নারীরা যখন প’র্ণে আ’সক্ত

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : আগস্ট 1, 2021 08:23:22 অপরাহ্ন
0
15
views

নারীর ও’পর প’র্নোগ্রাফির কী ধরনের প্রভাব পড়ে?
“আমি যখন প্রথম প’র্নোগ্রাফি দেখি, তখন আমার বয়স ছিল ১২,” বললেন নীলম টেলর। এখন তার বয়স ২৪।

তার মতো আরো অনেকেই আছে যারা এতো অল্প বয়সেই প’র্নোগ্রাফি দেখেছেন। ২০১৬ সালের এক জরিপে দেখা গেছে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী শি’শুদের ৫৩% অনলাইনে যৌ’নতার দৃশ্য দেখেছে।

পুরুষদের প’র্নোগ্রাফি দেখা নিয়ে অনেক গবেষণা ও জরিপ হয়েছে কিন্তু নারীর ও’পর এই প’র্নোগ্রাফি কী ধরনের প্রভাব ফে’লে সেটা নিয়ে জানা যায় খুব কমই।

যৌ’নতার প্রতি সামান্য কৌতূহল থেকেই শুরু হয়েছিল নীলমের আসক্তি।

নীলমের গল্প
নীলমের বয়স যখন মাত্র ১১ থেকে ১৬ তখন তিনি বেশিরভাগ দিনই প’র্নোগ্রাফি দেখতেন।

নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে দিয়ে তিনি পর্ন সাইটে কা’টাতেন অনেক সময়। কোন ছবি ছিল মাত্র ১০ মিনিটের আবার কোন কোন ছবি ছিল এক ঘণ্টার। তার বাবা মা এর কিছুই জানতেন না।

“আমার মনে হয় প’র্নোগ্রাফি মানুষকে অনেক বেশি অসংবেদনশীল করে তোলে। প’র্নোগ্রাফিতে অনেক স’হিংস দৃশ্যও থাকে এবং একটা সময়ে মনে হয় এসব যেন খুবই স্বাভাবিক,” বলেন নীলম।

কীভাবে এটা শুরু হয়েছিল সেটা বলতে গিয়ে নীলম বলেন, “মনে হয় একটা ছবি দেখার পর এবি’ষয়ে আমি আরো কিছু জানতে আগ্রহী হয়ে পড়েছিলাম। অথবা যৌ’নতার জন্যে আমার আকাঙ্ক্ষা হয়তো খুব তীব্র ছিল। আমি তখন কি’শোর বয়সে ঢুকতে শুরু করেছি। যেসব ছবিতে প্রচুর সে’ক্সের দৃশ্য আছে আমি সেগুলো খুঁজে খুঁজে বের করে দেখতে শুরু করলাম।”

নীলম বলেন, স্কুলে থাকতেই তিনি প’র্নোগ্রাফির কথা শুনেছেন। কিন্তু তিনি এমন একটা স্কুলে পড়তেন যেখানে শুধু মেয়েরাই পড়তো।

নীলম টেলর মাত্র ১১ বছর বয়সে প’র্নোগ্রাফি দেখতে শুরু করেন।
“সবসময় মনে করা হতো যে এসব বুঝি শুধু ছেলেরাই দেখে। এটাই আমার কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমার অনেক লজ্জাও লাগতো কারণ আমার মনে হতো যে আমি একটা অস্বাভাবিক কাজ করছি। মনে হতো মেয়েরা তো এসব দেখে না।”

প’র্নোগ্রাফি দেখতে দেখতেই নীলমের মধ্যে বিশেষ কিছু ভিডিওর ব্যাপারে আগ্রহ বাড়তে শুরু করলো।

“একটা সময় আমি এমন সব ছবি দেখতে লাগ’লাম যেখানে মেয়েরা অনুগত হয়ে সেটা করছে, কিম্বা তাকে সে’ক্স করতে জো’র করে বা’ধ্য করা হচ্ছে। অথবা আমি খুঁজে দেখতাম কোন ছবিতে একজন বয়স্ক লোক কম বয়সী মেয়ের সাথে সে’ক্স করছে। আমি জানতাম না কেন আমি এসব দেখতে চাইতাম। কারণ ওই বয়সে যৌ’নতার বিশেষ কোন দিকের ব্যাপারে আমার মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ার কথা না।”

সারাহর গল্প
একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে ২৫ বছর বয়সী সারাহরও।

“১৩/১৪ বছর বয়স থেকে আমি প’র্নোগ্রাফি দেখতে শুরু করি। কম করে হলেও সপ্তাহে দু’বার দেখতাম। আমার মনে হতো যে আমি বুঝি আমার একটা চাহিদা পূরণ করছি।”

“এক পর্যায়ে আমি এমন ভিডিও দেখতে শুরু করলাম যেখানে ১০ জন পুরুষ মিলে একজন নারীর সাথে সে’ক্স করছে। অথবা ওই সময় নারীকে চড় মা’রা হচ্ছে অথবা তাকে অ’পমান করা হচ্ছে। আমি নিজে সে’ক্স করার আগেই আমি এসব দেখেছি।”

এখনও সারাহ এসব ভিডিও দেখেন। কিন্তু আগের মতো নয়। কিন্তু তিনি মনে করেন ১০ বছর ধরেও এধরনের ভিডিও নিয়মিত দেখার পর যৌ’নতার মাধ্যমে চ’রম তৃপ্তি (অর্গাজম) পাওয়া তার জন্যে খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

প’র্নোগ্রাফি ও পুরুষের মস্তিষ্ক
পুরুষদের প’র্নোগ্রাফি দেখার ব্যাপারে প্রচুর লেখালেখি হয়। বিজ্ঞানীরাও এই বি’ষয়ে কাজ করেছেন।

ব্রিটেনে এঞ্জে’লা গ্রেগরি নামে একজন ব্রিটিশ যৌ’ন থেরাপিস্ট ২০১৬ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন, খুব সহজেই দেখা যায় বলে পুরুষদের মধ্যে যৌ’ন স’মস্যার সংখ্যা বাড়ছে। এবি’ষয়ে চিকিৎসা নিতে তারা ডাক্তারদের দ্বারস্থ হতেন। তিনি হাসপাতালে কাজ করতেন।

ব্রিটিশ একটি দাতব্য সংস্থা তার গবেষণায় বলেছে, ব্রিটেনে যখন ব্র’ডব্যান্ডের যাত্রা শুরু হলো, ২০০০ সালের দিকে, তখন এই পুরুষদের ২ থেকে ৫% যৌ’ন অক্ষমতার জন্যে প’র্নোগ্রাফিকে দায়ী করা হতো। বর্তমানে এই হার প্রায় ৩০%।

এটা শুধু শা’রীরিক অক্ষমতারই কারণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে গবেষকরা বলছেন, যেসব পুরুষ অল্প বয়সে প’র্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ে তাদের মধ্যে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যও গড়ে উঠতে দেখা যায়।

মস্তিষ্কের রসায়ন।
ব্রিটেনে আরো একজন থেরাপিস্ট থ্যাডিয়াস বির্চার্ড যৌ’নতায় আসক্তদের চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

“সাধারণত প’র্নোগ্রাফিতে পুরুষদের চিন্তাভাবনাই প্রতিফলিত হয়।”

কখন শুরু হয় দেখা
যেসব শি’শু তাদের ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সে প’র্নোগ্রাফি দেখে তাদের ৯৪% এসব দেখতে শুরু করে ১৪ বছর বয়স থেকেই। তাদের মধ্যে কি’শোর যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অনেক কি’শোরীও।

সাম্প্রতিক কালে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ১,০০০ মানুষের ও’পর চা’লানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের ৪৭% নারী গত মাসে প’র্নোগ্রাফি দেখেছেন এবং ১৪% নারী মনে করেন যে তারা হয়তো প’র্নোগ্রাফিতে কিছুটা হলেও আসক্ত।

নীলমের বয়স যখন ১৬ তখন তিনি প’র্নোগ্রাফি দেখা বন্ধ করে দেন। তার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শরীরের ও’পর এর প্রভাবকেই।

