মেয়ের মুখে অক্সিজেন লাগিয়ে ১৩ দিন ধরে ঘুরছেন বাবা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুলাই 6, 2021 01:43:35 অপরাহ্ন
0
21
views

সারাদেশ: সিএনজি অটোরিকশার মধ‌্যে বাবা-মেয়ে বসা। বাবার হাতে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার। মেয়ের মুখে অক্সিজেনের নল লাগানো। আরেকটি সিলিন্ডার পায়ের নিচে রাখা। মুখে লাগানো অক্সিজেন কখন না জানি শেষ হয়ে যায়- এ অনিশ্চয়তার মধ্যে এবং মৃ’ত্যু ভ’য় নিয়ে গত ১৩ দিন ধরে মেয়েকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল ঘুরছেন খুলনার শেখ ওয়াহিদ আলী।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) দুপুরে শেখ ওয়াহিদ আলী বলেন, ‘মেয়ের ক’রোনা পরীক্ষা ক রিপোর্ট পাইনি। আর রিপোর্ট ছাড়া তাকে কোনো হাসপাতালে ভর্তি নিতে কিংবা কোনো চিকিৎসক চেম্বারেও চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। সবাই বলছেন, আগে রিপোর্ট, পরে চিকিৎসা।’ কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শেখ রাইসা তাহসিন অর্পিতার চিকিৎসা করাতে না পেরে ক্ষো’ভ প্রকাশ করে তিনি জানান, অর্পিতা জ্বর, গায়ে ব্য’থা এবং তীব্র শ্বাসক’ষ্টে ভুগছে।

খুলনার ক’রোনা হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে অ’সহায় বাবা ওয়াহিদ আলী বলছিলেন, ‘এখানে ক’রোনা পরীক্ষার জন্য মেয়ের নমুনা দিয়েছিলাম ২৯ জুন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা। কিন্তু ৮ দিন হয়ে গেছে, রিপোর্ট পাইনি। যোগাযোগ করছি রোজ। কবে রিপোর্ট দিতে পারবে তারা তার কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। পরে আবারও ৫ জুলাই ক’রোনার পরীক্ষার জন‌্য নমুনা দেওয়া হয়েছে।’

অর্পিতার বাবা জানান, ‘আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেছি, চিকিৎসকের চেম্বারে যাচ্ছি। কিন্তু তারা ক’রোনার রিপোর্ট ছাড়া চিকিৎসা দিতে রাজি হচ্ছেন না। কিন্তু মেয়ের খুব শ্বাসক’ষ্ট হওয়ায় অটোরিকশাতে একটি অতিরিক্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট দিলো না। মেয়েকে নিয়ে এখন কী করবো?’

অর্পিতার বড় ভাই জসিম বলেন, ‘আমার বোনকে চিকিৎসার জন্য স’রকারি-বেস’রকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। ক’রোনার রিপোর্ট ছাড়া সেখানকার ডাক্তাররা রো’গী দেখতে চাচ্ছেন না। আবু নাসের হাসপাতালে নতুন একটা ইউনিট চালু হয়েছে। সেখানে গেলাম, তারাও বলছে, রিপোর্ট ছাড়া ভর্তি নেবে না।’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা না পেয়ে আমার বোন আরও অ’সুস্থ হয়ে পড়ছে। শ্বাসক’ষ্ট হচ্ছে, অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছে, বুকে ব্য’থা হচ্ছে, বমি হচ্ছে। এখানে ডাক্তাররা বলছেন, বেড নেই, ভর্তি রাখা যাবে না। ক’রোনা হাসপাতালে আবারও নমুনা দিলাম। তবে কবে রিপোর্ট পাব তা বলতে পারছি না। খুব অ’সহায় লাগছে নিজেদের। বোন আমার ক’ষ্ট পাচ্ছে, আর কিছুই করতে পারছি না।’

ক’রোনা পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে বিলম্বের বি’ষয়টি স্বীকার করে খুলনা মেডিক‌্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, ভেতরে ভাই’রাস ছড়িয়ে পড়ায় গত ২৯ জুন থেকে খুলনা মেডিক‌্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ ছিল। এ কারণে রিপোর্ট দিতে সময় লাগছে। তবে ভাই’রাসমুক্ত করে ৪ জুলাই বিকেলে ল্যাবটি আবার সচল করা হয়েছে। ল্যাবে পুরোদমে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এখন দ্রুত রিপোর্ট দেওয়া যাবে।’