‘সরকার এই কয় খোলা, এই কয় বন্ধ; গাড়ি কি রাস্তায় ফালাইয়া যাইতাম?’

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : আগস্ট 1, 2021 06:59:32 অপরাহ্ন
0
7
views

‘সরকার এই কয় খোলা, এই কয় বন্ধ। গাড়ি ডা কি রাস্তায় ফালাইয়া যাইতাম? ড্রাইভার হইয়া আমরার মরণ’। রবিবার (১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবাধে সকল গণপরিবহন চলাকালে কুমিল্লার চান্দিনা স্টেশন এলাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এভাবেই ক্ষোভ ঝাড়লেন চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা যাত্রবাহী বাসের চালক আব্দুল কাইয়ূম। কাইয়ূম বলেন, ‘ঢাকা থেইক্কা যাত্রী লইয়া চিটাং গেছি, আবার সকাল ১১টায় চিটাং থেইক্কা ঢাকা রওয়ানা হইছি। ১২টার আগে ঢাকা পৌঁছতাম কেমনে?

গাড়ি তোর স্ট্যান্ড নিয়া রাখতে হইবো। ফেরি চলবো সোমবার পর্যন্ত আর বাস বন্ধ রবিবার! সরকার কি শুধু বাস আটকাইয়া করোনা কমাইবো? গার্মেন্টেসও করোনা নাই?’ চলমান ১৪ দিনের ‘কঠোর লকডাউন’ চলাকালে রবিবার (১ আগস্ট) থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা ও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খোলার সরকারের হঠাৎ সিদ্ধান্তে কর্মস্থলে ছুটে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মচারী। গণপরিবহন বন্ধ থাকার মধ্য দিয়ে সরকারের এমন সিদ্ধান্তে কর্মস্থলে পৌঁছতে বেশ বেকায়দায় পড়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা।

শনিবার বিকেলে ওই শ্রমিক-কর্মচারীদের কথা চিন্তা করে মন্ত্রিপরিষদ রবিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল গণপরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্ত দেয়। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর শনিবার বিকাল থেকে সড়ক মহাসড়ক ফিরে পায় তার চিরচেনা রূপ। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে অধিক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহনগুলো ছুটতে শুরু করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। অধিকাংশ বাসগুলোই রাজধানীমুখী ছিল। রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী পারাপার শেষে রবিবার দুপুর ১২টার পরও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সকল প্রকার গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

রবিবার দুপুর ১২টার পর ফের গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই যেন মেনে নিতে পারছেন না আব্দুল কাইয়ূমের মতো বাস চালকরা। হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) জিয়াউল হক চৌধুরী জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে আমরা প্রতিটি বাস কাউন্টার ও মালিক সমিতির সাথে যোগাযোগ করেছি। যেসব গাড়িগুলো যাত্রীনিয়ে গিয়েছিল সেগুলো ফিরতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে হয়তো তেমন আর চোখে পড়বে না। সুত্রঃ কালের কণ্ঠ