কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রথম মহিলা অধ্যাপক খাইরুন্নেছার ইন্তেকাল

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুলাই 9, 2021 09:04:52 অপরাহ্ন
0
7
views

অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটনঃ গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রথম মহিলা শিক্ষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক জনপ্রিয় অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান খাইরুন্নেছা আর নেই। তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। মহিয়সী এই নারী শিক্ষাবিদ আজ ৯ জুলাই ২০২১ শুক্রবার সকালে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না-লিল্লাহি অইন্না আলাইহির রাযিওন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

মরহুমার জানাযার নামাজ শুক্রবার বাদ আছর তাঁর দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত প্রিয় ক্যাম্পাস কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে তাঁর অসংখ্য ছাত্র, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।

জানাজার নামাজের পূর্বে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যডভোকেট রেজাউর রহমান লষ্কর মিঠু, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খান, সিরাজুল ইসলাম মোড়ল, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলী এরশাদ হোসেন আজাদ, উপাধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন,অধ্যাপক আব্দুস সালাম,মোঃ আনোয়ার সাদেক, মরহুমার পুত্র অ্যডভোকেট তারেক, ভাগিনা অধ্যাপক শামসুল আলম, মরহুমার স্বামী অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম।

খাইরুন্নেছা ছিলেন স্বাধীনতা উত্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্রী। ছাত্র জীবন শেষে শিক্ষকতাকেই তিনি পেশা ও ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭৭ সালে কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজে প্রথম মহিলা শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর আগে কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজে কোন মহিলা শিক্ষক ছিলনা। তিনি ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। বেধাবী এই শিক্ষক প্রায় চার দশকের বর্নাঢ্য শিক্ষকতা জীবন থেকে ২০১২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

তিনি কাপাসিয়ার কড়িহাতা ইউনিয়নের ইকুরিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। ছাত্র জীবনে তিনি প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। সে সময়ে তিনি ছিলেন ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্পাস ও রাজপথের সাহসী কন্যা।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের বরুণ গ্রামের কৃতি সন্তান গাজীপুর জর্জকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক অ্যাডভোকেট আবদুল হালিম তাঁর স্বামী। পারিবারিক জীবনে তিনি ২ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানের সফল জননী। তিনি দীর্ঘ দিন যাবত বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তাঁর অসংখ্য ছাত্র-,ছাত্রী দেশ- বিদেশে আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল। তিনি অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখেগেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অনেক পরহেজগার ও ধার্মিক মহিলা। মহীয়সী এই নারী কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের বাসতলা জামে মসজিদের জমিদাতা। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয়, সামজিক, মানবাধিকার ও শিক্ষামূলক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। পরে কাপাসিয়া উপজেলার বরুণ গ্রামে দ্বিতীয় নামাজে জানাযা শেষে মরহুমার লাশ স্বামীর বাড়ি বরুণের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।