ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে অর্থ সহায়তা চাইলেন নিরুপায় শিক্ষক!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুন 27, 2021 01:00:24 অপরাহ্ন
0
14
views

সারাদেশ: ক’রোনাকালে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চ’রম বি’পদে পড়েছেন যশোর উপশহর মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক শরিফুল ইসলাম। অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৫ সাল থেকে কলেজটিতে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও এমপিওভুক্ত হননি এখনো। কলেজ ফান্ড থেকে যে সামান্য বেতন পেতেন ক’রোনায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেটিও পাচ্ছেন না পাঁচ মাস ধরে। চার সদস্যের পরিবার নিয়ে পড়েছেন চ’রম অর্থসং’কটে।

সামাজিক মর্যাদার বি’ষয়টি বিবেচনা করে এতো দিন কারও কাছে সহায়তার জন্য হাত না পাতলেও এবার নিরুপায় হয়ে আর্থিক সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

নিজের ফেসবুক আইডিতে শরিফুল ইসলাম লিখেছেন-

“আমি শরিফুল ইসলাম। প্রভাষক উপশহর মহিলা কলেজ যশোর। আমি একজন নন-এমপি ও অর্নাস শিক্ষক। বিশ্বব্যাপী ম’হামা’রি ক’রোনা ভাই’রাসের কারণে কলেজ থেকে যে সামন্য বেতন পেতাম তা দীর্ঘদিন ধরে পাচ্ছি না। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানববতার জীবনযাপন করছি। আমাকে কিছু নগদ অর্থ বা খাদ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে উপকৃত হব’। আমার বিকাশ নাম্বার ০১৭২৪-৯০৬৮২০।”

এই বি’ষয়ে জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম বলেন, চলমান ক’রোনা ম’হামা’রিতে শিক্ষার্থীদের বেতন ভাতা আদায় বন্ধ রয়েছে। আয় না থাকায় কলেজের নন-এমপিও বেস’রকারি শিক্ষকদের বেতন ও ভাতা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া কলেজের ফান্ড শূন্য থাকায় আমাদের বেতন দিচ্ছে না। আমি শুধু একা না, আমার মতো ননএমপিও শিক্ষককেরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবার নিয়ে দিন পার করাই এখন দায়! অনেকে ত্রাণ বা স’রকারের আর্থিক সহায়তাও পাচ্ছে না। বিশেষ করে সামাজিক মর্যাদার কারণে অনেকেই ত্রাণের জন্য বাইরে যোগাযোগ করছে না। দীর্ঘদিন ধরে স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে সংসার চা’লিয়ে আসছি।

তিনি আরো বলেন, ক’রোনাকালে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের বেতন বন্ধ থাকায় এবং স’রকার থেকে আর্থিক সাহায্য না পাওয়ায় যশোরের অনেক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা, দিনমজুরের কাজ করছেন। অনেকে টিউশনি করার চেষ্টা করছেন, কেউবা মাছ ধরে ব্যবসা করছেন।

এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে যশোরের অতিরিক্ত জে’লা ম্যা’জিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, যশোর উপশহর মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক শরিফুল ইসলামের ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানতে পেরে তাকে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মতো আরো যারা কর্মহীন ও অ’সহায় রয়েছেন তাদেরও ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।