“প্রথম ছেলে-বন্ধুর সাথে আমার সম্পর্ক হওয়ার পর আমি বুঝতে পারলাম যে স্বাভাবিক যৌ’ন সম্পর্কের মাধ্যমে আমি শা’রীরিকভাবে জেগে উঠতে পারছি না। আমার মনে হয় কাউকে উদ্দীপ্ত করার ব্যাপারে প’র্নোগ্রাফি একেবারেই অস্বাভাবিক একটি উপাদান। একজন সাধারণ পুরুষ সঙ্গীর পক্ষে সেটা পূরণ করা অসম্ভব।”

তিনি বলেন, প’র্নোগ্রাফি দেখা ও বাস্তব জীবনে সে’ক্স করার সময় তার মধ্যে যে শা’রীরিক পরিবর্তন ঘটতো তাতেও তিনি একটা পার্থক্য লক্ষ্য করেন। একসময় মনে হতো সে’ক্স করার আগে আমার হয়তো টয়লেটে গিয়ে প’র্নোগ্রাফি দেখতে হবে যাতে আমি একটা উ’ত্তেজনা বোধ করি।”

নীলম মনে করেন না যে তিনি প’র্নোগ্রাফিতে আসক্ত ছিলেন। সেরকম হলে তিনি সেসব দেখা বন্ধ করে দিতে পারতেন না।

শরীরের ও’পর প্রভাব
২৮ বছর বয়সী হান্নাও মনে করেন যে খুব বেশি প’র্নোগ্রাফি দেখলে মানুষের সংবেদনশীলতা ন’ষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে তিনি বলেছেন, এথেকে তার কিছু লাভও হয়েছে।

“আমি একজন সমকামী নারী। আমার বয়স যখন ৮/৯ তখনই আমি বুঝতে পারি যে আমি আসলে নারীদের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হই। কিন্তু লেসবিয়ান প’র্নোগ্রাফি দেখার পরেই আমি এবি’ষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হই।”

কিন্তু পরে প’র্নোগ্রাফির প্রতি হান্নার আসক্তি কে’টে যায়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “বেশিরভাগ লেসবিয়ান পর্ন হচ্ছে পুরুষদের ফ্যান্টাসি। তারা দেখতে চায় দুজন নারী সে’ক্স করলে সেটা দেখতে কেমন লাগে,” বলেন তিনি।

ড, লেইলা ফ্র’ডশ্যাম একজন গাইনোকলজিস্ট। ইন্সটিটিউট অফ সাইকোসে’ক্সুয়াল মেডিসিনের মুখপাত্রও তিনি।

“আমি ২০ বছর ধরে লোকজনকে চিকিৎসা দিচ্ছি। কিন্তু আমি এমন কোনো নারীকে পাইনি যিনি বলেছেন যে প’র্নোগ্রাফি নিয়ে তার স’মস্যা আছে।”

তিনি জানান, এনিয়ে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে। একটি গবেষণা হয়েছে ৪৮ জনের উপর। তাতে দেখা গেছে প’র্নোগ্রাফির কারণে নারীর শা’রীরিক উ’ত্তেজনায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

মধ্যপ্রাচ্যে ২০০ নারীর ও’পর চা’লানো আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে প’র্নোগ্রাফি দেখলে যৌ’নমিলনের সংখ্যার কোনো তারতম্য হয় না। তবে দেখা গেছে যে যৌ’ন ইচ্ছা ও শা’রীরিকভাবে জেগে ওঠার বি’ষয়ে এই প’র্নোগ্রাফির একটা প্রভাব রয়েছে। ফ্র’ডশ্যাম

তিনি বলেন, মানুষের যৌ’নাঙ্গে নয় বরং তাদের চোখে মুখে যৌ’নসংক্রান্ত অসুখ বিসুখ ছড়িয়ে পড়েছে- যার অর্থ প’র্নোগ্রাফির আরো প্রসার ঘটেছে। তার মতে এটা হয়ে নারী পুরুষ উভয়ের মধ্যেই এবং খুব অল্প বয়স থেকেই তারা এখন পর্ন দেখছে।

এরিকার গল্প
আমেরিকান লেখিকা এরিকা গার্জা মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে সফ্টকোর পর্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। সেটা নব্বই এর দশকের কথা। সেসময় গভীর রাতে টেলিভিশনে এসব দেখানো হতো। তখনও ইন্টারনেটের অতোটা চল ছিল না।

“আমার মেরুদ’ণ্ডে তখন একটা স’মস্যা হয়েছিল। সেজন্যে আমাকে একটা ব্রেস পরতে হতো। স্কুলে এটা নিয়ে অনেকে হাসি ঠাট্টা করতো। খুব খা’রাপ লাগতো আমার। তখন আমি প’র্নোগ্রাফি দেখতাম ও হ’স্তমৈ’থুন করে সেসব ভু’লে থাকতে চাইতাম।”

এরিকা বলেন, “নারীরা কী কারণে শা’রীরিকভাবে উত্তেজিত হয় সেবি’ষয়ে খুব একটা কথাবার্তা বলে না। কারণ তাদেরকে হয়তো খা’রাপ মনে করা হতে পারে। নারীর এই আকাঙ্ক্ষার কারণেও তার মধ্যে লজ্জা শরম তৈরি হতে শুরু করে। তখন হয়তো তারা প’র্নোগ্রাফি দেখতে শুরু করে।”

এরিকা প্রত্যেকদিন প’র্নোগ্রাফি দেখতেন না। কিন্তু তিনি মনে করেন তার জীবন ও সম্পর্কের ও’পর এই প’র্নোগ্রাফির একটা প্রভাব পড়েছে।

“আমি যখন মা’নসিক চা’পের মধ্যে থাকি কিম্বা আমার মধ্যে কোন উ’দ্বেগ কাজ করে তখন আমি প’র্নোগ্রাফি দেখি। কিন্তু এটা আমাকে অন্যান্য কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। তখন নিজে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। নিজের ব্যাপারে খা’রাপ লাগতে শুরু করে। মনে হতে শুরু করে যে আমার মধ্যে হয়তো খা’রাপ কিছু আছে। আমি তখন নিজের ভেতরে লুকিয়ে যাই।”

তিনি জানিয়েছেন যে এই যৌ’ন আসক্তির ব্যাপারে তিনি চিকিৎসাও করিয়েছেন।

তিনি বলেন, তার উপর এসব প’র্নোগ্রাফির নানা রকম প্রভাব পড়েছিল। তিনি এমন কিছু যৌ’ন দৃশ্যের ব্যাপারে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন যা খুব একটা স্বাভাবিক ছিল না।

“যেমন বিছানায় আমার সাথে কেউ খা’রাপ আচরণ করছে। এমন দৃশ্য যেখানে হয়তো পুরুষরা তাদের চাইতেও অনেক কম বয়সের নারীদের সাথে মিলিত হচ্ছে। তখন আমিও পুরুষের কাছ থেকে সেরকম আগ্রাসী আচরণ প্রত্যাশা করতে শুরু করি।”

তিনি বলেন, প’র্নোগ্রাফি দেখার কারণে তার মধ্যে এই ভাবনাও তৈরি হতে শুরু করে যা তার শরীর কেমন হওয়া উচিৎ। এসব দেখার পর তিনি তার শরীরের সব রোম উপড়ে ফেলতে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন।

প’র্নোগ্রাফি দেখলে কী হয়
নীলমের মধ্যে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। বয়স্ক পুরুষের সাথে কম বয়সী নারীর যৌ’ন মিলনের ভিডিও দেখতে দেখতে তিনিও, যখন তার বয়স ১৭,১৮,১৯ তখন তিনিও বয়স্ক পুরুষের সাথে সম্পর্ক করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন।

“আমি জানি না কেন এরকম হয়েছিল। প’র্নোগ্রাফির কারণে নাকি অন্যকিছুর ফলে সেটা আমি বলতে পারবো না,” বলেন তিনি।

“যখন আমার বয়স কম ছিল সে’ক্সের কথা মনে হলেই মনে হতো যে আমাকে প্যাসিভ হতে হবে। সে’ক্স হচ্ছে এমন একটা জিনিস যা কেউ একজন আমাকে নিয়ে করবে। এটা কি সবসময় আমার মধ্যে ছিল নাকি প’র্নোগ্রাফি দেখে আমার মধ্যে এটা তৈরি হয়েছিল?”

২০১০ সালে তিনশোটিরও বেশি প’র্নোগ্রাফি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে তার ৮৮% জুড়ে আছে শা’রীরিক আগ্রাসনের দৃশ্য।

অনেকে মনে করেন প’র্নোগ্রাফি দেখার মধ্যে খা’রাপ কিছু নেই।
ওই একই গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষরাই সেই আচরণ করছে এবং তাদের লক্ষ্য হচ্ছে নারী। এবং নারীরা এসব দেখে আনন্দ পাচ্ছে বলেই প’র্নোগ্রাফিতে দেখানো হচ্ছে।

এধরনের আরেকটি গবেষণায় আগ্রাসনধর্মী প’র্নোগ্রাফির কী প্রভাব পড়ছে পুরুষের ও’পর সেবি’ষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। তবে বলা হয়েছে, এসব প’র্নোগ্রাফির সাথে সহিং’সতার সম্পর্ক খুব বেশি নয়।

তবে নারীদের ও’পর এর কী ধরনের প্রভাব পড়ে সেবি’ষয়ে জানা যায় আরো কম।

নীলম মনে করেন, এবি’ষয়ে স্কুলের আরো এগিয়ে আসা উচিত যৌ’ন শিক্ষার ব্যাপারে।

“আমার মনে হয় সে’ক্স এবং পর্ন স্কুলগুলোতে এখনও একটা ট্যাবু। এসব বি’ষয়ে মেয়েরা জানতে পারবে হয় স্কুলে কিম্বা প’র্নোগ্রাফি থেকে। কিন্তু আমি মনে করি না যে প’র্নোগ্রাফি থেকে মেয়েরা ভাল যৌ’ন-শিক্ষা পাবে।”

কিন্তু এরিকা মনে করেন, পর্ন দেখার মধ্যে খা’রাপ কিছু নেই। এটা হচ্ছে ওয়াইন খাওয়ার মতো। কেউ এক গ্লাস খেয়েই রেখে দেবে আবার অন্য একজনকে হয়তো পুরো বোতলটাই খেয়ে ফেলতে হবে।”

প’র্নোগ্রাফি নীলমকে এখন আর আগের মতো আকৃষ্ট করে না। তিনি বলেছেন, কয়েক বছর আগে তিনি এসব আবারও দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আর অতো ভাল লাগেনি বলে তিনি জানিয়েছেন।

হান্না এখনও এসব ভিডিও মাঝে মধ্যে দেখে থাকেন। তবে এসব তিনি বাছাই করে দেখেন। তার মধ্যে রয়েছে দম্পতিদের ঘরে তৈরি ভিডিও যার সাথে বাস্তবতার মিল রয়েছে।

মোহময় প্রকৃতি, প’র্নোগ্রাফির ক্ষয়ক্ষ’তি এবং ফিরে আসার আকুতি…
~~ শুয়াইব নাঈম

এক.
অতোটা দূরে যেতে হবে না। এইতো, আমাদের পিতার প্রজন্মের গল্প শুনি— স্বপ্নের পৃথিবীটা কতো সুন্দর ছিলো! মোহময় প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের কী দারুণ সখ্য! অবসর যাপনে মানুষ গ্রামের বটমূলে বসে স্রোতস্বিনীর দিকে উদাস হয়ে তাকিয়ে থাকতো, পায়ের কাছে আছড়ে পড়তো দলবেঁ’ধে বহুদূর পাড়ি দেওয়া ঢেউ। ছোট্ট বালকটি পরম মমতায় পিতার হাত ধরে ঢেউ গোনার চেষ্টা করতো, কিন্তু খেই হা’রিয়ে ফেলতো একটু পরেই। বাবা মুচকি হাসতেন। বালক আবার উদাস হয়ে তাকাতো নদীর দিকে। কখনো-বা আকাশের পানে। দুপুরের বৃষ্টিভেজা রোদ্দুরে কখনো কখনো একটা সোনালী ডানার চিল উড়ে বেড়াতো। করুণ সুরে ডেকে ওঠতো হঠাৎ হঠাৎ। বালক মুগ্ধ হয়ে যেতো। রিমঝিম শব্দে যখন টিনের চালে বৃষ্টি পড়তো, বাইরে প্রিয় জামগাছটি উড়ে যেতে চাইতো হাওয়ার সাথে, কলাগাছের পাতায় চলতো বাতাসের দাপাদাপি; বালক তখন ডুব দিতো সীরাত-গল্পের বইয়ে। একনাগাড়ে পড়ে ফেলতো রাসূলের জীবনকথা, তাঁর সাহাবিগণের ত্যাগের কথা। কল্পনায় সে নবীজীবনের বাঁকে বাঁকে ঘুরে বেড়াতো, রাসূলের কথা-বাণী তার ভেতর শিহরণ জাগাতো, বালকের ইচ্ছা হতো শতসহস্র বছরের ব্যবধান ভেদ করে সেই পুণ্যযুগে ফিরে যেতে। মনে মনে সে পণ করতো—আমি সাহাবিদের মতো হবো! অনন্য এক পুলক অনুভবের মধ্য দিয়ে কখন যে বালক ঘুমিয়ে পড়তো, টেরই পেতো না। ঘুমের ঘোরে মাঝেমাঝে ভ’য় পেতো বাজ পড়ার শব্দে। মা এসে শুয়ে থাকতেন আদুরে মানিকের পাশে। ঘুমের ঘোরেই সে জড়িয়ে ধরতো মায়ের গ’লা—এই পৃথিবীতে তার সবচে’ আপন মানুষটিকে।

এখনো সেই বটতলায় বহুপথ পাড়ি দিয়ে আসা ঢেউগুলো আছড়ে পড়ে। বট গাছের নিচে বসে আজও কি কেউ ঢেউ গোনে? নিঃসঙ্গ চিলটা আজও হয়তো ডানা মেলে কেঁদে কেঁদে বেড়ায়। এখনো আকাশ কালো করে বৃষ্টি আসে। টিনের চালে এখনো বৃষ্টি পড়ে। বৃষ্টির সেই শব্দ কেউ কি মুগ্ধ শ্রোতার মতো শুনে? এখনো কি কেউ মায়ের চাঁদমুখ-পানে নেকনজরে তাকিয়ে থাকে?

পিতার প্রজন্ম থেকে আমাদের প্রজন্ম, কতো বিস্তর তফাৎ! আমরাই বোধহয় সর্বশেষ জেনারেশন, যারা আবহমান বাংলার ক্ল্যাসিক্যাল শৈশব-কৈশোরের স্বাদ কিছুটা হলেও পেয়েছি। এরপর কী হয়, কে জানে! আজকাল পৃথিবীর সেই সুস্থতা, সেই সুখের মুহূর্ত দেখি না। পৃথিবীর এখন গভীর, গভীরতর অসুখ। আজকের মতো অসভ্য অ’শ্লীল কলুষিত বাতাস হয়তো পৃথিবীর হাজার বছরের ইতিহাসে আর কখনো প্রবাহিত হয় নি। প্রযুক্তির ছোঁয়া আমাদের জীবনকে উন্নত করেছে বটে। পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, প্রতি মুহূর্তের সংবাদ আমরা নিমিষেই আদানপ্রদান করতে পারি। চাইলেই ঘরের কোণে বসে ডাউনলোড করে অধরা কিতাবগুলো পড়ে নিতে পারি। এ পর্যন্ত প্রযুক্তি ভালোই ছিলো। কিন্তু প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণহীন মানুষকে করেছে আরো অনিয়ন্ত্রিত। নিজের নফসের ও’পর বিশ্বাস রাখা মানুষের সংখ্যা আদতে খুব কম। সেই মানুষগুলোকে নিয়ে শয়তান ফেঁদেছে ‘পুরাতন’ ফাঁদ। ইন্টারনেটে বিচরণকালে সহজসরল মানুষের সম্মুখে তুলে ধরা হচ্ছে শালীনতাবিবর্জিত ফ্রি ওয়েবসাইট। সে ওটাতে ক্লিক করামাত্র পরিচিত হচ্ছে অনতিক্রম্য লালসার নীল অন্ধকারের সঙ্গে, নীলরঙা সেই অন্ধকারের নাম—প’র্নোগ্রাফি। সকল খা’রাপ জিনিসের আসক্তিই মা’রাত্মক। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে পর্ন-আসক্তির মতো ধ্বং’সাত্মক আসক্তি আর হতে পারে না। পর্ন-আসক্তি হিরোইন বা কোকেইন ইত্যাদি প্রা’ণঘা’তী মা’দক সেবনের মতো ভ’য়াবহ। প’র্নোগ্রাফি আক্ষরিকভাবেই মানুষের মস্তিষ্ককে পাল্টে দেয়। বদলে দেয় মাথার ভেতরের সার্কিটগুলোর গঠন। পর্ন দেখার সময় মাথায় শুরু হয় ডোপামিন (Dopamine) আর অক্সিটোসিনের (Oxytocin) মতো কেমিক্যালগুলোর বন্যা। এ কেমিক্যালগুলো আমাদের মধ্যে আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে। প্রতিবার পর্ন দেখার সময় কেমিক্যাল বন্যা তৈরি করে সাময়িক আনন্দের জোয়ার। মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হলো, যা তাকে আনন্দ দেয়, বারবার ওই উৎসে ফিরে যাওয়া। তাই ডোপামিনের নে’শায় মানুষ আবার ফিরে যায় পর্নের কাছে। এভাবে একটা লুপ তৈরি হয়। পুনরাবৃত্তির এক পর্যায়ে উচ্চমাত্রার ডোপামিনে অভ্যস্ত মস্তিষ্ক আগের মতো আর আনন্দিত হতে পারে না। প্রয়োজন হয় আরো বেশি ডোপামিনের, আরো ‘কড়া’ পর্নের। তারপর আরো বেশি, তারপর আরো বেশি। একসময় প্রায় সম্পূর্ণভাবে ন’ষ্ট হয়ে যায় স্বাভাবিকভাবে আনন্দিত হবার ক্ষমতা। যাত্রা শুরু হয় ঘোর, ঘোরতর অন্ধকারের দিকে।

