‘অলৌকিক’ আ’গুনে দিশেহারা গ্রামবাসী! প্রশাসনের সহায়তা কামনা

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 25, 2021 02:57:56 অপরাহ্ন
0
27
views

ঠাকুরগাঁওয়ে ‘অলৌকিক’ আ’গুন আ’তঙ্কে রয়েছেন শতাধিক গ্রামবাসী। সেই আ’গুনে পু’ড়ে যাচ্ছে ঘরের আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। সেই সাথে রয়েছে মৃ’ত্যুভ’য়। ভু’ক্তভোগীদের দাবি, গ্রামে পাহারা বসিয়ে এবং ওঝা-জ্যোতিষি এনেও আ’গুনের বি’ষয়ে জানা সম্ভব হয়নি। তাই আ’গুনের আ’তঙ্ক থেকে বাঁচতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। আ’গুনে পু’ড়ে মৃ’ত্যুর ভ’য়ে নিজের শি’শু স’ন্তানকে পাশের গ্রামে বাবার বাড়িতে রেখে এসেছেন সুমি আক্তার।

ঘরে যেকোনো সময় আ’গুন লেগে সব পু’ড়ে যাওয়ার আ’তঙ্কে ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র বাইরে রেখে পাহারা দিচ্ছেন তিনি। দিনে ও রাতে আ’গুন আ’তঙ্কে ঠিকমতো নাওয়া-খাওয়া ও ঘুমাতেও পারছেন না। শুধু সুমি আক্তারই নয়, আ’গুন আ’তঙ্কে রয়েছেন পুরো গ্রামের মানুষ।ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজে’লার চাড়োল ইউনিনের সিঙ্গিয়া মুন্সিপাড়া গ্রামের মার্চের ২৮ তারিখ রাতে সর্বপ্রথম আ’গুনের সূত্রপাত হয়। ওই দিন আ’গুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পরের দিন আ’গুনে ৩টি পরিবারের ঘর-বাড়িসহ আসবাবপত্র পু’ড়ে কয়েক লাখ টাকার ক্ষ’তি হয়।

এরপর থেকে নুর আলম, মোতালেব, আলহাজ সিরাজ উদ্দীন, মকসেদ আলী, শেফালি আক্তার, মেরিনা আক্তার, মোহা. সাইফুল্লাহর পরিবারসহ আরো বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘরে কথিত ‘অলৌকিক’ আ’গুন ধরে। ভু’ক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, অলৌকিকভাবে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ বার আ’গুন লাগছে বাড়ির বিভিন্ন স্থানে। সর্বশেষ ২৩ এপ্রিল দশবার ও ২৪ এপ্রিল ১১ বার আ’গুন লাগে ওই গ্রামে।

ভু’ক্তভোগী সাইফুল্লাহ জানান, মার্চের ২৮ তারিখ রাতে মৃ’ত মকবুল হোসেনের বাড়ির খড়ের পোয়াল ঘরে সর্বপ্রথম আ’গুনের সূত্রপাত। এরপর থেকে গ্রামে বিভিন্ন লোকের বাড়িঘরে আ’গুন ধরা শুরু হয়। গ্রামের সব মানুষ আ’গুন আ’তঙ্কে রয়েছেন। কেউ ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না, ঘুমোতে পারেন না। সব কাজ ফে’লে দিয়ে এখন শুধু আ’গুন পাহারা দিচ্ছেন সকলেই। ভু’ক্তভোগী আলহাজ সিরাজ উদ্দীন জানান, আ’গুন নেভানোর জন্য এর মধ্যে প্রতিটি পরিবারে বড় পাতিল, কলসি, বালতি ও বিভিন্ন পাত্রে পানি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

সেই সাথে বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক পাম্প স্থাপনও করা হয়েছে। গ্রামে পাহারা রয়েছে সকলেই, কিন্তু এখন পর্যন্ত কে বা কারা এই আ’গুন ধরিয়ে দিচ্ছে তা কেউ দেখেনি। ভু’ক্তভোগী শেফালি আক্তার জানান, হঠাৎ করে একদিন তার ঘরের বিছানায়, টেবিলে ও জায়নামাজসহ কোরাআন শরীফেও আ’গুন ধরে যায়। সকলে মিলে সেই আ’গুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এর পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সকলেই আ’তঙ্কে রয়েছে। যেহেতু কাউকে এই আ’গুন ধরিয়ে দিতে দেখেননি তিনি বা এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই সকলেই বলছে এই আ’গুন জিনে ধরিয়ে দিচ্ছে।

ভু’ক্তভোগী মেরিনা আক্তার জানান, জাদু-টোনা ও জিন-ভূতের আছরে এই আ’গুনের সূত্রপাত হতে পারে। তাই এটিকে অলৌকিক ভেবে এর মধ্যে গ্রামে ওঝা (মাহাত) ও জ্যোতিষি এনে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে। কিন্তু এতেও কোনো লাভ হয় নাই। তাই প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে ত’দন্তের মাধ্যমে আ’গুনের প্রকৃত কারণ উন্মোচনের দাবি করেছেন তিনিসহ সকল গ্রামবাসী। জাদু-টোনা ও জিন-ভূতের আছরে এই আ’গুনের সূত্রপাত বলে বিশ্বাস করেন বালিয়াডাঙ্গী চাড়োল ইউনিন পরিষদের ইউপি সদস্য নরেন্দ্র সিংহ। তিনি নিজেও একাধিক জ্যোতিষি এনে ঝাড়ফুঁক করেছেন। কিন্তু এই আ’গুন কে দিচ্ছেন তা এখনো বলতে পারে নাই জ্যোতিষী।

একই কথা জানান চাড়োল ইউনিন পরিষদের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার চ্যাটার্জী বাবু। তিনি বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে মিলাদ দোয়া মাহফিল করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত অ’গ্নিকাণ্ডে বন্ধ হচ্ছে না। এ ঘটনায় গ্রামের সকলেই আ’তঙ্কে রয়েছেন। তাই আ’তঙ্ক নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি। বালিয়াডাঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স লিডার সফিউল্লা বসু মিয়া জানান, কোথা থেকে আ’গুনের সূত্রপাত তা এখনো অনুসন্ধান করা সম্ভব হয় নাই। পারিবারিক শ’ত্রুতার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপজে’লা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভু’ক্তভোগীদের খাদ্যসহ সকল সহযোগিতা করা হচ্ছে। ঘটনার কারণ জানতে গ্রামপুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আ’গুন নেভানোর জন্য গ্রামে বৈদ্যুতিক পাম্প স্থাপন ও পানি সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান বালিয়াডাঙ্গী উপজে’লা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল। বালিয়াডাঙ্গী উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, বি’ষয়টি জে’লা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক গবেষকদের সহযোগিতায় ঘটনার র’হস্য উন্মোচনের বি’ষয়ে চেষ্টা চলছে। কোনো দু’ষ্কৃতকারী এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকলে তার বি’রুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুত্রঃ কালের কণ্ঠ