নিজেকে ‘জীবিত’ প্রমাণ করতে অফিসে অফিসে ঘুরছেন ৭৯ বছরের বৃ’দ্ধা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুন 16, 2021 06:16:22 অপরাহ্ন
0
11
views

বুধবার সকালে চাটমোহর উপজে’লাজুড়েই চলছিল তুমুল বর্ষণ। উপজে’লা পরিষদ চত্বরে সমাজসেবা অফিস ও নির্বাচন অফিসের সামনে বৃষ্টিতে ভিজেই ঘুরছিলেন ৭৯ বছরের বৃ’দ্ধা শুকজান নেছা। কারণ জীবিত থাকার পরেও তাকে কাগজে-কলমে ‘মৃ’ত’ দেখানোয় বন্ধ হয়েছে ভাতার টাকা! শুকজান নেছা ‘মৃ’ত্যু’র কথা শুনে যতটা না ক’ষ্ট পেয়েছেন তার চেয়ে বেশি ক’ষ্ট পাচ্ছেন ভাতার টাকা বন্ধ হওয়ায়। কারণ ভিক্ষাবৃত্তি করে যা আয় হয় সেই টাকায় চলে না তার সংসার, কিনতে পারেন না ও’ষুধ।

আর এ কারণে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উপজে’লার সমাজ বলচপুর গ্রাম থেকে শুকজান নেছা এসেছেন নিজেকে ‘জীবিত’ প্রমাণ করতে। শুধু তাই নয়, ভাতার টাকা পুনরায় ফিরে পেতে বেশ কিছুদিন আগে উপজে’লা নির্বাচন অফিসে করেছেন আবেদনও। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঢিলেমির কারণে কাগজে-কলমে এখনো ‘জীবিত’ হতে পারেননি শুকজান নেছা। তাই বন্ধ হয়ে আছে ভাতা প্রাপ্তি। এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় শুকজান নেছার।

জানা যায়, উপজে’লার নিমাউচড়া ইউনিয়নের সমাজ বলচপুর গ্রামের মৃ’ত জয়নাল প্রামাণিকের স্ত্রী শুকজান নেছা। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। এক ছেলে দিনমজুরি করে সংসার চালালেও খোঁজ রাখেন না মায়ের। বা’ধ্য হয়ে শুকজান নেছা বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তির পেশা। তার ক’ষ্ট দেখে বেশ কিছুদিন আগে স্থানীয় ইউপি সদস্য একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেন। ভিক্ষাবৃত্তি এবং বয়স্ক ভাতার টাকায় কোনোমতে সংসার চালাচ্ছিলেন শুকজান নেছা। কিন্তু হুট করে গত বছরের জুলাই মাস থেকে ভাতা বন্ধ হয়ে যায় অ’সহায় এই বৃ’দ্ধার।

উপজে’লার প্রতিটি ভাতাভোগীর অনলাইন এন্ট্রি করতে গিয়ে শুকজান নেছার নাম সফটওয়্যারে সংযোজন করতে পারেনি উপজে’লা সমাজসেবা অফিস। কারণ নির্বাচন অফিসের সার্ভারে শুকজান নেছা ‘মৃ’ত’! বি’ষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে জানার পর কা’ন্নায় ভে’ঙে পড়েন শুকজান নেছা। এরপর ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন নিয়ে নিজেকে ‘জীবিত’ প্রমাণ করার জন্য আবেদন করেন উপজে’লা নির্বাচন অফিসে। কিন্তু এখনো সেটি আলোর মুখ দেখেনি। বুধবার সকালে শুকজান নেছাকে সঙ্গে করে এই প্রতিবেদক উপজে’লা নির্বাচন অফিসে গেলে সেখানে পাওয়া যায়নি কর্মকর্তাকে।

স্টেনো টাইপিস্ট সোলাইমান হোসেন জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করেছেন এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের ভু’লে এমনটা হয়েছে। তবে তিনি (শুকজান নেছা) এপ্রিল মাসের শুরুতে আবেদন করলেও গত ৫ জুন সেটি সংশোধনের জন্য জে’লা অফিসে পাঠানো হয়েছে। কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে শুকজান নেছা বলেন, আমি এখনো বেঁচে আছি। আল্লাহ যখন নেবেন তখন তো আমি এমনিই মা’রা যাব।

নিজেকে জীবিত প্রমাণ করার জন্য আর কতবার অফিসে ঘুরব? বৃ’দ্ধ বয়সে অনেক ক’ষ্ট করে আসা-যাওয়া করি। কিন্তু আমার ক’ষ্ট কেউ বোঝে না! ক’রোনার সময় কেউ ভিক্ষা দিতে চায় না। ভাতার টাকাও বন্ধ। বাজার করা বা ও’ষুধ কিনতে পারি না। তাহলে কী আমি না খেয়ে মা’রা যাব? এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে উপজে’লা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে উপজে’লা নির্বাহী অফিসার সৈকত ইসলাম বলেন, বি’ষয়টি অত্যন্ত দুঃ’খজনক। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুত্রঃ যুগান্তর