দুই.
প’র্নোগ্রাফি এমন এক ম’হামা’রী, যা অক্টোপাসের মতো ব্যক্তিসত্তা, সমাজমানসকে ক্রমশ পেঁ’চিয়ে নিচ্ছে আট পায়ে। স’মস্যা হচ্ছে, ম’হামা’রীটি বিশাল ট্যাবু (Taboo)। তার নাম নেয়া যায় না, ক্ষ’তির দিক আলোচনা করা যায় না। আলোচনার আবশ্যকতা অনিবার্য, এমন চিন্তা করাও যেনো পাপ। কিন্তু তলে তলে বি’ষাক্ত এ চিত্রকল্পের সঙ্গে আবালবৃ’দ্ধবনিতা সকলে পরিচিত, প’র্নোগ্রাফির করলগ্রাসে আ’ক্রান্ত অনেকেই। তার একটি জ্বলন্ত প্রমাণ—বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে প’র্নোগ্রাফির শাব্দিক অথবা পারিভাষিক সংজ্ঞা দেয়া ব্যতিরেকেই আপনি বুঝে যাচ্ছেন—পর্ন আসলে কী? কেউ কেউ না বুঝলেও নিশ্চিত করে বলতে পারি, সামান্য ভে’ঙে বুঝালেই হেসে হেসে বলবেন, ‘ও—ও, এর নাম প’র্নোগ্রাফি’?

প’র্নোগ্রাফি নিয়ে কথা বলা আজও ‘অশোভন’, ‘অ’শ্লীল’। প’র্নোগ্রাফির ক্ষ’তিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা আমাদের সমাজে ‘সভ্য আলাপচারিতার জন্য অনুপযোগী’। অথচ কথিত সভ্য আলাপচারিতার মুখোশে আমরা যখন আচ্ছাদিত, পর্ন নামক কালপ্রিট তখন শ্রেণি, বর্ণ, ভাষা ও জাতীয় পরিচয়ের সীমারেখা ভেদ করে আগ্রাসী উল্লম্ফনে ছুটে চলছে মেট্রোপলিটন থেকে মফস্বলে, ছড়িয়ে পড়ছে দেশে দেশে। গোগ্রাসে সাবাড় করছে শি’শু থেকে নিয়ে অশীতিপর বৃ’দ্ধকেও। পরিসংখ্যান উল্লেখ করলে বি’ষয়ের ভ’য়াবহতা আঁচ করা সহজ হবে। পর্ন-আসক্তির ও’পরে বাংলাদেশে কোনো গবেষণা হয় নি বললেই চলে। তবে এখন পর্যন্ত যতটুকু হয়েছে, চমকে দেয়ার জন্য তা-ই যথেষ্ট।

২০১২ সালে কয়েকটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির কিছু ছাত্রছাত্রীর ও’পর চা’লানো একটি জরিপে দেখা যায়, শতকরা ৭৬ জন শিক্ষার্থীর নিজের ফোন আছে। বাকিরা বাবা-মার ফোন ব্যবহার করে। এদের মধ্যে—

• ৮২ শতাংশ সুযোগ পেলে মোবাইলে পর্ন দেখে।
• ক্লাসে বসে পর্ন দেখে ৬২ শতাংশ।

সবচে ভীতিপ্রদ তথ্য হচ্ছে, বেস’রকারি এক হিসাবে দেখা গেছে ফটোকপি আর মোবাইল-ফোনে গান/রিংটোন ভরে দেয়ার দোকানগুলো থেকে দেশে দৈনিক ২.৫ কোটি টাকার পর্ন বিক্রয় হচ্ছে। এগুলো আজ থেকে ন’বছর আগের তথ্য, তখন অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার এতোটা ব্যাপক ছিলো না। বর্তমান অবস্থা কী হতে পারে, কল্পনা করুন!

এ ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে একমাসে গুগলে ‘পর্ন’ শব্দটা সার্চ করা হয়েছে ০.৮ মিলিয়ন বারেরও বেশি। বিশ্বব্যাপী সংখ্যাটা হচ্ছে ৬১১ মিলিয়ন বার। ‘সে’ক্স’ শব্দটা বাংলাদেশ থেকে সার্চ করা হয়েছে ২.২ মিলিয়ন বার। বিশ্বব্যাপী করা হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন বার। অন্যান্য প’র্নোগ্রাফিক শব্দের ক্ষেত্রেও অবস্থা এমনই। ৩০ জুলাই ২০১৩, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS) প’র্নোগ্রাফির উপর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টে বলা হয়, ঢাকার সাইবার ক্যাফেগুলো থেকে প্রতিমাসে বিভিন্ন পেশার, বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা যে পরিমাণ পর্ন ডাউনলোড করে, তার মূল্য ৩ কোটি টাকার মতো।

‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, পর্ন ভিডিওতে আসক্ত রাজধানীর ৭৭ শতাংশ কি’শোর। অবস্থার ভ’য়াবহতা ফুটে ওঠে সময় টিভির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও।

এ পর্যন্ত দৈশিক পরিসংখ্যানের কিয়দাংশ তুলে ধরা হলো। আঁতকে ওঠার মতো আরো অনেক পরিসংখ্যান আছে। সব লেখতে গেলে নিবন্ধটি ঢাউস গ্রন্থের রূপধারণ করবে। বৈশ্বিক পরিসংখ্যান তো রয়েই গেলো। অনুসন্ধিৎসু পাঠকের নিকট আবেদন থাকবে, দৈশিক ও বৈশ্বিক পরিসংখ্যানগুলো সংগ্রহ করতঃ পড়ে প’র্নোগ্রাফির তা’ণ্ডবলীলা অন্তরচক্ষে অনুধাবন করে মানুষ ও সমাজমানস শুদ্ধিকরণের যু’দ্ধে অংশ নিন।

তিন.
ইবলিস যেদিন শপথ করেছিলো—মানুষকে পথভ্রষ্ট করবে, ধাবিত করবে জাহান্নামের দিকে; সেদিন থেকে আশরাফুল মাখলুকাতের বি’রুদ্ধে তার অন্যতম অ’স্ত্র হলো ন’গ্নতা। আমাদের আদি পিতা-মাতার বি’রুদ্ধেও শয়তান ন’গ্নতার ফাঁদ ফেঁদেছিলো। আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-কে জান্নাত থেকে বের করার আগে সে বি’বস্ত্র করে ছেড়েছিলো।

রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘হে বনী-আদম! শয়তান যেনো তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে, যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছে— যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়… [সূরা আ’রাফ ৭:২৭]’।

যুগ অতিক্রান্ত হয়েছে, কালের দুর্বিপাকে কতোকিছু বদলে গেছে, কিন্তু মানুষকে বিবসন করে বিপথে নেয়ার শয়তানের সেই চ’ক্রান্ত আজ অবধি শেষ হয় নি; বরং যুগযুগান্তরে উ’লঙ্গপনার খান্নাসি মিশন বেড়েই চলছে। অধুনা ইন্টারনেট প’র্নোগ্রাফির বদৌলতে শয়তানের শয়তানি চ’রম মাত্রা লাভ করেছে। মানবস’ন্তানের জন্য শয়তানের পাতা ফাঁ’দে পা দেয়া হারাম, তাই সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মানুষ কখনোই পর্নো দেখতে পারে না।

নিচে প’র্নোগ্রাফির ‘কয়েকটি’ ভ’য়দ-ক্ষ’তিকর পরিণতি তুলে ধরা হলো। পরবর্তীতে যখন পর্ন দেখার ভূত আপনার ঘাড়ে চা’পবে, কথাগুলো নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিবেন; ব্যস, কাজ হয়ে যাবে!

