এক কাপড়ে পা’লিয়ে আসা রোহিঙ্গার বাড়িতে ৫ হাজার লোকের ভুরিভোজ

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুন 8, 2021 11:23:37 অপরাহ্ন
0
334
views

২০১১ সালে পরিবার-পরিজন নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে এক কাপড়ে পা’লিয়ে এসে উখিয়া উপজে’লার পূর্বডিগলিয়াপালং (চিতলী মোরা) নামক স্থানে আশ্রয় নেয় রো’হিঙ্গা হাকিম আলী। কিছু দিন যেতে না যেতে জড়িয়ে ই’য়াবা কারবারে। বর্তমানে কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। যার প্রেক্ষিতে কথায় কথায় প্রশাসনের ক্ষমতা দেখিয়ে থাকেন তিনি।

ক’রোনা লকডাউনে মানুষ যেখানে ঘরব’ন্দী অবস্থায় জীবন-যাপন করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মঙ্গলবার ছেলের খতনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে ৫ হাজারের লোকের ভুরিভোজের আয়োজন করেন রো’হিঙ্গা হাকিম আলী। প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার দিবাগত রাত থেকে লক্ষাধিক টাকার আতসবাজিতে গ্রামের লোকজনের রাতের ঘুম-হা’রাম করে দেয়।

মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে ভুরিভোজ। বি’ষয়টি প্রশাসন জানার পর থানা পুলিশ ওই বাড়ি গিয়ে নিষেধ করে চলে আসে। পুলিশ চলে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফের তাদের আয়োজন শুরু করে দেয়।

স্থানীয় ছৈয়দুল আলম অ’ভিযোগ বলেন, সারা দেশে লকডাউনের পাশাপাশি উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডে ১৩ জুন পর্যন্ত রেড জোন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু একজন রো’হিঙ্গা হয়ে এসব নির্দেশনা না মেনে এতো আয়োজন কিভাবে করেন? তার এতো ক্ষমতার উৎস কোথায়? এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের বি’তর্কি’ত কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ দেশে আশ্রয়ের সুযোগে স্থানীয় এক গৃ’হবধূর সঙ্গে প’রকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে হাকিম আলী। ওই নারীর স্বামী পাকিস্তান থাকার সুবাদে তাকে বিয়ে করে। অথচ মিয়ানমার থেকে চলে আসার সময় তার ১ স্ত্রী ও ৩টি স’ন্তান ছিল। পরবর্তীতে তাকে তাড়িয়ে দিলে ওই রো’হিঙ্গা নারী স্থানীয় আরেকজন ছেলেকে বিয়ে করে। কিন্তু তার কাছে হাকিম আলীর ৩টি স’ন্তান রয়েছে।

এর মধ্যে বড় ছেলে পুতিয়া কিছু আগে রেজু আমতলী বিজিবির হাতে দেড় লাখ ইয়াবা আ’টক হয়ে জে’ল হাজতে রয়েছে। এই ধরনের পূর্বডিগলিয়াপালং এক ডজন যুবক তার ইয়াবা নিয়ে আ’টক হয়ে দেশের বিভিন্ন জে’লে রয়েছে। এতো বড় ইয়াবা গডফাদারের পাশাপাশি একজন রো’হিঙ্গা হওয়ার পরেও স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় রো’হিঙ্গা হাকিম আলী দেদারছে ইয়াবা কারবার করে যাচ্ছে।

গো’পন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, হাকিম আলীর সঙ্গে মিয়ানমারের বড় বড় রাখাইন লোকজনের পরিচয় থাকায় তার এক মোবাইল ফোনে শত কোটি টাকার ইয়াবা বাকিতে দিয়ে দেয়। যা নিয়ে এসে বিক্রি করে পরে টাকা পরিশোধ করে থাকেন তিনি। এতে সী’মান্তের ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অ’ভিযোগ।

এ ব্যাপারে উখিয়া উপজে’লা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, লকডাউনে কোনো প্রকার জনসমাগম করার সুযোগ নেই, তাই আমি বি’ষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উখিয়া থানার অফিসার ই’নচার্জকে বলে দিয়েছি।

উখিয়া থানার ওসি আহাম্ম’দ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, বি’ষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ ওই বাড়ির লোকজনকে নিষেধ করে এসেছে।