ঠি’কাদারীতে ব্য’স্ত স’রকারি ক’র্মকর্তা: অফিস না করেও নি’চ্ছেন বে’তন!

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 27, 2021 10:08:46 পূর্বাহ্ন
0
26
views

সারাদেশ: ঠিকাদারী নিয়ে ব্যস্ত থাকায় গত ৬ মাসে একদিনও অফিসে যাননি তিনি, তবুও বেতন উত্তোলন করছেন নিয়মিত। এমনটা করছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজে’লার বড় মরাদোন কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বা’স্থ্য সহকারী শাহ জালাল। জানা যায়, দৈনিক হাজিরা খাতায় গত ৬ মাসে (নভেম্বর থেকে অদ্যবদি) তার কোন স্বাক্ষর নেই।

নভেম্বরের আগের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তা আর দেখাতে পারেনি। হয়তো সেখানেও তার স্বাক্ষর পাওয়া যাবেনা। স’রকারী চাকুরী করেও তিনি উপজে’লার একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার।গত ১২ বছরে তিনি অন্তত ৩০ কোটি টাকার কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তার স্ত্রীর ‘রিজভিআপ’ নামের লাইসেন্সে তেমন কাজ করেন না, তিনি স’রকারী দলের প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদারের লাইসেন্সে কাজ করেন। কখনো বা করেন স’রকারী দলের প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদারদের সাথে পার্টনারশিপে কাজ। তবে কাজ দেখাশুনাতে তিনি থাকেন খুবই ব্যস্ত।

স্বা’স্থ্য বিভাগের উপজে’লা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তারাই জানেন শাহ জালাল নিয়মিত অফিস করেনা বরং ঠিকাদারী নিয়ে ব্যস্ত থাকেন কিন্তু তার প্রভাবের কারণে এ বি’ষয়ে কখনো কেউ মুখ খুলেন না। গত ২০১২ সালে তৎকালীন স্থানীয় এমপি’র অলিখিত এপিএস পরিচয়ে এই স্বা’স্থ্য সহকারী শাহ জালাল নিজের কমিউনিটি ক্লিনিকে অফিস না করে তখন এলজিইডি, পিআইও সেকশনের কাজ ভাগ বাটোয়ারা করার নামে নিয়মিত উপজে’লাতেই থাকতেন।

তখন এ বি’ষয়ে এক সংবাদকর্মী তার বি’ষয়ে নিউজ করতে চাইলে তখনকার এই স্বা’স্থ্য সহকারী শাহজালাল কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে দিয়ে ৩ সংবাদকর্মীর সাথে অশোভন আচরন করার কারণে কেউ আর তার বি’রুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে সাহস করেনি। সেই স্বা’স্থ্য সহকারীর প্রভাব যেনো দিন দিন বেড়েই চলছে। কৌশল হিসাবে তিনি যে যখন ক্ষমতায় আসেন তিনি সেই ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি থাকেন। এই কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার আওতায় থাকা আবু বকর, মরিয়ম, জিলানীসহ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা এই কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বা’স্থ্য সহকারী শাহ জালালকে চিনেনই না। তবে এখানে কর্মরত বাকীদের চিনেন বলে জানান।

স্বা’স্থ্য সহকারী শাহ জালালের কয়েকজন সহকর্মীর সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানায়, আমরা একসাথেই চাকুরীতে যোগদান করি। প্রথম থেকেই উনি একটু বে’পরোয়া এবং প্রভাব কাটিয়ে চলে। আমরা অফিস করলেও উনার অফিস করতে হয়না। এমনকি উনার ভাগ্যের চাকা এতই ঘুরেছে যে গত কয়েক বছরেও কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে।

গত ৬ মাস অফিসে আসেননি, দৈনিক হাজিরা খাতায় তার কোন স্বাক্ষর নেই এবং স’রকারী চাকুরী করে তিনি কিভাবে ঠিকাদারী করেন এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে উপজে’লা স্বা’স্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান মিথেন জানান, শাহ জালাল অফিসে আসে’না এবং ঠিকাদারী করে দু’টোই আমি জানি। তার বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো তবে তার পক্ষে অনেক তদবীর আসে। তার অনিয়মের কথা সিভিল সার্জন স্যারও জানেন।

স্বা’স্থ্য সহকারী শাহ জালালের ঠিকাদারী করার বি’ষয়ে উপজে’লা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার শাহজালালের এই মুহুর্তে দুইটি কাজ চলমান। একটি কালিপুর বাজারের মার্কেট অপরটি দুর্গাপুরের দাশের বাজার মার্কেট। দুইটি কাজের অর্থমূল্য ৩ কোটি টাকা। তবে ঠিকাদার শাহ-জালাল যে স্বা’স্থ্য বিভাগে চাকুরী করেন তাও তিনি জানেন বলে জানান।

অ’ভিযুক্ত স্বা’স্থ্য সহকারী শাহ জালালের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি তার কর্মস্থল সম্পর্কে এলোমেলো উত্তর দেন। তবে তিনি যে এই মুহুর্তে ৩ কোটি টাকার ঠিকাদারী কাজ করছেন তা স্বীকার করেন।