* প’র্নোগ্রাফি আপনাকে ভালোবাসার বি”কৃত সংজ্ঞা শেখায়:
আপনি যখন পর্ন মুভি দেখেন; তখন আপনি নিজের অজান্তেই অনুভূতিহীন, নিষ্ঠুর, স্বার্থপর মানুষে পরিণত হন। কারণ, পর্ন মুভিগুলোতে মানুষের ভালো-লাগা, ভালোবাসা, দুঃখ-ক’ষ্ট-আনন্দ ইত্যাদি কোনো অনুভূতিকে উপস্থাপন করা হয় না, শুধু দেখানো হয় ‘পেনেট্রেশন (Penetration)’। অথচ বাস্তব জীবনে আপনি আপনার সঙ্গীকে আদর-সোহাগ করবেন, গল্প-গুজব করবেন, বনভোজনে যাবেন— এসবই একটা সুস্থ ভালোবাসাময় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পর্ন আপনার হৃদয় থেকে ভালোবাসার সেই অনুভূতি কেড়ে নেয়। পর্ন মুভি আপনার মাঝে এভাবে প্রো’গ্রাম সেট করে দেয় যে, আপনি বিশ্বাস করা শুরু করেন, ভালোবাসার অপর নাম পেনেট্রেশন। অ্যামেরিকায় এক জরিপে দেখা গেছে, ডি’ভোর্স হওয়া দম্পতিদের ৫৬ শতাংশ স্বামী বা স্ত্রীর একজন পর্ন-আসক্ত।

অনেক তরুণ মনে করে— ‘এখন তো আমার বয়স কম, এখনো বিয়ে করি নি, একটু পর্ন দেখি, বিয়ের পর ছেড়ে দেবো’। কিন্তু পরিসংখ্যান ভিন্ন কথা বলে। দেখা গেছে, তরুন বয়সে পর্ন দেখা যাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, বিয়ের পর তাদের বেশিরভাগই পর্ন দেখা ছাড়তে পারে না। কাজেই আমি এখনো বিয়ে করি নি, তাই পর্ন দেখবো—এটা পর্ন দেখা হালাল করার কোনো অজুহাত হতে পারে না। এই বাহা’না নিজেকে ধ্বং’সস্তূপে নি’ক্ষেপ করার নামান্তর।

* পর্ন আপনার মানবিক অনুভূতিকে বিন’ষ্ট করে দেয়:
পর্ন আপনাকে শেখায়— মেয়ে জাতি মানুষ নয়, কেবলই উপভোগ্য বস্তু। পর্ন দেখার ফলে আপনি রাস্তা-ঘাটে, অফিসে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন কোনো মেয়েকে দেখেন— চাই সে পর্দানশীন হোক বা বেপর্দা; তখন আপনার মননে এ সরল কথাটি উদিত হয় না যে, তারও একটা জীবন আছে, আশা-আকাঙ্ক্ষা আছে, দুঃখ-ক’ষ্ট-আনন্দ-ভালোবাসার অনুভূতি আছে। আপনি শুধু চিন্তা করতে থাকেন, এই মেয়েটার মধ্যে উপভোগ করার মতো কী রয়েছে? একটা মেয়ে রাস্তায় পা পিছলে পড়ে গেলে আপনি চিন্তা করেন না, মেয়েটা ব্য’থা পেয়েছে কি না, তাকে উ’দ্ধার করা যায় কি না, বরং আপনি চিন্তা করতে থাকেন— উঁকিঝুঁ’কি দিয়ে তার শরীরের কোনো অংশ দেখা যায় কি না! একটি মেয়েকে তার সততা, মেধা ও মানবিক গুণাবলী দিয়ে বিচার না করে আপনি তাকে বিচার করেন শরীরের বিশেষ কিছু স্থানের আকার-আকৃতি দিয়ে। প’র্নোগ্রাফি আপনাকে শেখায়— ক্লাসমেট, অফিসের কলিগ থেকে শুরু করে মাহরাম, গয়র মাহরাম সবার সাথে শারিরীক সম্পর্ক গড়া যায়। এভাবে পর্ন আপনাকে অ’বৈধ সম্পর্ক গড়তে উৎসাহিত করে, মানবিক অনুভূতি ন’ষ্ট করে হিং’স্র জন্তুতে পরিণত করে। অ্যামেরিকাভিত্তিক এক জরিপে দেখা গেছে যে, গড়ে ৬৮ শতাংশ বিবাহ বিচ্ছেদ হয় অনলাইন প’রকীয়ার কারণে।

* পর্ন-আসক্তি একজন মেয়ের বিশেষাঙ্গ বি”কৃত করে দিতে পারে:
বিয়ের আগে যেসব মেয়ে প’র্নোগ্রাফিতে মা’রাত্মক আসক্ত হয়ে পড়ে, তারা নানান পন্থায় মাস্টারবেশন করে বিশেষ অঙ্গের অপূরণীয় ক্ষ’তি করে ফে’লে। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে স্বাভাবিক যৌ’নক্রিয়ায় সন্তুষ্ট হতে পারে না। ফলশ্রুতিতে শুরু হয় মনোমালিন্য, ভে’ঙে খানখান হয় স্বপ্নের বাসর।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত পর্ন-আসক্ত মেয়েরা মাস্টারবেশনে অতিমাত্রায় অভ্যস্ত হয়। এবং এটা করার জন্য তারা শক্ত-কঠিন বস্তুও ব্যবহার করে থাকে, যা অমসৃণ। ফলশ্রুতিতে কারো বিশেষ অঙ্গের ভেতরে পঁচন ধরে, কারো ছিঁড়ে যায়—মোটকথা, বিশেষ অঙ্গ বি”কৃত হয়ে যায়। যৌ’ন উ’ত্তেজনায় বা নিছক কৌতূহলে অতিরিক্ত পুশ করার ফলে সার্ভিক্সে আ’ঘাত লেগে আ’হত হতে পারে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট। তাছাড়া, বাইরের বহু জার্মস এই অংশে প্রবেশ করার ফলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনও হতে পারে। এরকম অধিকাংশ মেয়ে মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করতে পারে না।

দ্র. মাস্টারবেশনের কারণে শুধু মেয়েদেরই নয়, ছেলেদেরও বিশেষাঙ্গও কুৎসিত আকার ধারণ করে।

* পর্ন আপনার চোখেমুখে হতাশার চিত্র ফুটিয়ে তোলে:
পর্ন-আসক্ত লোকের চেহারায় বি’ষণ্নতার ভাব ফুটে ওঠে। কোনো কাজে সে মনোযোগী হতে পারে না। সারাদিন মাথার ভেতর পর্নের সিনগুলো গিজগিজ করতে থাকে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, অবিজ্ঞ লোক অথবা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিসম্পন্ন আলেম আপনার দিকে তাকালেই বুঝে ফেলবেন যে, আপনি পর্ন-আসক্ত। এভাবে আপনার প্রতি মানুষের নেতিবাচক ধারণা জন্মাবে। পরিণামে আপনি সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে ধীরে ধীরে অবোধ্য অন্ধকারে হা’রিয়ে যাবেন।

