি’ষয়েও খোঁজ-খবর করা হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীমণির সঙ্গে অনেক ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া অনেক রাজনীতিকের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল তার। আন্ডারওয়ার্ল্ডের অনেক স’ন্ত্রাসীকে অর্থের বিনিময়ে ‘বিশেষ সঙ্গ’ দিতেন তিনি। একটি সূত্র জানায়, প্রবীণ এক রাজনীতিকের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন তিনি। কথিত প্রযোজক নজরুল রাজ তাকে ওই রাজনীতিকের বাসায় নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

র‌্যা’বের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কে এম আজাদ বলেন, পরীমণি ও রাজের বি’ষয়ে আমরা অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছি। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যা’বের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, পরীমণি ও রাজের বি’রুদ্ধে দা’য়ের হওয়া মা’মলা দুটি ত’দন্ত করার জন্য স্ব’রা’ষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয়ে আবেদন করবে র‌্যা’ব।

অন্য সংবাদ পড়ুন-
ত’দন্তে গিয়ে পরীমণির সাথে ডি’বি কর্মকর্তার প্রেম! সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁ’স, পুলিশে তোলপাড়
নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি কাণ্ডে এবার নাম জড়ালো পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার। তার নাম গোলাম সাকলায়েন শিথিল। তিনি ঢাকা মহানগর গো’য়েন্দা পুলিশ-ডি’বি’র গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে কর্মরত।

সম্প্রতি ঢাকার অদূরে তুরাগতীরে বহুল আলোচিত বোট ক্লাব মা’মলার ত’দন্ত তদারক কর্মকর্তা ছিলেন সাকলায়েন। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের বি’রুদ্ধে করা মা’মলার ত’দন্ত চলার সময় নায়িকা পরীমণির সাথে সখ্য গড়ে ওঠে বলে অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সূত্র ধরে গড়ে উঠেছিল প্রেমের সম্পর্ক। এরপর নিয়মিত পরীমণির বাসায় যাতায়াত শুরু করেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা।

মাঝে মাঝে গাড়ি নিয়ে বের হতেন দু’জনে। বিবাহিত সেই পুলিশ কর্মকর্তা নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন অবিবাহিত হিসেবে। সর্বশেষ পরীমণি সেই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় এসে অবস্থান করেন প্রায় ১৮ ঘণ্টা। পরীমণি গ্রে’ফতারের পর অকপটে স্বীকার করেছেন সবকিছু। বি’ষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে পুলিশে।

র‍্যা’বের হাতে পরীমণি গ্রে’ফতারের পর গো’য়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তার সাথে তার ঘনিষ্ঠতার বি’ষয়টি উঠে এলো আলোচনায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ১৩ জুন ঢাকা বোট কাবে গিয়ে ধ”ণচেষ্টার অ’ভিযোগ করেন চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণি। এরপর দিনই উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রে’ফতার করা হয় ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদকে। পরে এই ঘটনায় গো’য়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ পরীমণিকে গো’য়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করেন। তখন থেকেই গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমণির। এরপর থেকেই শুরু হয় যোগাযোগ।

জি’জ্ঞাসাবাদে পরীমণি জানিয়েছেন, নিয়মিত কথা বলতে বলতে গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় তার। এরপর তারা নিয়মিত গাড়ি নিয়ে ঘুরতে যেতেন। এমনকি গোলাম সাকলায়েন শিথিল তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সর্বশেষ তিনি গত ১ আগস্ট গোলাম সাকলায়েন শিথিলের স’রকারি বাসভবন রাজারবাগের মধুমতির ফ্ল্যাটে যান।

পরীমণির সহযোগী দীপু জি’জ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, গত কোরবানির ঈদের পর তিনি পরীমণির বাসায় গিয়ে জানতে পারেন গোলাম সাকলায়েন এসে তার বাসায় তিন দিন ছিলেন। তিনি গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরীমনির প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতেন। পরীমণিই তাকে এই বি’ষয়টি জানিয়েছেন। তবে গোলাম সাকলায়েন নিজেকে অবিবাহিত বলে দাবি করেন। কিন্তু পরে সাকলায়েন বিবাহিত জানতে পারলে পরীমণি ক্ষু’ব্ধ হন। এ সময় গোলাম সাকলায়েন তার ডি’ভোর্স হয়ে গেছে বলে দাবি করেন, এমন তথ্য জানান দীপু।

উল্লেখ্য, গোলাম সাকলায়েন বিবাহিত এবং তার স্ত্রী প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি জে’লায় তার স্ত্রী উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাদের একটি স’ন্তানও রয়েছে।

গোলাম সাকলায়েনের স’রকারি বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাজাবাগ পুলিশ অফিসার্স কলোনির মধুমতি ভবনের গেটের সামনে ১ আগস্ট সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে একটি সাদা গাড়ি এসে থামে। লাল রংয়ের টি-শার্ট পরিহিত একজন প্রথমে নামেন। এরপর কোলে একটি কুকুরসহ সাদা রংয়ের জামা পরে নামেন আলোচিত নায়িকা পরীমণি। রিসিপশনে থাকা সদস্যদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে দু’জন লিফটে প্রবেশ করেন। পরে গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ট্রলি ব্যাগ। এরপর রাত দেড়টার দিকে ওই ভবনের সামনে আবার আসে পরীমণির গাড়ি। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় পরীমণির পরনে ছিল কালো রংয়ের পোশাক।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, পরীমণিকে গ্রে’ফতারের পর তাকে জি’জ্ঞাসাবাদে গো’য়েন্দা কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কটি ফাঁ’স হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বি’ষয়টি জানতে পেরে দ্রুত রাজারবাগের মধুমতির বাসভবনের কেয়ারটেকার শামীমকে সিসিটিভি ফুটেজের ডিভিআরসহ পুলিশ সদর দফতরে ডেকে পাঠানো হয়। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পরীমণির বক্তব্যের সত্যতা পান। তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত গোলাম সাকলায়েনের বি’রুদ্ধে বিভাগীয় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যোগাযোগ করা হলে পরীমণির গাড়িচালক নাজির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ১ আগস্ট পরীমনিকে নিয়ে তিনি রাজারবাগের স’রকারি কোয়ার্টারে এক বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আসেন। এরপর তিনি সেখান থেকে বনানীর বাসায় চলে যান। পরে রাতে তাকে পরীমণি গাড়ি নিয়ে তার খালাতো বোন ও বোন জামাইকে তুলে রাজারবাগের ওই বাসায় যেতে বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে নাজির হোসেন বলেন, ‘ওই লোকের (পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েন) সঙ্গে পরীমণি দুই দিন রাতের বেলা হাতিরঝিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন। হাতিরঝিলে গাড়িতে বসেই তারা ম’দ খেয়েছে।’

এসব অ’ভিযোগ সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে গোলাম সাকলায়েন শিথিল বলেন, পরীমনির সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তবে তা প্রেমের সম্পর্ক নয় এবং তারা বিয়েও করেননি। পরীমণি তার বাসায় যাওয়ার কথাও তিনি অস্বীকার করেন। পরে তার বাসায় যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে জানালে এ বি’ষয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

সূত্র – বাংলা ট্রিবিউন।।