দু’মুঠো ভাতের জন্য লড়াই

স্বাধীন নিউজ ২৪.কম
প্রকাশ : এপ্রিল 22, 2021 10:10:30 অপরাহ্ন
0
19
views

মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বেড়েছে। সংক্রমণরোধে লকডাউনে বরগুনার বেতাগীতে হতাশায় খেটে খাওয়া মানুষরা। কাজ না পেয়ে তাদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। মহামারী করোনাভাইরাসে সারা দেশের ন্যায় বেতাগীতেও ১৪ এপ্রিল থেকে ৮ দিনের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরুর পর গত কয়েক দিন বাসা থেকে অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হননি।

কিন্তু উপজেলার পূর্ব বেতাগী গ্রামের ভ্যানচালক মো. শাহাজাহান (৫০)‘র মতো দৈনিক শ্রম বিক্রি করা নানা পেশার অর্ধশত মানুষ ঠিকই প্রতি সকালে স্থানীয় খাসকাচারি মাঠে জড়ো হচ্ছেন। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা না থাকা ও মানুষের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড স্থবির থাকায় তাদের ক্রেতা মিলছে না। ফলে এসব সাধারণ দিনমজুর মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

পৌর শহরের বাসাবাড়ি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি সরবরাহকারী ৫০ বছর বয়সী আলেয়া বেগম ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্ত লকডাউনে সবকিছু বন্ধ থাকায় খুবই খারাপ অবস্থায় আছেন তিনি।

গত ৩০ বছর ধরে হাতুড়ি-বাটালসহ নানা যন্ত্রপাতির বাক্স নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সেবা দিয়ে আসছেন উত্তর বেতাগী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মো. খলিলুর রহমান। বর্তমানে ৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন পার করছেন।

শুধু এরাই নয়, বেতাগী পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের ভ্যানচালক লিটন হাওলাদার, ৩নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুস ছালাম (৪০), উত্তর হোসনাবাদের দেলোয়ার মোল্লাসহ আনোয়ার হোসেন (৪৫), মো. বাবুল, আব্দুল মতি, মো. সুমন (৩৫) সহ অনেকেই ভ্যান নিয়ে সকালে বের হয়ে শ্রম বিক্রি করতে না পেরে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন হতাশা আর চরম ক্ষোভ নিয়ে। খালি হাতে লজ্জায় স্ত্রী সন্তানদের কাছে মুখ লুকাতে হয়।

সকালে সূর্য ওঠার সাথে সাথে শ্রম বিক্রির কাজে সেখানে রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি আর রঙ মিস্ত্রিসহ নানা পেশার শ্রমিক হাতুড়ি, বাটাল, কাস্তে, কোদাল, খন্তা নিয়ে দেখা মিলত কিন্তু চলমান করোনা মহামারিতে সেই শ্রমিকদের মাঝে এখন হতাশা। করোনাকালে কাজ নেই, তাদের শ্রম কেনার ক্রেতাও নেই।

উপজেলার উত্তর বেতাগী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মো. খলিলুর রহমান সরদার ৩০ বছর ধরে এই হাঁটে তিনি শ্রম বিক্রি করেন। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো মহাজনের বাসায় কাঠমিস্ত্রি খুচরা কাজে যেতেন। কিন্তু করোনা শুরু হওয়ার পর বছর খানেক ধরে তাদের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ছে। কারও কাছে হাত না পেতে কাজ করে খেতে চাইলেও তা পাচ্ছেন না। করোনা আর চলমান লকডাউনের মধ্যে বিপদেই আছেন। এর পরেও তার কপালে কোনো সহায়তা জুটছে না।