* প’র্নোগ্রাফি আপনার চিন্তা ও স্মরনশক্তি লোপ করে:
উলামায়ে ইসলাম আদিকাল থেকেই বলে আসছেন—আল্লাহ যা দেখতে নিষেধ করেছেন, তার দিকে তাকালে স্মরনশক্তি, চিন্তাশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। একবার ইমাম শাফেয়ী রহ. কুরআনের কিছু আয়াত ভু’লে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর উস্তাদ ইমাম মালিক রহ.-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘তুমি হয়তো হারাম কিছু দেখেছো, তাই আল্লাহ তাআলা তোমার থেকে জ্ঞান তুলে নিয়েছেন’। ইমাম শাফেয়ী রহ. প্রথমে কিছুই মনে করতে পারছিলেন না। অনেক ভাবনার পর বুঝতে পারলেন, সেদিন যখন বাজারে গিয়েছিলেন, তখন এক মহিলা বাহন থেকে নামার সময় তার পায়ের গোড়ালির উপরে কাপড় ওঠে যায়, সেদিকে ইমাম শাফেয়ী রহ.-‘র চোখ পড়ে গিয়েছিলো। সাথে সাথে শাফেয়ী রহ. নিজের পাপের উপর অনুতপ্ত হয়ে খাস দিলে আল্লাহর নিকট ইস্তেগফার করেন। পরবর্তীতে আল্লাহ তাঁকে বিস্মৃ’ত আয়াতগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

মনোবিজ্ঞানীরাও গবেষণায় দেখেছেন যে, প’র্নোগ্রাফি মানুষের স্মরনশক্তি কমিয়ে দেয়, চিন্তাশক্তি হ্রাস করে, অমনোযোগী করে এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। জার্মানির ডুইসবুর্গ-এসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ‘ডক্টর ক্রিস্টিয়ান লেয়ের’ ২৬ বছর বয়সী ২৮জন মানুষের ও’পর পর্ন ছবি দেখার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, পর্ন দেখার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এদের স্মৃ’তিশক্তি কমেছে এবং মনোযোগী হবার ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

* পর্ন আপনাকে অক্ষম করে দিতে পারে:
অতিরিক্ত পর্ন ভিডিও দেখার ফলে উত্তেজিত হবার ক্ষমতা ন’ষ্ট হয়ে যেতে পারে। এর কারণ হলো, সম্প্রতি পর্ন ভিডিওগুলো ধারণ করা হয় হাই ডেফিনিশন ক্যামেরায়। এসব ক্যামেরায় পর্ন-স্টারদের শরীরকে জুম করে এতো এতো নিখুঁতভাবে দেখানো হয়, যা বাস্তবে পাওয়া অসম্ভব। সঙ্গীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আপনার ভাবনা অনুযায়ী না হওয়ায় আপনি সহজে উত্তেজিত হতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটা পর্ন সিনেমা আপনার সম্মুখে নিয়ে আসে নতুন নতুন মডেল, লোকেশন আর নতুন নতুন কাহিনী। আপনার ব্রেইন ক্রমান্বয়ে এই নতুনত্বে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, পুরনো কোনোকিছু তখন আর আপনাকে উত্তেজিত করতে পারবে না। ফলস্বরূপ এরকম ঘটতে পারে যে, আপনি কিছুতেই আর আপনার সঙ্গীকে দেখে উত্তেজিত হবেন না। কারো কারো ক্ষেত্রে এই অক্ষমতা এমন ভ’য়াল রূপধারণ করে যে, তারা শুধু পর্ন মুভি দেখেই উত্তেজিত হয়, অন্যকোনোকিছু তাদের মাঝে উ’ত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে না। এমনকি ভায়াগ্রার মতো শক্তিশালী উত্তেজক ও’ষুধও তাদের মধ্যে কোনো ভাবান্তর সৃষ্টি করতে পারে না। এই স’মস্যাকে ইরেকটাইল ডিসফাংশন (Erectile Dysfunction) বলে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা কি’শোর বয়সে পর্ন দেখা শুরু করে, তাদের মাঝে এই স’মস্যা সবচেয়ে প্রকট।

* আপনার এই সুন্দর দেহের কদর থাকবে না:
পর্ন সিনেমায় মেকাপ, সার্জারি, এডিটিং, অভিনয়—এসব ব্যবহার করে মানবদেহ ও যৌ’নতা নিয়ে ভু’ল ও অবাস্তব ধারণা মানুষের মনে প্রোথিত করা হয়। দর্শক ভাবে, আরে! এই অভিনেতা কতো সুন্দর, তার বিশেষাঙ্গ কতো বৃহৎ ও শক্তিশালী, কিন্তু আমার তো এমন নয়।
এরকম অবান্তর চিন্তা করতে করতে পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি নিজের সুন্দর চেহারার প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে পড়ে, তার কাছে আপন শরীরের কদর থাকে না। এভাবে সে ডিপ্রেশনে ভুগতে ভুগতে একসময় আত্মহ’’ত্যার মতো জঘন্য পথ বেছে নেয়।

* আপনি যখন পর্ন দেখেন, তখন আপনি প’তিতা তৈরি করেন:
আপনি কি মনে করেন, যারা পর্ন মডেল হয়েছে, তারা সবাই স্বেচ্ছায় পর্ন সিনেমায় কাজ করতে এসেছে? মোটেই না। এদের অনেককেই লোভনীয় চাকুরি, ফ্রি ট্যুর-সহ বিভিন্ন মি’থ্যা প্রলোভন দেখিয়ে শুটিং স্পটে নিয়ে আসা হয়। তারপর কাড়ি কাড়ি টাকার লোভ দেখিয়ে, রঙিন জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে পর্ন মুভিতে অভিনয় করানো হয়। অ্যামেরিকাতে সাধারণ কাজে ঘণ্টায় যতো টাকা পাওয়া যায়, পর্ন মুভির জন্য প্রতি ঘন্টায় তারচে ২০ গুণ বেশি টাকা দেয়া হয়। অর্থের লোভে পড়ে কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েরা পর্ন মুভিতে নাম লেখায়, আর এভাবেই শুরু হয় পেশাদার প’তিতা জিন্দেগীর। একটি নি’র্মম সত্য হলো, যে একবার পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করে ফে’লে, শত অনুতাপের পরও সে আর এ লৌহশি’কল ভে’ঙে মুক্ত জীবনে ফিরতে পারে না।

মানুষ নতুন নতুন পর্ন মডেল দেখতে পছন্দ করে। আর তাই পর্ন মুভির প্র’ডিউসাররা নিত্য-নতুন প্রলোভন দেখিয়ে নতুন নতুন মেয়েদেরকে প্রস্টিটিউশনের (Prostitution) জগতে নিয়ে আসে। আপনি পর্ন সিনেমায় যে মেয়েটাকে হাসতে দেখছেন, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ডুবে যেতে দেখছেন—মোবাইল/কম্পিউটার বন্ধ করে দিলেই আপনার তাকে দেখতে হয় না। কিন্তু সে যাতে পরের মুভিতেও আপনার সামনে আসতে পারে, এ জন্য তাকে প’তিতা হিসেবেই থেকে যেতে হয়। আপনি আপনার কম্পিউটারের সামনে বসে নিত্য-নতুন পর্ন মডেল দেখার জন্য যে ক্লিক করছেন, সে ক্লিকের চাহিদা মেটানোর জন্য প্র’ডিউসারকে ক্রমাগত নতুন নতুন মেয়ে জোগাড় করে সাপ্লাই দিতে হচ্ছে। এভাবে আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ মনে হওয়া ক্লিকের কারণেই বিশ্বজুড়ে পর্ন ব্যবসার পালে হাওয়া লাগছে, আর এর সূত্র ধরে প্রতিদিন নতুন নতুন প’তিতার জন্ম হচ্ছে।

আর যেসব পর্ন গো’পনে ধারণ করা হয়, এগুলো যে কতো মানুষের জীবন ন’ষ্ট করেছে, কতো মেয়ে এগুলোর কারণে আত্মহ’’ত্যা করেছে; তার ইয়ত্তা নেই। ভেবে দেখু’ন, কেউ যদি গো’পন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও না দেখতো, তাহলে কি কেউ এগুলো ধারণ করতো, ভিডিওগুলোর জন্য কি কারো জীবন ন’ষ্ট হতো? নিশ্চয় না।

* সবকিছু আমলনামায় লিপিবদ্ধ হচ্ছে:
মনে রাখবেন, আপনি একা ঘরে কম্পিউটারের সামনে বসে যা করছেন, তা আর কেউ না দেখলেও আল্লাহ দেখছেন, ফেরেশতারা লিপিবদ্ধ করছেন পরিষ্কার গ্রন্থে। এখনো পর্যন্ত যদি আল্লাহ আপনার কু’কর্ম মানুষের সামনে প্রকাশ না করে থাকেন, তাহলে বুঝতে হবে; আল্লাহ আপনাকে তাওবাহ করার সুযোগ দিতে চান। তৎসত্ত্বেও যদি আপনি তাওবাহ না করে মা’রা যান, তাহলে এই গ্রন্থের সবকিছু একদিন আপনার সামনে তুলে ধরা হবে। মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-স’ন্তান, বন্ধুবান্ধব সবাই আপনার আমলনামা দেখতে পাবে, অন্ধকার ঘরে পর্ন-ভিডিওতে বুঁদ হওয়ার তথ্য সেদিন ফাঁ’স হবে। নিজেকে প্রশ্ন করুন, সেই বি’ষম লজ্জার সম্মুখী হওয়ার ‘তাকত’ কি আপনার শীর্ণ দেহে আছে?

