ব’ন্ধুকে হ’’ত্যার পর একাই জা’নাজা পড়েন নে’জাম

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 26, 2021 09:35:11 পূর্বাহ্ন
0
53
views

সারাদেশ: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ট্রাকচালককে অ’পহরণের পর হ’’ত্যা ও গু’মের র’হস্য উন্মোচন করে চালকের অ’র্ধগলিত ম’রদেহ উ’দ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার এক মাস পর শনিবার (২৪ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টার দিকে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে অ’ভিযান চা’লিয়ে পারুয়া ইউনিয়নের একটি ডোবার মাটি খুঁড়ে ম’রদেহটি উ’দ্ধার করা হয়।

একই দিন দুপুরে ঘটনার মূল হোতা মো. নেজাম ওরফে মিজানকে (২৬) সন্দ্বীপ থেকে গ্রে’প্তার করে পুলিশ। গ্রে’প্তার নেজাম রাঙ্গুনিয়া উপজে’লার পোমরা হাজীপাড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে অ’ভিযুক্ত নেজাম তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আজিজুলকে হ’’ত্যা ও ম’রদেহ গু’মের ঘটনার বীভৎস বর্ণনা দিয়েছেন। মূলত পারিবারিক শ’ত্রুতার জের ধরেই এ হ’’ত্যার পরিকল্পনা করেন নেজাম। ঘটনার দিন বালু আনার নাম করে আজিজুলকে কৌশলে রাঙামাটি জে’লার বেতবুনিয়া এলাকার এক নিভৃত জায়গায় নিয়ে গিয়ে ট্রাকের রেঞ্জ (যন্ত্রাংশ) দিয়ে মাথায় আ’ঘাত করে এবং ছু’রিকাঘাতে হ’’ত্যা করেন তিনি।

হ’’ত্যার পর একদিন পাহাড়ে ম’রদেহ লুকিয়ে রাখার পর বন্ধু আজিজুলের জানাজা ও দাফনের চিন্তা আসে নেজামের মাথায়। সে অনুযায়ী গত ২৬ মার্চ রাতে তিনি ম’রদেহটি কাঁধে করে রাঙ্গুনিয়া থানার চৌধুরীখিলস্থ নাজিম প্রফেসরের পাহাড়ের পাদদেশে একটি ডোবার সামনে নিয়ে আসেন। সেখানে নেজাম একাই মৃ’তের জানাজা পড়েন এবং কবর দেওয়ার মতো করে ডোবার তলদেশে লা’শটিকে লুকিয়ে রাখেন। এছাড়া নেজাম ক্ষমা চান বন্ধুর লা’শের হাত ধরে!

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ রাঙ্গুনিয়া উপজে’লার ইসলামপুর ইউনিয়নের আল আমিন পাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ট্রাকচালক আজিজুল হক (২৭) নি’খোঁজ হন। ২৬ মার্চ আজিজুল হকের বাবা রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি হা’রানো জি’ডি করলে বি’ষয়টি নিয়ে ত’দন্তে নামে পুলিশ। এর মধ্যে গত ৬ এপ্রিল আজিজুল হকের মামা হায়দার আলী বা’দী হয়ে অ’জ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আ’সামি করে একটি অ’পহরণ মা’মলা দা’য়ের করেন।

ত’দন্তে আজিজের ব্যবহৃত মোবাইলটি প্রযুক্তির সাহায্যে কক্সবাজারে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। ঘটনার ১৫ দিন পর সূত্র ধরে কক্সবাজার সদর এলাকা থেকে মোবাইল এবং রামু এলাকা থেকে ট্রাকটি জ’ব্দ করা হয়। অ’পহরণকাণ্ডে জ’ড়িত স’ন্দেহে ওই এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রে’প্তার করে পুলিশ। পুলিশি জি’জ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা নেজামের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে। এরপর পুলিশ প্রযুক্তির সাহায্যে নেজামের অবস্থান সন্দ্বীপে শনাক্ত করে। শনিবার সন্দ্বীপ থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রে’প্তার করা হয়।

গ্রে’প্তার হওয়ার পর হ’’ত্যার কথা স্বীকার করলেও হ’’ত্যার পদ্ধতি এবং ম’রদেহের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন নেজাম। প্রথমে তিনি দাবি করেন যে, আজিজুল সড়ক দু’র্ঘটনায় মা’রা গেছেন এবং তার ম’রদেহ কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ এবং প্রশ্নবাণের মুখে শেষপর্যন্ত নিজে খু’ন করার কথা এবং ম’রদেহের সঠিক অবস্থান জানাতে বা’ধ্য হন তিনি। পরে তার দেখানো মতে ডোবা থেকে আজিজুলের মৃ’তদেহ উ’দ্ধার করা হয়।

এদিকে উভ’য় পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, নেজামের স্ত্রীর সঙ্গে আজিজুলের প’রকীয়া প্রেম রয়েছে, মূলত এই স’ন্দেহ থেকেই আজিজুলকে হ’’ত্যার সিদ্ধান্ত নেন নেজাম।

আ’দালত সূত্রে জানা যায়, আজিজুল হককে হ’’ত্যার দোষ স্বীকার করে রবিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র জু’ডিশিয়াল ম্যা’জিস্ট্রেট বেগম আঞ্জুমান আ’দালতে মো. নেজাম ১৬৪ ধারার জ’বানব’ন্দি দেন। জ’বানব’ন্দিতে আজিজুলকে হ’’ত্যা ও গু’মের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি নিজ স্ত্রীর সঙ্গে প’রকীয়ার স’ন্দেহ থেকেই এ হ’’ত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছেন বলেও জ’বানব’ন্দিতে দাবি করেন।

এ বি’ষয়ে রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘ এক মাসের নিরবচ্ছিন্ন এবং নিবিড় ত’দন্তে আমরা প্রায় কোনো ক্লু না থাকা এ ঘটনাটির র’হস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছি। সেই মোতাবেক ঘটনার মূল হোতা নেজামকে গ্রে’প্তার এবং তার দেওয়া তথ্যমতে ভি’কটিমের ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা নিরূপণের জন্য ত’দন্ত অব্যাহত আছে।