প্লিজ, মানুষকে মর্যাদা দিন

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : আগস্ট 1, 2021 11:36:06 পূর্বাহ্ন
0
15
views

সাজেদুল হক: বস্ত্রবালিকা। বহু বছর আগে হুমায়ুন আজাদ ওদের কথা লিখে গেছেন। এরপর সমৃদ্ধির অনেক গল্প তৈরি হয়েছে। কিছু সত্য, কিছু মি’থ্যা। কিন্তু এই বস্ত্রবালিকাদের জীবন সম্ভবত খুব একটা বদলায়নি। অর্থনীতির ছাত্র নই। জি’ডিপির প্রবৃ’দ্ধির রেকর্ড আর মাথাপিছু আয় বাড়ার খবর দেয়া হয় বছর বছর। এমনকি এই ক’রোনাকালেও নাকি মাথাপিছু আয় বেড়েছে! সে যাই হোক।

এই বস্ত্রবালিকারা, পোশাক কারখানার শ্র’মিকরা আবারও শিরোনাম হয়েছেন। চাট্টিখানি কথাতো আর নয়। এর আগেও ক’রোনার এই দু’র্যোগের মধ্যেই এমনটা হয়েছিল। রিকশায়, সাইকেলে, পায়ে হেঁটে, নানা ভোগান্তি সহ্য করে পোশাক শ্র’মিকরা কাজে যোগ দিয়েছিলেন। চাকরি বাঁচাতে হবে। চাকরি না থাকলে খাবে কি? তখন নানা সমালোচনা হয়েছিল। এমনকি কেউ কেউ এই পোশাক শ্র’মিকদেরও দায়ী করেছিলেন। কিন্তু মালিকরা, যারা এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ক্ষমতারও কেন্দ্রে তাদের কিছু বলার সাধ্য আছে কার!

এবারও যখন স’রকারের তরফে বলা হলো, ঈদের পর ৫ই আগস্ট পর্যন্ত পোশাক কারখানাও বন্ধ থাকবে তখনই সংশয় তৈরি হয়েছিল। আসলেই কি বন্ধ থাকবে! মন্ত্রিসভার এক সদস্য আশ্বস্ত করলেন, এবার পোশাক কারখানার মালিকরা কথা দিয়েছেন। যাক মানুষ ভাবলো এবার আর সম্ভবত শ্র’মিকদের পায়ে হেঁটে কাজে যোগ দিতে হবে না।

এমনিতে সময়টা খুবই কঠিন। মৃ’ত্যুর মিছিল চলছে। গ্রাম থেকেও প্রতিনিয়ত খবর আসছে মৃ’ত্যুর। হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরছে মানুষ। ক’রোনাকালে জুলাই মাসটা ছিল সবচেয়ে কঠিন। আগস্ট মাস ঘিরেও খুব একটা আশার খবর পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্য এবং স’রকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে বেশ কিছু ভালো সিদ্ধান্ত হয়। বিশেষ করে গ্রামে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই টিকা দেয়ার উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়।

ওই বৈঠক থেকেই সাফ জানিয়ে দেয়া হয়, শিল্প কারখানা খুলছে না। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের মেয়াদ হয় স্বল্প। ক’রোনার সময় সবকিছুই যেন চলছে প্রজ্ঞাপনে। শুক্রবার দিনের শেষে খবর পাওয়া যায়, পহেলা আগস্ট থেকে পোশাক কারখানা খোলা। বাস্তব অর্থে শ্র’মিকদের কর্মস্থলে ফেরার সময় দেয়া হয় একদিন। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধই থাকে। অন্তত পোশাক শ্র’মিকদের বহন করে বাস চলবে এমন সিদ্ধান্তও আসেনি।

আ’শঙ্কা তৈরি হয় আবার সেই পায়ে হেঁটে, স্বা’স্থ্যবিধি ছুটি দিয়ে শ্র’মিকরা ঢাকায় ফিরতে বা’ধ্য হবেন। হয়েছে তাই। গতকালের ভোগান্তির খবর দেখেছেন সবাই। রাতে অবশ্য জানানো হয়েছে, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণপরিহন চলবে। আগেই বলেছি, কিতাবে যাই লেখা থাকুন না কেন জীবন ও জীবিকার সং’কট তীব্র। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় শিল্পকারখানা বন্ধ করে রাখতে পারবে এমনটাও হয়তো নয়। পোশাক কারখানা খোলার সিদ্ধান্তেও যে কারণে খুব বেশি বি’রোধিতা নেই।

কিন্তু প্রশ্ন, হলো এই শ্র’মিকদের ফেরার জন্য পরিবহন ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত সময় কেন দেওয়া হলো না? এর একটি প্রধান কারণ সম্ভবত, এই শ্র’মিকরা আমাদের স্যারদের, মালিকদের চোখে খুব একটা মর্যাদার আসনে নেই। তাদের জীবন যেন একেবারেই মূল্যহীন। অথচ যে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলা হয় তার অন্যতম প্রধান নায়ক তারা। সেটা যদিওবা নাও হতেন, তারা কি মর্যাদার দাবিদার নন। সমমর্যাদা আর সমঅধিকারের জন্যই কি মুক্তিযু’দ্ধ হয়নি। প্লিজ, শ্র’মিকদের, সব মানুষদের মর্যাদা দিন।