বন্ধু আমার! রবের দেয়া সুযোগ আর কতো হেলায় ফে’লে দিবেন? কতো বেঈমানি করবেন স্রষ্টার সঙ্গে? নিজের সঙ্গে বিশ্বাসঘা’তকতা করার সময় কি এখনও শেষ হয় নি? সত্যি করে বলুন, প্রতিবার পর্ন দেখার পর, হ’স্তমৈ’থুন করার পর আপনি কি অনুতপ্ত হন নি; প্রতিজ্ঞা করেন নি, আর কখনো এগুলো দেখবো না, এসব করবো না? তাহলে কেনো আবার দেখছেন, কেনো ফিরে যাচ্ছেন আঁধার মাড়ানো পথে? কোন সে শক্তি আপনাকে বেঁ’ধে রেখেছে দুর্বোধ্য বেড়াজালে? আর কতো পা দিবেন শয়তানের ফাঁ’দে? শয়তান ও তার চ্যালাচামুণ্ডাদের আনুগত্য করার জন্যই কি আপনার জন্ম হয়েছে?

একবার চিন্তা করুন, আপনি বিভিন্ন পর্ন ওয়েবসাইটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, পর্ন দেখে/চটিগল্প পড়ে স্বমেহনে লিপ্ত হচ্ছেন, এমতাবস্থায় যদি মৃ’ত্যুর ফেরেশতা আপনার সামনে চলে আসেন, তাহলে কী অবস্থা হবে? হাশরের ময়দানে আপনাকে যখন এ অবস্থায় তোলা হবে, কী জবাব থাকবে? এ দুনিয়ার মোহ-চাকচিক্য কি কোনো কাজে আসবে তখন?

চার.
উপরে প’র্নোগ্রাফির ‘কিছু’ ক্ষ’তিকর দিক তুলে ধরা হয়েছে। এখানেই শেষ নয় কিন্তু। পর্ন সিনেমার ক্ষ’তির বিশাল অংশ না-বলাই রয়ে গেছে। সারসংক্ষেপ বলি—আপনার সমস্ত সুখ কেড়ে নিয়ে জীবনকে ধ্বং’স করে দেয়ার জন্য এক প’র্নোগ্রাফিই যথেষ্ট।

এখন পর্ন-আসক্তি থেকে মুক্তিলাভের পদ্ধতি বাতলে দেয়া হবে। আপনি যদি সোজাসাপটা স্বীকার করেন যে, আপনি পর্ন-আসক্ত; তাহলে নিবন্ধের এ পর্বে আমরা আপনার প্রতি সাহায্যের হস্ত প্রসারিত করবো। আর যদি আসক্ত হওয়ার পরেও গোঁ ধরে বসে থাকেন, ‘আমি পর্ন-আসক্ত নই, শুধু মাঝেমধ্যে দু-একটা পর্ন ভিডিও দেখি’। তাহলে আপনার ব্যাপারে কিছুই বলার নেই, আপনাকে সাহায্য করার সাধ্য কারোরই নেই।

প’র্নোগ্রাফির বি’ষাক্ত ছোবল থেকে সত্যিই যাঁরা মুক্তি পেতে আগ্রহী, যাঁরা যু’দ্ধ করতে চান বিনাশী প’র্নোগ্রাফির বি’রুদ্ধে; তাঁদের সঙ্গে কিছু টিপস (Tips) ভাগ (Share) করে নিচ্ছি, যার যার আসক্তির মাত্রানুসারে টিপসগুলো প্রয়োগ (Apply) করলে প্রাপণীয় ফলাফল পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ!

* দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হোন:
পর্ন-আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে প্রথমে আপনাকে এ মর্মে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, ‘আমি আর কখনো পর্ন দেখবো না। এমনকি প্রা’ণ গেলেও না’। এরপর প্রতিজ্ঞার উপর অটল থাকতে হবে। প্রবৃত্তির টানে কখনো যদি পর্ন দেখেও ফে’লেন, তবুও হতাশ হয়ে একথা বলা চলবে না, ‘ধুর, সংকল্প করে কী লাভ? আমি তো প্রতিজ্ঞা ঠিক রাখতে পারি না। এসব অঙ্গীকার ছেড়ে বরং পুরোদমে পর্ন দেখায় মন দিই’। এরকম বললে নিজেই নিজের অশুভ পরিণতি ডেকে আনবেন, কিছুই করার থাকবে না।

পরন্তু আপনাকে পূর্বের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে প্রতিজ্ঞার ও’পর ফিরে আসতে হবে; পরেরবার যু’দ্ধের মা’নসিকতা নিয়ে মজবুত থেকে মজবুততর শপথ করতে হবে। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গেলে মনে করুন আপনি পর্ন স’মস্যা থেকে নিস্তার পেয়েই গেছেন।

* দৃষ্টিকে সংযত করুন:
প’র্নোগ্রাফি গোটা বি’ষয়টি দৃষ্টি ব্যাপৃত। প্রথমে চোখ দিয়ে দেখা হয়, তারপর সেটি মস্তিষ্কে অ্যা’কশন করে। যদি একজন মানুষ দৃষ্টির হেফাজতের প্রতি গুরুত্ব দেয়, তাহলে সে অটোম্যাটিকলি পর্ন-আসক্তি থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে। তাছাড়া কিছু মানুষ আছে, তারা সরাসরি পর্ন দেখা শুরু করে না। কোথাও কিছু দেখে উ’ত্তেজনা অনুভব করলে পরে উ’ত্তেজনাকে চূড়ান্ত রূপ দেয়ার জন্য পর্নের দ্বারস্থ হয়। এই লোকগুলো যদি নিজের দৃষ্টিকে অবনমিত রাখতো, হারাম জিনিসের দিকে না তাকাতো, তাহলে নিশ্চয় প’র্নোগ্রাফি পর্যন্ত পৌঁছতো না।

একজন বিশ্বাসী ব্যক্তি ইচ্ছে করলেই যে কোনো বি’ষয়ের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে পারে না। অ’বৈধ কোনো জিনিস দেখা তাঁর জন্য শোভনীয় নয়। কারণ, বিচারদিবসে দৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন—
إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولاً.
অর্থাৎ, নিশ্চয়ই কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে [সূরা আল-ইসরা ১৭:৩৬]।

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে—
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ.
অর্থাৎ, মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং যৌ’নাঙ্গের হেফাজত করে [সূরা আন-নূর ২৪:৩০]।

এর পরের আয়াতে মুমিন মহিলাদের জন্যও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বনবী সা. ইরশাদ করেন—
إِنَّ النَّظْرَةَ سَهْمٌ مِنْ سِهَامِ إِبْلِيسَ مَسْمُومٌ.

