যেকোনো সময় গ্রে’প্তার হতে পারেন ২৩ কথিত নেতা, গো’য়েন্দা তালিকায় শতাধিক

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : আগস্ট 7, 2021 11:19:55 পূর্বাহ্ন
0
41
views

রাজনীতি: শতাধিক ভুঁইফোড় সংগঠনের বি’তর্কি’ত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নেতাদের তালিকা করে আর্থিক দু’র্নীতির খোঁজ নিতে শুরু করেছে স’রকারের বিভিন্ন গো’য়েন্দা সংস্থা। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের মহিলাবি’ষয়ক উপকমিটির সদ্য সাবেক সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীর ও মনির খান ওরফে দরজি মনির গ্রে’প্তার হয়েছেন। এর বাইরে কথিত নেতা লিটন গাজীসহ আরো অন্তত ২৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর জালে ব’ন্দি। তাঁরা যেকোনো সময় গ্রে’প্তার হতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গো’য়েন্দা কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, তালিকাভুক্ত এসব কথিত নেতার বি’রুদ্ধে পাওয়া কিছু দু’র্নীতির মৌখিক তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। নামের আগে ও পরে ‘আওয়ামী লীগ’ যুক্ত করে ২০০৯ সালের পর যেসব সংগঠন গড়ে উঠেছে, প্রাথমিক ত’দন্তে তার বেশির ভাগই ‘ভুঁইভোড়’ সংগঠন বলে ত’দন্তে উঠে এসেছে। এমন ভুঁইফোড় সংগঠনের সংখ্যা শতাধিক। এসব সংগঠনের বি’রুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন তাঁরা। দলের নাম ভাঙিয়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছে বলে অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। স’রকারের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব সংগঠনের উদ্যোক্তাদের কর্মকাণ্ড ও সম্পদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। খোঁজ চলছে তাঁদের পৃষ্ঠপোষকদের ব্যাপারেও।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (গো’য়েন্দা উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নাম করে কিছু ভুঁইভোড় সংগঠনের অপতৎপরতা বেড়েছে। নামসর্বস্ব এসব সংগঠনের নামে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও রাজধানীতে চাঁ’দাবাজি চলছে। এর সঙ্গে জ’ড়িত ভুঁইভোড় নেতাদের বি’রুদ্ধে পাওয়া অ’ভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

একাধিক গো’য়েন্দা কর্মকর্তা জানান, কথিত সংগঠনগুলোর শতাধিক নেতার গতিবিধির ও’পর নজরদারি চলছে। দলের ভাবমূর্তি ন’ষ্ট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা সময়ে দেওয়া তাঁদের বক্তব্য খোঁজা হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াত-শিবিরসহ দেশের বাইরের কোনো সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার তথ্যও জানার চেষ্টা চলছে।

র‌্যা’বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন কালের কণ্ঠকে বলেন, ভুঁইফোড় নেতাদের বি’রুদ্ধে পাওয়া নানা অ’ভিযোগের বি’ষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অ’পরাধের সত্যতা পেলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রে’প্তার করা হচ্ছে।

দরজি মনিরকে রি’মান্ডে নিয়ে যা জানা যাচ্ছে : ‘বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ’ নামে ভুঁইফোড় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনির খান ওরফে দরজি মনিরকে গত রবিবার রাতে গ্রে’প্তার করা হয়। তাঁর বি’রুদ্ধে এরই মধ্যে চাঁ’দাবাজি ও প্র’তারণার অ’ভিযোগে ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তি রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থানায় একটি মা’মলা করেছেন। ওই মা’মলায় তাঁকে চার দিনের রি’মান্ডে নিয়েছে গো’য়েন্দা পুলিশ (ডি’বি)। মা’মলার অ’ভিযোগে বলা হয়, দরজি মনির ও তাঁর সহযোগীরা ঢাকা মহানগর এবং বিভিন্ন জে’লা-উপজে’লায় বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের কমিটি দেওয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেন।

ত’দন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মনির একেক সময় একেক রাজনৈতিক পদবি ব্যবহার করে প্র’তারণা করতেন। এ ছাড়া বিশেষ বিশেষ দিনে নিজেই মন্ত্রী-এমপিদের বাণী লিখে তাতে জাল স্বাক্ষর দিয়ে ফেসবুকে প্রচার করে বেড়াতেন। স’রকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি শেয়ার করেছেন তিনি। ফেসবুক আইডিতে তাঁর পরিচয় অংশে লেখা আছে—তিনি ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটিতে সহসম্পাদক ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের ধর্মবি’ষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য হন। ফেসবুকের কাভার ফটোতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর একটি ছবি দিয়েও নিজেকে বড়মাপের নেতা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করতেন তিনি।

ডি’বি পুলিশ সূত্র জানায়, প্র’তারণার উদ্দেশ্যে এডিট করে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ছবি ব্যবহার করতেন দরজি মনির। ভুঁইফোড় সংগঠন গড়ে তোলে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে সদস্য সংগ্রহের নামে অর্থ আ’ত্মসাতেরও অ’ভিযোগ রয়েছে তাঁর বি’রুদ্ধে।

নজরদারিতে আরেক ভুঁইফোড় নেতা লিটন : ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোর মধ্যে ‘জয়বাংলা মুক্তিযু’দ্ধ প্রজন্ম লীগ’-এর কথিত নেতা লিটন গাজীও আলোচনায় রয়েছেন। কিছুদিন আগেও কথিত এই নেতা বিদেশে থেকে ফেসবুক লাইভে স’রকারপ্রধানসহ আওয়ামী লীগকে গালাগালি করতেন। পরে দেশে ফিরে তিনি বনে যান জয়বাংলা মুক্তিযু’দ্ধ প্রজন্ম লীগের নেতা। সাংবাদিক পরিচয়েও তাঁর বি’রুদ্ধে নানা প্র’তারণার অ’ভিযোগ রয়েছে।