ছোট ২ ছেলের সঙ্গে চেহারার মিল নাই, অন্যের সন্তান সন্দেহে নিজ ছেলেকে খু’ ন করলেন বাবা!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুলাই 25, 2021 10:55:11 অপরাহ্ন
0
25
views

সায়মন (৯), আয়মন (৭) ও নাঈম (৪) তিন ভাই। এর মধ্যে সায়মনের চেহারা ও আচার-আচরণে অন্য দুই স’ন্তানের সঙ্গে মিল পাচ্ছিলেন না বাবা বাদল মিয়া। অবশ্য সায়মনের জন্মের পর থেকেই বাদল মিয়ার স’ন্দেহ, স’ন্তান তাঁর কি না। প্রায় ৯ বছর জমিয়ে রাখা ওই স’ন্দেহের সমাপ্তি তিনি ঘটালেন ছেলেকে হ’’ত্যার মধ্য দিয়ে।

ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। আ’দালত ও পুলিশের কাছে দেওয়া জ’বানব’ন্দিতে বাদল মিয়া হ’’ত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জু’ডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আনোয়ার সাদাতের আ’দালতে বাদল মিয়া স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দি দেন। এর আগে পুলিশ শনিবার স’ন্দেহমূলকভাবে বাদল মিয়াকে আ’টক করলে ১৬১ ধারায় জ’বানব’ন্দি দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজে’লার সুহিলপুর গ্রামের একটি ধানি জমি থেকে শনিবার সকালে মো. সায়মন (৯) নামে এক শি’শুর গ’লাকা’টা লা’শ উ’দ্ধার করে পুলিশ। সায়মন সুহিলপুর গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র। বাবার সঙ্গে সে ধান কাটতে গিয়ে ফিরে আসার পথে হ’’ত্যাকাণ্ডের শি’কার হয় বলে প্রথমে জানাজানি হয়।

বাদল মিয়া প্রথমে জানান, সকালে সায়মন তার সঙ্গে ঘাস কাটতে বের হয়। কিছুক্ষণ পর সায়মন ঘাস কাটবে না জানিয়ে বাড়ির পথে চলে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পরেও সায়মন বাড়ি না ফেরায় স’ন্দেহ হলে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ওই গ্রামের নদ্দাপাড়ার একটি ধানি জমি থেকে সায়মনের গ’লাকা’টা লা’শ উ’দ্ধার করে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্ম’দ এমরানুল ইসলাম স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দির বরাত দিয়ে জানান, বিয়ের পাঁচ মাস পর প্রবাসে চলে যান বাদল মিয়া। এর দুই মাস পর তার স্ত্রী পুত্র স’ন্তান জন্ম দেন, নাম রাখা হয় সায়মন।

কিন্তু সাত মাসে স’ন্তান জন্ম নেওয়ার ঘটনায় স’ন্দেহ পোষণ করে বাদল। দেশে এসে এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ক’লহের সৃষ্টি হয়। পরে বাদল আরো দুই স’ন্তানের বাবা হন। স’ন্তানরা বড় হতে হতে বাদল স’ন্দেহ করেন, সায়মনের সঙ্গে আয়মন ও নাঈমের চেহারার মিল নেই। অমিল আচারণেও। সব মিলেয় তার স’ন্দেহ প্রবল আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে বাদল জানতে পারেন, বশির নামে একজনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর পরকীয় সম্পর্ক ছিলো।

এক পর্যায়ে সায়মনকে মে’রে ফেলার পরিকল্পনা করেন বাদল। এরই অংশ হিসেবে শনিবার সকালে পরিকল্পিতভাবে জ’বাই করে সায়মনকে হ’’ত্যা করেন। হ’’ত্যাকাণ্ডের পরও বাদল মিয়ার মধ্যে কোনো ধরণের অনুশোচনা না থাকায় পুলিশের স’ন্দেহ হয়। পরে পুলিশ বাদল মিয়াকে গ্রে’প্তার করলে হ’’ত্যা র’হস্য উন্মোচন হয়।