অর্থাৎ, দৃষ্টি শয়তানের একটি বি’ষাক্ত তির [আল-মুজামুল কাবির লিত-তাবারানি]।

দৃষ্টি বড় নেয়ামত, এটার সাহায্যে ইবাদত করা হয়। দৃষ্টি বড় বি’পদ, এটা সকল স’মস্যার সূত্রপাত। দৃষ্টির মাধ্যমে শয়তান যুবক-যুবতীদের কাবু করে ফে’লে, নিয়ে যায় অতল গহ্বরে। সুতরাং, পর্ন-সংসক্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য দৃষ্টিকে সংযত করতে হবে।

* চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করুন:
আমিও যুবক। আমি জানি, একজন যুবকের চিন্তা কতো দিকে ঘুরতে পারে! সমাজের ধরাবাঁ’ধা নিয়মের দাসত্ব করতে গিয়ে যুবককে একাকী (অবিবাহিত) থাকতে হয় যৌবনের দীর্ঘ সময়। ইবলিশ ব্যাটা এ সময়টাকেই সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে, অন্তরে ঢেলে দেয় আদিম সুখের চিত্রকল্প। যুবক যখন একান্তে কামপ্রবৃত্তি সম্পর্কে ভাবনাচিন্তা করে, তখন শয়তান তার সম্মুখে টোপর ফে’লে প’র্নোগ্রাফির গভীর খাদে প্রবেশ করতে বা’ধ্য করে। এজন্য প’র্নোগ্রাফির করালগ্রাস থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যখনই মনের মাঝে কোনো অশালীন চিন্তা অনুপ্রবেশ করবে, সঙ্গে সঙ্গে চিন্তার গতিপথ বদলে দিয়ে ইতিবাচক দিকে নিয়ে যেতে হবে।

* একাকী সময় কা’টাবেন না:
অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডাখানা। পর্ন-আসক্ত ব্যক্তি যখন কাজবিহীন একাকী থাকে, শয়তান তখন ভু’লিয়ে-ভালিয়ে তাকে প’র্নোগ্রাফির চোরাবালিতে নিয়ে যায়; প্রতিজ্ঞার কথা আসক্ত ব্যক্তির মনেই থাকে না। অতএব, আপনার জন্য উচিত হলো—একাকী সময় কম কা’টানো। শুধু ঘুমানোর সময় বেডরুমে যাওয়া এবং তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া। বাকি সময় আপনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জ’ড়িত থাকুন, লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করুন; পবিত্রতম স্থান মসজিদে ইবাদত করুন অথবা অনুরূপ ভালো কাজে ব্যয় করুন। এতে প’র্নোগ্রাফি থেকে মুক্তিও মিলবে, ভবি’ষ্যৎও উজ্জ্বল হবে।

* এন্টি পর্ন সফটওয়্যার ইনস্টল (Install) দিন:
গুগলে সার্চ দিলে এন্টি পর্ন সফটওয়্যার পাওয়া যায়, তা আপনার ডিভাইসে ইনস্টল দিন। সফটওয়্যারের পাসওয়ার্ড বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুকে দিয়ে তৈরি করালে ভালো হয়, নচেৎ পর্ন নে’শা আপনার মাথা চড়ার পর আপনি লক খুলেই পর্ন দেখা শুরু করবেন। কারণ, পর্ন দেখা আপনার নিয়মিত অভ্যাস, আপনি তাতে সংসক্ত।

তাছাড়া গুগলে পর্ন কন্টেন্ট ব্লকও করা যায়, সেটা করে ফেলুন। এ সংক্রান্ত সহযোগিতা চাইলে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ!

* নিজেকে রিমাইন্ড (Remind) দিন:
মুমিনের জন্য রিমাইন্ডার খুবই উপকারী। ইরশাদ হয়েছে—وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَىٰ تَنفَعُ الْمُؤْمِنِينَ

রিমাইন্ডের দুটি ধরণ হতে পারে। ১. আপনি যখন পর্ন দেখছেন, তখন চিন্তা করুন, নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন; ধীরে ধীরে আপনার ব্রেইন ড্যামেজ (Damage) হয়ে যাচ্ছে, স্মরণ শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে, ভবি’ষ্যৎ অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে। দুই. আপনি আপনার মোবাইল/ট্যাব/কম্পিউটারের স্ক্রিনে লিখে রাখু’ন— Allah is watching me/আল্লাহ আমাকে দেখছেন/يَرانِي اللهُ। এরকম করলে মোবাইল/কম্পিউটারের সামনে বসামাত্র আপনার মনে পড়বে—আল্লাহ আপনাকে দেখছেন। এই রিমাইন্ডারের কারণেই হয়তো আল্লাহর রহমতে আপনি প’র্নোগ্রাফির করালগ্রাস থেকে মুক্তি পেয়ে যেতে পারেন।

* নিয়মিত নামাজ পড়ুন:
কিছুতেই নামাজ ত্যাগ করা যাবে না। আপনি যদি রেগুলার নামাজি না হয়ে থাকেন, তাহলে আজ থেকেই নিয়মিত নামাজ পড়া শুরু করুন। নামাজই আপনাকে মুক্ত করতে পারে ঘা’তক প’র্নোগ্রাফির হাত থেকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন — إِنَّ الصَّلاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ

‘নিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে অ’শ্লীল কাজ ও পাপা’চার থেকে দূরে রাখে [সূরা আনকাবুত ২৯:৪৫]’।

কোনো ঘরে যেমন একসঙ্গে আলো ও অন্ধকার বিরাজ করতে পারে না, তেমনি একটি হৃদয়ে একইসাথে নামাজ আর প’র্নোগ্রাফি থাকা অসম্ভব।

* কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করুন:
সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করার পর চোখের পানি ছেড়ে রবের দরবারে মোনাজাত করতে হবে—‘হে আল্লাহ! অতীতে যা করে ফে’লেছি, তার জন্য আপনার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আমি হা’রিয়ে গেছি নীল অন্ধকারে, সেখান থেকে বের হয়ে মুক্ত বাতাসের সন্ধান পেতে চাই। মাবুদ, তুমি সাহায্য করো। তোমার সহযোগিতা ছাড়া উপায় নাই’!

কারণ, বর্ণিত টিপসগুলোই যথেষ্ট নয়, কোনো কোশেশই কার্যকরি নয়, যদি না আল্লাহ তাআলা সাহায্য করেন। তাই প’র্নোগ্রাফি থেকে চিরমুক্তির জন্য টিপসগুলো প্রয়োগ করার পাশাপাশি মহান রবের দরবারে সাহায্যও ভিক্ষা চাইতে হবে।
.
দিনশেষে লড়াইটা একান্ত আপনার। আমরা হয়তো আপনার হাতে ঢাল-তলোয়ার তুলে দিতে পারি, পরিয়ে দিতে পারি বর্ম আর শিরস্ত্রান, কিন্তু রণাঙ্গনে আসক্তির বি’রুদ্ধে দৃঢ়তার যু’দ্ধ আপনাকেই করতে হবে। পদে পদে বা’ধা আসতে পারে, সকল বা’ধাবিঘ্ন উপেক্ষা করে বীরবিক্রমে আপনাকেই এগিয়ে যেতে হবে।

গবেষকেরা বলবেন—পর্ন-আসক্তি থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। উত্তরে আপনি বলুন—“যু’দ্ধক্ষেত্রে আমি শুধু বিজয়ের অর্থ বুঝি, পরাজয় বা পিছু হটা এসব শব্দ আমার অভিধানে নেই। ব্য’র্থতা বা ভু’ল করার সংজ্ঞা আমি জানি না। আমার পক্ষে আছেন স্বয়ং আসক্তির সৃষ্টিকর্তা। আমি তাঁর ও’পর তাওয়াক্কুল করি।

‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ও’পর ভরসা করে, তিনিই তার (কর্ম সম্পাদনের) জন্য যথেষ্ট [সূরা আত-তা’লা’ক ৬৫:৩]।’

আমি ফিরে যেতে চাই সেই সোনালী শৈশবে। প্রকৃতি-প্রেমে বিমোহিত হতে চাই। যান্ত্রিক গোলযোগের ঝক্কিঝামেলা ছেড়ে মুগ্ধ হতে চাই নদীর কলকল বয়ে চলায়, জোনাকির উড়ে যাওয়ায়, ফুলের সুগন্ধে আর চাঁদের জোছনায়”।

[তথ্য, আইডিয়া ও ভাষা ঋ’ণ:— মুক্ত বাতাসের খোঁজে, Beat It, ঘুরে দাঁড়াও, তাফসীরে মারেফুল কুরআন, তাফসীরে তাওযিহুল কুরআন, আল-মুজামুল কাবির লিত-তাবরানি, ডাঃ জাকির নায়েক ও মিজানুর রহমান আজহারীর লেকচার এবং অনলাইন ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত আর্টিকেল।]