কাপাসিয়ার লিচু স্বাদে গুণে অনন্য

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : জুন 4, 2021 07:10:50 অপরাহ্ন
0
20
views

অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটনঃ এক সময় গাজীপুরে কাপাসিয়া ছিলো মসলিন কাপড়ের তুলা কার্পাসের জনপদ। কাপাসিয়ায় ব্যাপকভাবে কার্পাস উৎপাদন হতো। হাল আমলে কাপাসিয়া হয়ে উঠে মৌসুমী ফলের জন্য বিখ্যাত । এখানে বিভিন্ন মৌসুমী ফল চাষ হলেও লিচু চাষের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। প্রায় প্রতিটি মানুষেরই রয়েছে লিচু বাগান কিংবা বসত ভিটায় লিচু গাছ।রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কাপাসিয়ার লিচুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

লিচুর রাজ্য যদি হয় কাপাসিয়া, আর সেই লিচু রাজ্যের রাজধানী হলো কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রানীগঞ্জ। কাপাসিয়ায় দু ধরনের লিচু চাষ হয়ে থাকে। বেলারী ও বোম্বে। বেলারী জাতের লিচু শেষ হওয়ার পর পরই বোম্বে জাতের লিচু পাকতে শুরু করে। বেলারী বোম্বে লিচুর আকৃতি ও স্বাদে ভিন্নতা থাকলেও দুটো জাতই নিজ গুণে অনন্য। স্বাদে, পুষ্টি ও নানান গুণে কাপাসিয়া উপজেলার লিচুর কোন তুলনা নেই। এ লিচু অতুলনীয়। দেশীয় এ লিচুর চাহিদাও অনেক। লিচু একটি মুখরোচক খাবার। লিচুর পুষ্টি গুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই ওয়াকিবহাল নই। মজা লাগে, ভালো লাগে মনে করে অনেকেই লিচু খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন। তবে লিচুর রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি গুণ। এই লিচু পুষ্টিগুণে অনন্য। লিচুর রয়েছে নানা উপকারিতা।

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ লিচুঃ ১০০ গ্রাাম লিচুতে জলীয় অংশ ৮৪.১, ক্যালসিয়াম ১০ মি., মোট খনিজ ০.৫ মি, লৌহ ০.৭ মি., ভিটামিন বি-১০.০২, আমিষ ১.১, ভিটামিন সি ৩১ মি., শর্করা ১৩.৬, শক্তির পরিমাণ ৬৬ কিলোক্যালরি, প্রোটিন ০.৮৩ গ্রাম, চর্বি ০.৪৪ গ্রাম, আঁশ ১.৩ গ্রাম। লিচুতে ০.০২ গ্রাম ভিটামিন বি ১ এবং ০.০৬ গ্রাম বি ২ রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ০.৫ গ্রাম খনিজ লবণ পাওয়া যায় সেই সঙ্গে লিচু আরো কিছু ভিটামিন আর মিনারেলে সমৃদ্ধ।

লিচুর নানান উপকারিতা: লিচু শরীর ঠান্ডা রাখে, তৃষ্ণা মেটায় ও শরীরের শক্তি বাড়ায়। পরিমিত লিচু খেলে শরীরের বায়ু, কফ ও পিত্ত নাশ করে। হৃদরোগী ও লিভারের রোগীদের পক্ষে লিচু উপকারী।

ত্বকের যত্নে লিচু অতুলনীয়। লিচু দেখতে নজরকাড়া, স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তেমনি ত্বকের যত্নেও এটি অতুলনীয়। লিচু ত্বক উজ্জ্বল করতে ও বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। এই গ্রীষ্মে প্রখর রোদে পুড়ে কালচে হয়ে যাওয়া ত্বকে লিচু চটকে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে, বলিরেখা থাকবে না। মৌসুমের সময় দু-বেলা চার-পাঁচটি করে লিচু খেলে বয়স বাড়লেও শরীরে লাবণ্য বজায় থাকে।

দাঁত ও ত্বকের রোগে লিচু খুবই উপযোগি একটি ফল। লিচুতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ যা ত্বক, দাঁত ও হাড়ের জন্য ভালো। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ৩১ মি. গ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। নানারকম চর্মরোগ ও স্কার্ভি দূর করতে সাহায্য করে এই ভিটামিন সি।

হাড় গঠনে সাহায্য করে থাকে লিচু। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ১০ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম রয়েছে। ক্যালসিয়াম দেহের হাড় গঠন করে ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

প্রতি ১০০ গ্রাম লিচু থেকে ৬১-৬৬ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এটি শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। পাশাপাশি চর্বি কমাতেও উপকারী। পরিমাণে বেশি লিচু খেলে তাই যে পরিমাণ ক্যালোরি জমা হয় তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না করতে পারলে অর্থাৎ পরিশ্রম না করলে তাতে আামাদের ওজন বেশ ভালোভাবেই বেড়ে যেতে পারে।

লিচু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। লিচুতে রয়েছে খাদ্য হজমকারী আঁশ, ভিটামিন ও নামক উপাদান স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

লিচু শারিরিক সুস্থ্যয় ভূমিকা রাখে। লিচুতে খাদ্য হজমকারী আঁশ, ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা শরীরে মওজুদ থাকে ও দেহ সুস্থ রাখে।

হৃদ রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে লীচু। লিচুতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ উপাদান যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণে লিচুর
ভূমিকা অনন্য। লিচুতে আছে পটাশিয়াম যা রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

লিচুতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, কপার, ফলেট এবং ম্যাঙ্গানিজ যা লোহিত কনিকা তৈরিতে সহায়তা করে এবং মিনারেল এর চাহিদাও পূরণ করে থাকে।

অত্যধিক ক্লান্তিতে বা দীর্ঘ রোগভোগের পর দুর্বলতায় প্রতিদিন চার-পাঁচটি লিচু সামান্য লবণ মিশিয়ে খেলে খুব ভাল লাগবে।

লেখক
শামসুল হুদা লিটন
সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক