নি’রপরাধ মি’নুকে ফাঁ’সিয়ে দেয়া সেই কু’লসুমী গ্রে’প্তার

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুলাই 29, 2021 12:14:38 অপরাহ্ন
0
36
views

আইন ও বিচার: নামের মিল না থাকার পরও কুলসুম আক্তার কুলসুমীর বদলে হ’’ত্যা মা’মলায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কা’রাগারে ২ বছর ৯ মাস ১০ দিন ব’ন্দি ছিলেন মিনু। সড়ক দর্ঘটনায় মিনুর চিরতরে মুক্তি মিলেছে। এতদিন অধরা মূল আ’সামি সেই কুলসুমীকে অবশেষে গ্রে’প্তার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ভোরে নগরের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাকে গ্রে’প্তার করা হয়।

হ’’ত্যা মা’মলায় যাবজ্জীবন দ’ণ্ডপ্রাপ্ত আ’সামি কুলসুমী লোহাগাড়া উপজে’লার গৌরস্থান মাঝের পাড়া আহাম্ম’দ মিয়ার বাড়ির আনু মিয়ার মেয়ে। তার বর্তমান ঠিকানা কোতোয়ালী থানাধীন রহমতগঞ্জ সাঈদ ডাক্তারের ভাড়া বাড়ি। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বলেন, কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে ভোরে পতেঙ্গা এলাকা থেকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। তাকে আ’দালতে পাঠানো হবে।

হ’’ত্যা মা’মলায় আ’দালত যাবজ্জীবনসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কা’রাদ’ণ্ড দেন কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। তার পরিবর্তে আ’দালতে আত্মসমর্পণ করে জে’ল খাটেন মিনু। বি’ষয়টি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কা’রাগারের সিনিয়র জে’ল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান আ’দালতের নজরে আনেন। এরপর গত ২২ মার্চ অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আ’দালতে মিনুকে হাজির করা হলে তার জা’মিন হয়।

আ’দালত সূত্রে জানা যায়, নগরের রহমতগঞ্জে একটি বাসায় ২০০৬ সালের জুলাই মাসে মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্ট কর্মী পারভিনকে গ’লা টি’পে হ’’ত্যা করা হয়। এরপর রহমতগঞ্জে একটি গাছের সাঙ্গে ঝু’লিয়ে রাখা হয়। পারভিন আত্মহ’’ত্যা করেছে বলে দাবি করেন গার্মেন্ট কর্মী কুলসুম আক্তার কুলসুমী। পরে একটি অপমৃ’ত্যু মা’মলা হয়। পুলিশ দুই বছর ত’দন্ত শেষে হ’’ত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন জমা দেয়।

ওই ঘটনায় হওয়া মা’মলায় ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার উপজে’লার গৌরস্থান মাঝেরপাড়া গ্রামের আনু মিয়ার মেয়ে কুলসুমীকে গ্রে’প্তার করা হয়। তাঁর স্বামীর নাম ছালেহ আহম’দ। তিনি স্বামীর সঙ্গে কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জে সাঈদ ডাক্তারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম আ’দালত থেকে জা’মিন পেয়ে কা’রাগার থেকে মুক্তি পান কুলসুমী। পরবর্তীতে এ মা’মলায় বিচার শেষে ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আ’দালত এক রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কা’রাদ’ণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কা’রাদ’ণ্ড দেন। রায়ের দিন কুলসুমী আ’দালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে প’লাতক দেখিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়।

এর পর ভাসমান বস্তিতে মিনুকে পান কুলসুমী। মিনুর স্বামী ঠেলাগাড়ি চালক বাবুল সড়ক দু’র্ঘটনায় মা’রা যাওয়ার পর তিন স’ন্তান নিয়ে চট্টগ্রামে ভাসমান বস্তিতে থাকতেন। মিনুর বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজে’লার জঙ্গল সলিমপুর জাফারাবাদ এলাকায়। তাঁর পিতার নাম সোলাইমান ও মা সালেহ বেগম, স্বামী মোহাম্ম’দ বাবুল। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ময়নামতিতে।

মিনুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে ইয়াছিন (১২)। সে একটি দোকানের কর্মচারী। আরেকজন গোলাম হোসেন (৭) হেফজখানায় পড়ছে। ছোট মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে (৫) দত্তক দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মিনু ও তাঁর স’ন্তানদের ভরণপোষণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন কুলসুমী। বিনিময়ে একদিন আ’দালতে হাজির হতে হবে বলে জানানো হয় মিনুকে। আ’দালতে হাজির হলে তাঁর জা’মিনও করিয়ে আনবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

মিনু কুলসুমীর কথায় রাজি হয়ে কুলসুমী সেজে ২০১৮ সালের ১২ জুন চট্টগ্রাম আ’দালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁকে কা’রাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে মিনু কা’রাব’ন্দি। এরপর নিম্ন আ’দালতের সাজার বি’রুদ্ধে ২০১৯ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন কুলসুমী। একারণে ওই বছরের ১২ জুন মা’মলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ওই মা’মলাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন।

জানা যায়, মিনু কা’রাগারে যাওয়ার পর প্রথম প্রথম কয়েকমাস মিনুর স’ন্তানদের ভরণপোষণ দিলেও কয়েক মাস যেতে না যেতেই মিনুর পরিবারের খোঁজ নেওয়া বন্ধ করে দেন কুলসুমী। ওদিকে মিনুর দীর্ঘ হতে থাকে কারা জীবন। মিনুর আর খোঁজ নেননি কুলসুমী। এ অবস্থায় মিনু পুরো ঘটনা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ফাঁ’স করে দেন। প্রথম প্রথম কেউ তাঁর কথা না শুনলেও গত ১৮ মার্চ কুলসুমীর পরিবর্তে মিনুর কারাভোগের বি’ষয়টি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কা’রাগারের জ্যেষ্ঠ জে’ল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খানের নজরে আসে। এরপর তিনি বি’ষয়টি নিজে অনুসন্ধান করেন। চট্টগ্রাম কা’রাগারে থাকা নথিতে কুলসুমীর ছবির সঙ্গে মিনুর ছবির মিল খুঁজে পায় না কারা কর্তৃপক্ষ।